ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে
শিরোনাম

সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবানের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৪৯  
আপডেট :
 ১০ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২৫

সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবানের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: আল জাজিরা

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র তালেবানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছে। কাতারের রাজধানী দোহায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে তালেবান ও মার্কিন প্রতিনিধিরা দুই দেশের সম্পর্কের ‘নতুন অধ্যায় উন্মোচন’ করতে আলোচনা করেন।

আফগানিস্তানে কট্টরপন্থী গোষ্ঠিগুলোর প্রভাব, বিদেশি ও আফগানদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করার কথা রয়েছে। এ ছাড়াও নানা ইস্যু উঠে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শুক্রবার জানান, মার্কিন প্রতিনিধিদল রোববারও কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

আফগানিস্তান থেকে আগস্টের শেষদিকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এরইমধ্যে আগস্টের মাঝামাঝি দেশটির শাসনে চলে আসে তালেবানরা।

তালেবানরা কাবুল দখল করে নেয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তালেবানদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আসছে; তবে তাদের মধ্যে কোনো বৈঠক হয়নি। প্রথম এই মুখোমুখি বৈঠক হতে যাচ্ছে।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘নারী ও মেয়েসহ সব আফগানদের অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে আমরা তালেবানদের চাপ দেব এবং ব্যাপক সমর্থনসহ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করার ওপর জোর দেবো।’

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে এবং সম্ভাব্য মানবিক সংকটের মুখোমুখি। এ জন্য মানবিক সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় এলাকায় অবাধ প্রবেশের অনুমতি দিতে তালেবানদের চাপ দেবো।’

পররাষ্ট্র দপ্তর জোর দিয়ে বলেছে, এ বৈঠক এই ইঙ্গিত দিচ্ছে না যে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের স্বীকৃতি দিচ্ছে। মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করেছি যে, তালেবানদের কাজের মাধ্যমে যে কোন বৈধতা অর্জন করতে হবে।’

মার্কিন প্রতিনিধিদল আফগানিস্তানে ২০ বছরের সামরিক অভিযানকালে মার্কিন নাগরিক এবং আফগান মিত্রদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মূল অগ্রাধিকারের বিষয়টিতেও চাপ দেবে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তালেবানরা মার্কিন নাগরিকদের প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা দিয়েছে।

কাতারের রাজধানী দোহায় শনিবার তালেবান মুখপাত্র সুহেইল শাহীন বার্তাসংস্থা এপিকে বলেন, গতবছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে যে শান্তিচুক্তি করেছিল তালেবান- এ আলোচনায় সেটিও তুলে ধরা হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে করা ওই চুক্তির ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছিল।

বৈঠকের খবর নিশ্চিত করে সুহেইল শাহীন বলেন, ‘হ্যা, একটা বৈঠক হবে দ্বিপাক্ষীক সম্পর্ক ও দোহা চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে।’ আরও অনেক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।

দোহা থেকে আল জাজিরার নাতাশা গোনেইম জানান, তালেবানের পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোল্লা আমির খান মুত্তাকি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিক, ইউএসএইডের সদস্য ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবেন।

এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান আলোচনায় বসছে যখন আফগানিস্তানে আইএসের হুমকি বেড়েছে। অন্য অনেক বিষয়ে মতানৈক্য থাকলেও একটি বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মিল রয়েছে। সেটি হলো, আইএসকে হুমকি মনে করে দুই পক্ষই।

বাংলাদেশ জার্নাল / টিটি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত