ভোট দিতে পারেননি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য
ময়ুখ বসু, কলকাতা
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২১, ১৭:৩৪
এবার নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারলেন না ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য। চিকিৎসকেরা তাকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। যে কারণে এইবার প্রথম ভোট দিতে যেতে পারছেন না তিনি। এদিন সারাদিন তিনি পাম অ্যাভিনিউয়ের ঘরেই ছিলেন বলে জানা গেছে। দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ কেন্দ্রের ভোটার তিনি। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কারণে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন না তিনি।
|আরো খবর
বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য। কিছুদিন আগেই প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে বেলভিউ ক্লিনিকে ভর্তি ছিলেন তিনি। যদিও করোনা সংক্রমিত হননি। সেখানে বেশ কয়েকদিন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকার পর তাকে পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বুদ্ধদেবের পরিবার সূত্র জানিয়েছে, একাধিক শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রীর। যে কারণে প্রায় ঘরবন্দিই হয়ে রয়েছেন তিনি।
চোখের সমস্যার কারণে রোদের আলো সহ্য করতে পারেন না তিনি। দিনের আলোয় বাইরে বেরোতে পারেন না। রাজ্যে একুশে ভোটের দামামা বাজতেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যবাসীকে ভোটবার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, একুশের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এক অডিও বার্তায় তিনি জানান, সব রকম সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে গিয়ে সুষ্ঠ গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের ভোট দিন।
উল্লেখ্য, বুদ্ধদেববাবু যাতে ভোট দিতে পারেন সেজন্য আগেই নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছিল পার্টি। কমিশনের কাছে দলের পক্ষ থেকে পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে গিয়ে ভোটগ্রহণের আবেদন করা হয়। কিন্ত বুদ্ধদেববাবু বয়স যেহেতু আশির নীচে তাই ভোটগ্রহণ করতে অস্বীকার করে কমিশন। তখনই সিদ্ধান্ত হয়, শরীর ভালো থাকলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের অধিকার প্রয়োগ করবেন তিনি।
কিন্ত যতো দিন যাচ্ছে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি ততোই অবনতি হচ্ছে। তাই সবদিক বিবেচনা করে বুদ্ধবাবুকে চিকিৎসকেরা ভোট দিতে যেতে বারণ করেছেন। বালিগঞ্জ কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম নিজেও চান না বুদ্ধবাবু ভোট দিতে বুথে যান।
তিনি বলেন, পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে বলতে পারবেন। করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আমি ব্যাক্তিগতভাবে চাই না উনি বাড়ির বাইরে বেরোন। তার সঙ্গে একমত সিপিএমের মূল কার্যালয় আলিমুদ্দিনের সিংহভাগ নেতৃত্বরা।
বাংলাদেশ জার্নাল/নকি











