ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৪ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২০, ১২:৩১

প্রিন্ট

পঙ্গপাল মারতে যা করছে ভারত

পঙ্গপাল মারতে যা করছে ভারত
কলকাতা প্রতিনিধি

পঙ্গপাল মারতে এবার জলকামানের ব্যাবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এজন্য ৮৯ টি দমকলের ইঞ্জিনের মাধ্যমে স্প্রেসহ বিশাল পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে ভারতের কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষিকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে।

পঙ্গপালের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, দমকলের ৮৯ টি ইঞ্জিন থেকে কীটনাশক স্প্রে করার পাশাপাশি একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১২০ টি সার্ভে যান মোতায়েন করা হয়েছে। এই গাড়িগুলি পঙ্গপালের গতিবিধির উপর নজর চালাবে এবং তাদের গতিপথ সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাবে।

দমকলের গাড়ি ছাড়াও সাধারণ ৪৭ টি গাড়ি থেকেও কীটনাশক স্প্রে করা হবে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এছাড়া একইভাবে কীটনাশক স্প্রে করার জন্য আরও ৮১০ টি ট্রাক্টর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সবমিলিয়ে স্প্রে যানের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। প্রয়োজন অনুযায়ী সেই সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

ভারতে করোনা আতংকের মধ্যে নতুন বিপদ হিসাবে হাজির হয়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল। নতুন এই বিপদে মহা চিন্তায় পড়েছেন উত্তর ভারতের চাষীরা। পঙ্গপালের আশঙ্কায় ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই হিমাচল প্রদেশের মোট ১২ টি জেলার চারটি জেলাতেই হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এই চারটি জেলার মধ্যে রয়েছে কাংরা, উনা, বিলাসপুর এবং সোলান।

হিমাচল প্রদেশের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা আর কে কুন্ডাল জানান, মরুভূমির পঙ্গপালের একটি বিশাল ঝাঁক হিমাচল প্রদেশের প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে হানা দিয়ে ফসল ধ্বংস করে দিচ্ছে। পঙ্গপালের দিকে অবিরাম নজরদারি রাখতে ও জরুরি পরিস্থিতির জন্য মাঠের কর্মীদের এবং কৃষকদের সতর্ক করা হয়েছে।

এই মরু পঙ্গপালেরা বাতাসের উপর নির্ভর করে প্রতি ঘন্টায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার বেগে বাতাসের সঙ্গে উড়ে যায়। এক্ষেত্রে হাওয়ার উপর তাদের গতিবেগ নির্ভর করে।

ইতিমধ্যেই ভারতের রাজস্থান রাজ্যের ৩৩ টি জেলার মধ্যে ১৬ টি জেলাই পঙ্গপালের কবলে পড়েছে। ফলে শস্য উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশেও হানা দিয়েছে পঙ্গপাল। পঙ্গপাল তাড়াতে ড্রাম ও থালাবাটি বাজানোর কথা বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে পঙ্গপালের সতর্কবার্তায় উত্তরপ্রদেশের ১০ জেলায় অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পঙ্গপালের দলকে যদি আটকানো না যায়, তাহলে ভারতের শস্য ভাণ্ডারে টান পড়তে পারে। পঙ্গপালের দলটি সংখ্যায় বেশি হয়ে হামলা করায় এরা কোনও বড়ো শস্য খেতকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে ফাঁকা করে দিতে পারে।

এদিকে এবারে পঙ্গপালের হানার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে রাজধানী দিল্লিতেও। উত্তরপ্রদেশ থেকে পঙ্গপালের ঝাঁক দিল্লিতে হানা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। দিল্লি সরকার ইতিমধ্যেই, প্রশাসনকে কীটনাশক স্প্রে এবং পতঙ্গনাশক রাসায়নিক ফসল, সবজি উদ্যান ও ফলের বাগানে ছড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতে মরুভূমি পঙ্গপালের ঝাঁক রাজস্থানে ঢুকে ফসল ধ্বংস করে দিয়েছে এবং পাঞ্জাব, গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশেও একই দশা করেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভারতে চার ধরনের পঙ্গপাল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরা হলো - মরুভূমি পঙ্গপাল, মিগ্রাটরি পঙ্গপাল, বম্বে পঙ্গপাল এবং গাছের পঙ্গপাল। এদের মধ্যে সবথেকে ধ্বংসাত্মক পঙ্গপাল হলো মরুভূমি পঙ্গপাল। এই পঙ্গপালের ঝাঁক দিনে উড়ে বেড়ায় এবং রাতে বিশ্রাম নেয়।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত