ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২০, ১৮:১০

প্রিন্ট

মানুষ খুন করে লাশ ফেলতো কুমির ভরা খালে

মানুষ খুন করে লাশ ফেলতো কুমির ভরা খালে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

একের পর এক মানুষ খুন করে লাশ ফেলে দিতো কুমির ভরা খালে। যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে। এভাবেই দিব্যি চলছিলো দেভিন্দার শর্মার দিন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

দিল্লি পুলিশ দাবি করছে যে, তারা এমন এক সিরিয়াল কিলারকে গ্রেপ্তার করেছে, যে অন্তত ৫০টা খুন করার স্বীকার করেছে। অপহরণ করে খুন করার পরে একটি খালে মৃতদেহগুলো ফেলে দিতো। যাতে কুমির সেগুলো খেয়ে ফেলে।

আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ৬২ বছর বয়সী দেভেন্দার শর্মাকে মঙ্গলবার রাতে দিল্লির উপকন্ঠে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানাচ্ছে।

জেরায় শর্মা জানিয়েছে এতগুলো খুন করেছে যে, ৫০ এর পরে আর হিসাব রাখেনি। খুন ছাড়াও কিডনি পাচার এবং আরও নানা জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলো ওই ব্যক্তি।

দিল্লির ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডেপুটি কমিশনার রাকেশ পাওয়েরিয়া বলছেন, আমাদের ধারণা একশোরও বেশি খুন করে থাকতে পারে এই ব্যক্তি। আমরা উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা আর দিল্লির পুরনো তথ্য খুঁজে বার করার চেষ্টা করছি। বেশ কয়েকটি খুন আর অপহরণ আর একশোরও বেশি কিডনি পাচারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে রাজস্থানে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ভোগ করছিলেন দেভিন্দার শর্মা।

ষোলো বছর কারাবাসের পরে জানুয়ারি মাসে তাকে ২০ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়েছিল এবং তারপর থেকেই সে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।প্যারোল ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্যই তাকে খুঁজছিল দিল্লি পুলিশ। তারা জানতে পারে যে প্রথমে সে দিল্লিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। তারপর বাপরোলায় চলে যায়। সেখানে এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়াকে বিয়ে করে জমি বাড়ির দালালি করছিলেন এবং দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসের একটি বাড়ি বিক্রি করার চেষ্টা করছিলো জয়পুরের এক ব্যবসায়ীর কাছে।

এইসব সূত্রই দিল্লি পুলিশের কাছে এসে পৌঁছয় আর তার বাসস্থানে তল্লাশী চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ডিসিপি ক্রাইম পাওয়েরিয়া জানিয়েছেন।

একজন চিকিৎসক থেকে সাংঘাতিক খুনি হয়ে ওঠার যে বিবরণ শর্মা জেরার সময়ে পুলিশকে দিয়েছে, তা খুবই অদ্ভুত।

বিহার থেকে ডাক্তারি পাশ করে সে রাজস্থান চলে যায় আশির দশকের মাঝামাঝি। নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় একটা রান্নার গ্যাসের এজেন্সি নিতে চেষ্টা করে। এর জন্য তার ১১ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেলেও সে ধোঁকা খায়। নেমে আসে আর্থিক অনটন।

তারপরেই ধীরে ধীরে তার অপরাধ জীবনের শুরু। সে জাল গ্যাস এজেন্সি খোলে উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে। আবার ওদিকে রাজস্থানে কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েন। ১২৫টি কিডনি সে পাচার করেছে, যার প্রতিটার জন্য ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পেতো। ২০০১ সালে জালিয়াতির জন্য ধরাও পড়ে উত্তরপ্রদেশে।

এর পরেই সেএকের পর এক খুন করতে শুরু করেন। খুন করার কায়দাটা ছিল অভিনব।

সে এবং সঙ্গীসাথীরা একটি গাড়ি ভাড়া করতেন উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে যাওয়ার জন্য। চালককে একটা নির্জন জায়গায় গিয়ে খুন করে কাশগঞ্জের হাজারা খালে ফেলে দেয়া হত বলে পুলিশ জেরা থেকে জেনেছে। ওই খালটিতে প্রচুর কুমির রয়েছে। মৃতদেহ সেগুলোই খেয়ে ফেলত। তাই দেহ আর খুঁজে পাওয়া যেত না। একই ভাবে রান্নার গ্যাস ভর্তি ট্রাকও ছিনতাই করে চালককে হত্যা করে মৃতদেহ ফেলে দেয়া হত ওই খালে। সূত্র: বিবিসি

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best