ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৬ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২০, ০২:৩৫

প্রিন্ট

টকশোর পর হৃদরোগে মৃত্যু, নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে বিতর্ক

টকশোর পর হৃদরোগে মৃত্যু, নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে বিতর্ক
জার্নাল ডেস্ক

ভারতে কংগ্রেস দলের জাতীয় মুখপাত্র রাজীব ত্যাগী একটি 'হাই-ভোল্টেজ' টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নেওয়ার পরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্যাঙ্গালোরে কদিন আগে যে সহিংসতা হয়ে গেছে, সেই বিষয়ের ওপরেই আজ-তক চ্যানেলে ওই বিতর্ক হচ্ছিলো । টেলিভিশনে সন্ধ্যেবেলায় যে টকশো অনুষ্ঠানগুলো হয়, তার ওপরে কোনওরকম নিয়ন্ত্রণ রাখা উচিত কী না, তা নিয়ে ভারতে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিজেপির মুখপাত্র এবং জাতীয় টেলিভিশনে অতি পরিচিত মুখ সম্বিৎ পাত্রের সঙ্গে মি. ত্যাগীর উচ্চস্বরে তর্ক হয়েছিলো। আজ-তক চ্যানেলে ওই বিতর্কের দুটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ শেয়ার করেছেন।

সেখানে দেখা গেছে সম্বিৎ পাত্র মি. ত্যাগীকে কিছুটা ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন এই বলে যে কপালে টিকা লাগালেই কেউ সাচ্চা হিন্দু হয়ে যায় না। মি. ত্যাগীর কপালে সেদিন একটা টিকা ছিল। বিতর্কটির আরেকটি অংশ যা সামাজিক মাধ্যমে অনেকে শেয়ার করছেন, সেখানে দৃশ্যতই অসুস্থ লাগছিল রাজীব ত্যাগীকে।

তার মৃত্যুর পরে সম্বিৎ পাত্র এবং টি ভি চ্যানেলটিকে দায়ী করে অনেকেই পোস্ট করেছেন। তবে কংগ্রেস নেতার মৃত্যুসংবাদ শুনে মি. পাত্র টুইট করেছেন, বিশ্বাস করতে পারছি না যে কংগ্রেস মুখপাত্র, আমার বন্ধু রাজীব ত্যাগী আর আমাদের মধ্যে নেই। আজ বিকেল ৫টার সময়েও আমরা আজ-তক চ্যানেলে একটা বিতর্কে একসঙ্গে ছিলাম। জীবন এতটাই অনিশ্চিত।

বেশিরভাগ সংবাদ চ্যানেলেই সন্ধ্যেবেলার প্রাইম টাইমে বিতর্কসভা বা টকশোয়ের আয়োজন থাকে আর সেসব বিতর্কে মূলত রাজনীতির বিষয় নিয়েই চর্চা হয়।

এ প্রসঙ্গে কলকাতার টি ভি চ্যানেলগুলিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসাবে পরিচিত মুখ অধ্যাপক বিমল শঙ্কর নন্দ বলেন, রাজনীতিই বেশিরভাগ দিন বিতর্কের বিষয় থাকে, কারণ হাতে গরম রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে তর্ক বিতর্ক দেখতে চায় মানুষ। তাই চ্যানেলগুলোও সেভাবেই তাদের বিতর্কের বিষয় সাজায়।

তিনি আরও বলেন, কোনও কোনও চ্যানেলে একই বিষয়ের ওপরে কথা বলার জন্য ১০-১২ জন পর্যন্তও অতিথিকে নিয়ে আসে। খুব তাড়াতাড়িই সবাই তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন - একসঙ্গে প্রত্যেকেই কথা বলতে চেষ্টা করেন এবং নিজের মতামতটা চাপিয়ে দিয়ে জেতার চেষ্টা করতে থাকেন। ফলত চিৎকার ছাড়াকিছুই শোনা যায় না।

অধ্যাপক নন্দর বলেন, সাধারণ মানুষও বোধহয় এরকমটাই দেখতে চায়। সেজন্য যে চ্যানেলে যত বেশি তর্কবিতর্ক-চেঁচামেচি, তার টি আর পি ততই বেশি।

তিনি বলেন, সমস্যাটা হয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হয়ে যারা আসেন, মূলত তাদের নিয়ে। এখন তো টি ভিতে মুখ দেখাতে পারলেই নেতা হওয়া যায় সহজে। তাই দল যখন একজনকে পাঠাচ্ছে টি ভি বিতর্কে, নেতাদের সবসময়ে চেষ্টা থাকে বিপক্ষের চিৎকারের ওপরে আমাকে গলা চড়িয়ে কথা বলতে হবে। যদি জিততে না পারি তাহলে দল হয়তো আমাকে এরপর আর টি ভি টকশোয়ে পাঠাবে না। যেন চিৎকার করাটাই নিজের দল বা নিজের মতামতকে সেরা বলে প্রমাণ করার একটা মাত্র উপায়।

বাংলাদেশ জার্নাল/ এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত