শ্রীলঙ্কায় এ মুহূর্তে কোনো আইনশৃঙ্খলা নেই: নামাল রাজাপাকসে

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২২, ১৫:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নামাল রাজাপাকসে।

শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের ছেলে ও দেশটির সাবেক যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নামাল রাজাপাকসে বলেছেন, সহিংসতা কোনো সমাধান নয়। তিনি বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। দিল্লিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নামাল এ মন্তব্য করেন।

সহিংস বিক্ষোভ আর প্রাণহানীর ঘটনার পর বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান রনিল বিক্রমাসিংহে। ইতোমধ্যে সহিংসতায় উসকানি দেয়ার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, তার ছেলে নামালসহ আরও ১৫ জনের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকার শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের ছেলে নামাল রাজাপাকসে দাবি করেন, দুই পক্ষ থেকেই উসকানি ছিল। তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে (শ্রীলঙ্কায়) কোনো আইনশৃঙ্খলা নেই।’

এদিকে নজিরবিহীন এক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় গত সোমবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশকে তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে শ্রীলঙ্কার আদালত। এ হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শ্রীলঙ্কাজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এসব সহিংস ঘটনায় অন্তত নয়জনের প্রাণ গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাস্তায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে নামাল বলেন, ‘রাতারাতি এমন ঘটনা ঘটেনি। দুই পক্ষ থেকেই উসকানি ছিল। পুলিশকে এখন অবশ্যই দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।’

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, আগামী এক-দুই সপ্তাহে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে না পারলে দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। তার নিজেকেও পদত্যাগ করতে হবে।

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়া শ্রীলঙ্কায় মাসখানেকের বেশি সময় ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। গত সোমবার সরকার সমর্থকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ এবং দেশজুড়ে জ্বালাও-পোড়াওয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে। গণবিক্ষোভের মুখে রাজধানী কলম্বোর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে সেনা পাহারায় পালিয়ে একটি নৌঘাঁটিতে অবস্থান নেন তিনি। 

বিক্ষোভ দমনে শ্রীলঙ্কাজুড়ে কারফিউ জারির পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে গুলি চালানোর ক্ষমতা দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের গদি টেকাতে রনিল বিক্রমাসিংহেকে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর পদে বসিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া।

বাংলাদেশ জার্নাল/টিটি