ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ১৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২০, ১৫:১৩

প্রিন্ট

ফ্লয়েড হত্যার ভয়াবহ ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড

ফ্লয়েড হত্যার ভয়াবহ ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড
অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নির্যাতনে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মাথায় প্রকাশিত ময়নাতদন্ত থেকে জানা গেছে, এটি কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (২৫ মে) মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যায়।

শহরের এক খাবারের দোকানের কর্মচারী ৯১১ নাম্বারে কল করে অভিযোগ করেন, এক ক্রেতা সিগারেট কেনার পর তাকে ২০ ডলারের জাল নোট দিয়েছে। ওই অভিযোগ পাওয়র পর ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েডকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়ি আসার ৭২ মিনিট পর রাস্তায় তিন পুলিশের নিচে চাপা পড়ে থাকা ফ্লয়েড সজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়েছিলেন। তার মধ্যে প্রাণের কোনো সাড়া ছিল না।

পথচারীদের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এবং দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ওই সময়ের ঘটনাগুলো জোড়া দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

তাদের ভিডিও দেখিয়েছে, ঘটনার শুরু থেকে পুলিশ কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে যেসব আচরণ করেছেন, তাতে মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে এবং এর পরিণতি হয়েছে মারাত্মক।

পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনের হাঁটুর নিচে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক কাকুতি-মিনতি করেছিলেন ফ্লয়েড। আশপাশের লোকজন তাকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করলেও এতে ওই পুলিশের মন গলেনি।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর পরদিন মঙ্গলবার ওই ঘটনায় জড়িত চার পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে পুলিশ বিভাগ। এরও দুইদিন পর শুক্রবার পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

এ সংক্রান্ত একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, এই শভিনই ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু তুলে দিয়ে তাকে রাস্তার সঙ্গে চেপে ধরে দাঁড়িয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্বেতাঙ্গ ওই পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড ধরে চেপে রেখেছিলেন। ফ্লয়েড জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পরও শভিন তার হাঁটু সরাননি। চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসার পরও পুরো এক মিনিট ধরে ফ্লয়েডের ঘাড় চেপে ধরে রেখেছিলেন তিনি।

ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তা। ইতিমধ্যে তাদেরও বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃত ওই পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন-টমাস লেইন, জে. আলেকজান্ডার কুয়ং ও টু থাও।

এদিকে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভ দমনে সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারফিউ বলবৎ করা হয়েছে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ বিভিন্ন শহরে। তবে কারফিউ লঙ্ঘণ করেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ চলছে।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত