ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ৫ মিনিট আগে

ইসরায়েলের ক্ষমতায় নাফটালি বেনেট, ফিলিস্তিন নিয়ে যা ভাবছেন

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২১, ১৭:১২

ইসরায়েলের ক্ষমতায় নাফটালি বেনেট, ফিলিস্তিন নিয়ে যা ভাবছেন

জার্নাল ডেস্ক

দীর্ঘ ১২ বছর পর রোববার ইসরায়েলে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলো। বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারিয়েছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন আরেক কট্টর ইহুদি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক নাফটালি বেনেট।

ডান-বাম এবং মধ্যপন্থী সাতটি দলের সমন্বয়ে গঠিত নতুন একটি কোয়ালিশন সরকার রোববার বিকালে ৬০-৫৯ ভোটে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ক্নেসেটের অনুমোদন পেয়েছে। প্রায় চার ঘন্টা ধরে এ অধিবেশন চলে। খবর বিবিসির।

কোয়ালিশন শরীকদের মধ্যে শুক্রবার সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী আগামী দুই বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের অগাস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কট্টর জাতীয়তাবাদী দল ইয়ামিনার নেতা নাফটালি বেনেট। তারপর তাকে ক্ষমতা তুলে দিতে হবে মধ্যপন্থী রাজনীতিক ইয়ার লাপিডের হাতে, যিনি নতুন এই কোয়ালিশন তৈরির মূল হোতা ছিলেন।

বেনেট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবার পরপরই মার্কিন জো বাইডেন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। নেতানিয়াহু এখন হবেন বিরোধীদলীয় নেতা। ইসরায়েলের ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর এখন দুটো প্রশ্ন সামনে চলে আসছে - নানা মত ও পথের সমন্বয়ে এই কোয়ালিশন আদৌ কতদিন টিকবে, এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি সংকট নিয়ে নতুন এই সরকারের অবস্থান কী হবে?

নাফটালি বেনেটের রাজনৈতিক আদর্শ, তার বিশ্বাস, ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে তার অতীতের বক্তব্য-বিবৃতি বিবেচনা করলে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আশাবাদী হওয়ার কোনো কারণ আপাতদৃষ্টিতে নেই।

৪৯ বছরের নাফটালি বেনেট একসময় মি. নেতানিয়াহুর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০০৬ সাল থেকে দু'বছর তিনি মি নেতানিয়াহুর চিফ অব স্টাফ হিসাবে কাজ করেছেন। ২০০৮ সালে অবশ্য তার সাথে নেতানিয়াহুর মনোমালিন্য তৈরি হয় এবং লিকুদ পার্টি থেকে বেরিয়ে তিনি কট্টর ইহুদি দল 'জিউয়িশ হোম' পার্টিতে যোগ দেন এবং ২০১৩ সালে প্রথম এমপি হিসাবে নির্বাচিত হন।

কট্টর ডানপন্থী আদর্শ নিয়ে তার কোনো রাখঢাক নেই। বিভিন্ন সময় বড়াই করে তিনি বলেছেন মি. নেতানিয়াহুর চেয়েও তিনি বেশি ডানপন্থী। অতি ধার্মিক ইহুদিদের মত অধিকাংশ সময়ে মাথায় কিপা (এক ধরণের টুপি) পরে থাকেন। উদারপন্থী ইহুদিদের সুযোগ পেলেই উপহাস করেন। বলতে গেলে বেনেট ইহুদি জাতীয়তাবাদ এবং জাত্যভিমানের এক প্রতীক।

অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং সিরিয়ার কাছ থেকে দখল করা গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের স্থায়ী কর্তৃত্ব এবং সার্বভৌমত্ব কায়েমের পক্ষে তিনি। কট্টর ইহুদিদের মত তিনি বিশ্বাস করেন, ঐতিহাসিকভাবে এসব এলাকা ইসরায়েলের এবং সে কারণে পশ্চিম তীরকে তিনি সবসময় হিব্রু বাইবেলে বর্ণিত ‘জুদেয়া-সামারিয়া‘ নামে অভিহিত করেন।

পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের কট্টর সমর্থক তিনি। একসময় তিনি ইহুদি বসতি-স্থাপনকারীদের সংগঠন ইয়েশা কাউন্সিলের প্রধান ছিলেন। তাকে মানুষ চেনে ‘বসতি-স্থাপনকারীদের নেতা‘ হিসাবে। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ঘোর বিরোধী তিনি। বিভিন্ন সময় তিনি ফিলিস্তিন সমস্যাকে তিনি ইসরায়েলের ‘পশ্চৎদেশের ওপর বিষফোঁড়া‘ বলে বর্ণনা করেছেন।

ফেব্রুয়ারি মাসে টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে নাফটালি বেনেট বলেছিলেন, ‘যতক্ষণ আমার হাতে কোনো ক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণ থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েলের এক সেন্টিমিটার জমি আমি ছাড়বো না।’

এমনকি ইসরায়েলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান না থাকলেও ফিলিস্তিনি উগ্রবাদীদের ধরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পক্ষপাতী তিনি।

যে সাতটি দলের কোয়ালিশনে শরিক হিসাবে প্রধানমন্ত্রী হলেন মি. বেনেট সেখানে ইসলামপন্থী একটি আরব দল ছাড়াও মেরেতজের মত বামপন্থী দল রয়েছে যারা পশ্চিম তীরে ইহুদি দখলদারিত্বে ঘোর-বিরোধী। কীভাবে নাফটালি বেনেটের মত একজন কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিক এমন শরীকদের সাথে হাত মেলালেন তা নিয়ে বিস্ময় এখনো কাটেনি। তার দলের ভেতরেও এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তার বহু সমর্থক ক্ষুব্ধ।

তবে, পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি এবং ফিলিস্তিনিদের সাথে আলোচনা শুরুর মত স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নতুন সরকার এখন এড়িয়ে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল- ওআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত