ঢাকা, রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : ২ মিনিট আগে

পেগাসাস স্পাইওয়্যার: স্বরূপ, আরোপ ও দোষারোপ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২১, ১৯:০৫  
আপডেট :
 ২৪ জুলাই ২০২১, ১৯:২১

পেগাসাস স্পাইওয়্যার: স্বরূপ,  আরোপ ও দোষারোপ
প্রতীকী ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিতর্কের শেষ নেই। এ বিতর্কের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে দেশে দেশে। এক দেশে অবস্থান করে অন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মোবাইলে এর ব্যবহার নিয়ে পাল্টাপাল্টি দোষারোপও থেমে নেই। আবার নিজ দেশের অভ্যন্তরেও রয়েছে দোষারোপের রাজনীতি। ভারতে বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলছেন, তার মোবাইলে ‘নিশ্চিতভাবে’ এ স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে।

পেগাসাস এমন একটি স্পাইওয়্যার যা কোনো মোবাইল থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। ইসরায়েলের সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানী এনএসও এটি তৈরি করেছে। শনিবার এনডিটিভি জানায়, এনএসও দাবি করেছে তারা গ্রাহকদের কোনো তথ্য সংগ্রহ করে না। তারা বলছে, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে এ স্পাইওয়্যার থাকার কারণে লাখ লাখ মানুষ শান্তিতে রাতে ঘুমোতে যেতে পারেন; দিনে রাস্তায় নিরাপদে হাঁটতে পারেন।

অবশ্য পেগাসাসের স্বরূপ উন্মোচিত হওয়ার পর এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুলকালাম কাণ্ডও কম হচ্ছে না। এক খবরে প্রকাশিত হয় যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মোবাইলে ভারত থেকে এ স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছিল। এর জেরে জাতিসংঘের তদন্ত চেয়েছে পাকিস্তান। এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতকে দোষারোপ করে বলেছে, ভারত ‘রাষ্ট্রিয় সহায়তায় ক্রমাগত নজরদারি ও গোয়েন্দাগিরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা দায়িত্বশীল দেশ হওয়ার বৈশ্বিক শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’ শনিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানায়।

তবে পেগাসাস নিয়ে খোদ ভারতই সমস্যায় জর্জরিত। ভারতে অনেকে দাবি করেছেন, তাদের মোবাইলে নজরদারি করা হয়েছে। বিশেষ করে, ভারতে বিরোধী দলীয় নেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছেন, পেগাসাস স্পাইওয়্যার দিয়ে তার মোবাইল থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। ট্রিবিউন ইন্ডিয়া জানায়, শুক্রবার ভারতীয় পার্লামেন্ট ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাহুল গান্ধী তার ফোনে প্যাগাসাস ব্যবহার করা হয়েছে বলে জোর দাবি করেন। এ সময় তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগও দাবি করেন।

পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে ফোন থেকে তথ্য চুরি করা হচ্ছে - এমন খবর বের হওয়ার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ তার মোবাইল ফোনটি পাল্টিয়েছেন। ফোনটি তিনি প্রায় ৪ বছর ধরে ব্যবহার করে আসছিলেন। ম্যাঁক্রো নিজের নিরাপত্তাও জোরদার করেছেন।

গত সপ্তাহে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পেগাসাস নামে ইসরায়েলি একটি স্পাই সফটওয়্যার গোপনে মোবাইল ফোনে ঢুকিয়ে কীভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্র নজরদারি করছে - তা নিয়ে আন্তর্জাতিক এক অনুসন্ধানে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে।

বিশ্বের প্রথম সারির ১৭টি মিডিয়া ও প্যারিসভিত্তিক একটি এনজিও এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য সম্বলিত সর্বশেষ প্রকাশিত রিপোর্টগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের তিনজন প্রেসিডেন্ট, ১০ জন প্রধানমন্ত্রী এবং একজন রাজাকে ইসরায়েলি এ স্পাইওয়্যার দিয়ে টার্গেট করা হয়েছে।

তবে ১৪ জনের কেউই তাদের মোবাইল ফোন সেট অনুসন্ধানকারী সাংবাদিকদের বা তাদের সহযোগী বিশেষজ্ঞদের হাতে তুলে দেননি। ফলে, পেগাসাস স্পাইওয়্যার তাদের মোবাইল ফোনে ঢোকানো সম্ভব হয়েছিল কিনা বা ঢোকানোর পর তা দিয়ে তাদের ওপর নজরদারি করা হয়েছিল কিনা - তার ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি।

কয়েক মাস ধরে চালানো এই অনুসন্ধানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ব্যবহার করা ৫০ হাজারেরও বেশি মোবাইল ফোন নম্বর পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী এবং এমনকি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারকও রয়েছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এবং তার সরকারের ফ্রান্সের ১৪ জন মন্ত্রীসহ কয়েকজন ডজন কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হয়েছে। যে ১৪ জন রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধান পেগাসাসের টার্গেট হয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট - ফ্রান্সের ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিল রামাফোসা এবং ইরাকের বারহাম সালিহ।

১০ জন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে তিনজন এখনও ক্ষমতায় - পাকিস্তানের ইমরান খান, মিশরের মোস্তাফা মাদবউলি এবং মরক্কোর সাদ-এদিন আল ওথমানি।

যে সাতজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই নজরদারির জন্য টার্গেট করা হয়, তারা হলেন - ফ্রান্সের এডওয়ার্ড ফিলিপে, বেলজিয়ামের চার্লস মিশেল, ইয়েমেনের ওবায়েদ বিন দাঘর, লেবাননের সাদ হারিরি, উগান্ডার রুহাকানা রুগুন্ডা, কাজাকস্তানের বাকিতজান সাগিনতায়েব এবং আলজেরিয়ার নুরুদিন বেদুই। টার্গেটে হয়েছেন একজন রাজাও - মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহামেদ।

যে মোবাইল ফোন নম্বরগুলো পরীক্ষা করে স্পর্শকাতর এই তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যে বর্তমান ও সাবেক এসব সরকার এবং রাষ্ট্রপ্রধানরা ব্যবহার করতেন তা সেসব দেশের ভেতরে থেকে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে এবং সরকারি নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে। পত্রিকাটি বলছে, তারা নিজেরাও কয়েকটি নম্বরে ফোন করে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করেছে।

বাংলাদেশ জার্নাল / টিটি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত