ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ৭ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৩৯ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৮:৫৮

প্রিন্ট

পশ্চিমবঙ্গে ভোট ২৭ মার্চ, ফল ২ মে

পশ্চিমবঙ্গে ভোট ২৭ মার্চ, ফল ২ মে
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা। ছবি প্রতীকী

ময়ুখ বসু, কলকাতা

বাংলাদেশের লাগোয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ রাজ্যে বেজে গেছে একুশের বিধানসভা ভোটের দামামা। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৭ মার্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন শুরু হবে। মোট আট দফায় এ রাজ্যের ২৯৪ আসনে ভোট হবে। আর ফলাফল ঘোষণা করা হবে ২ মে।

শুক্রবার বিকেলে ভারতের কেন্দ্রীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা এই তফসিল ঘোষণা করেন।

একই দিন আরো চারটি রাজ্যে ভোটের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরিতে ভোট হবে এক দফায় ৬ এপ্রিল। একই দিন কেরালা ও তামিলনাড়ুতে ভোট হবে। আসামে ভোট হবে তিন দফায়, শুরু ৬ এপ্রিল থেকে।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ভোট ২৭ মার্চ (৩০ আসন), দ্বিতীয় দফায় ভোট ১ এপ্রিল (৩০ আসন), তৃতীয় দফায় ভোট ৬ এপ্রিল (৩১ আসন), চতুর্থ দফায় ভোট ১০ এপ্রিল (৪৪ আসন), পঞ্চম দফায় ভোট ১৭ এপ্রিল (৪৫ আসন), ষষ্ঠ দফায় ভোট ২২ এপ্রিল (৪৩ আসন), সপ্তম দফায় ভোট ২৬ এপ্রিল (৩৬ আসন) ও অষ্টম দফায় ভোট ২৯ এপ্রিল (৩৫ আসন)।

পশ্চিমবাংলায় এবারের ভোটে দুইজন বিশেষ পর্যবেক্ষকের ব্যবস্থা রেখেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়াও আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখার জন্য থাকবেন একজন আয়-ব্যয় পর্যবেক্ষক।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রার্থীর পক্ষে পাঁচজনের বেশি নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচটি গাড়ি যেতে পারবে। এছাড়া মনোনয়ন জমা দেয়া যাবে অনলাইনেও। আর সশরীরে মনোনয়ন জমা দিতে গেলে সেক্ষেত্রে প্রার্থীর সঙ্গে দু’জন যেতে পারবেন।প্রার্থীর ক্ষেত্রে ফৌজদারী মামলায় যারা অভিযুক্ত তাদের বিজ্ঞাপন দিয়ে জানাতে হবে। সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

পশ্চিমবঙ্গ একুশের নির্বাচন হবে ২৯৪টি আসনে। এর মধ্যে আসামে ১২৬টি আসন। কেরালায় ১৪০ আসন, তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি আসন এবং পুদুচেরিতে ৩০টি আসনে ভোট হবে। সব মিলিয়ে মোট ৮২৪ আসনে নির্বাচন হবে।

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা জানিয়েছেন, মোট ২ লাখ ৭০ হাজার ভোটকেন্দ্র থাকবে। যার মধ্যে এবারে পশ্চিমবঙ্গে ৩১ শতাংশ ভোটকেন্দ্র বাড়ানো হয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৯১৬টি। করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই করা হবে নির্বাচন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্র থাকবে সিসিটিভির নজরদারিতে।

পশ্চিমবঙ্গে দুই মেয়াদে ক্ষমতায় আছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এবার কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকা বিজেপি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এই রাজ্যটিকে। কেন্দ্রীয় নেতারা নিয়মিত আসছেন পশ্চিমবঙ্গে। তারা যেকোনো মূল্যে রাজ্যটি দখলে নিতে চায়। এবারের নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেস ও বাম জোটও ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটের মাঠে নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখার প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সবচেয়ে যাতায়াত ও আদান-প্রদান বেশি পশ্চিমবঙ্গের। তাছাড়া ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে রয়েছে বিশেষ মিল। এই রাজ্যের রাজনীতিতে বাংলাদেশ ইস্যু বরাবরই একটি ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। এজন্য বাংলাদেশের কাছেও এই রাজ্যের নির্বাচনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

আরো পড়ুন

মমতা সরকারকে ফেলে দেয়ার হুমকি অমিত শাহের

নির্বাচনে তৃণমূলের একটা গুন্ডাও থাকবে না: অমিত শাহ

মাঝ সমুদ্রে ঝাঁপ রাহুল গান্ধীর!

একুশের ভোটে নতুন রণকৌশলে তৃণমূল

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত