ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : ১ মিনিট আগে

আল জাজিরার সাংবাদিকের শবযাত্রায় ইসরায়েলি পুলিশের লাঠিপেটা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২২, ১১:৪০

আল জাজিরার সাংবাদিকের শবযাত্রায় ইসরায়েলি পুলিশের লাঠিপেটা
ছবি, বিবিসি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলার শবযাত্রায় অংশ নেয়া মানুষজনের ওপর লাঠিপেটা করেছে ইসরায়েলি পুলিশ।

শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যারা সমবেত হয়েছিলেন, তাদের ওপর লাঠি নিয়ে হামলে পড়ে পুলিশ। সে সময় তার কফিনটি প্রায় মাটিতে পড়ে যাচ্ছিল। পুলিশ দাবি করেছে, তাদের ওপর ইট-পাটকেল ছোড়ার কারণে তারা ওই অভিযান চালিয়েছে।

বুধবার আবু আকলা গুলিতে নিহত হন। তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি বাহিনী পরস্পরকে দায়ী করছে। বিশ্বজুড়ে এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানো হয়েছে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতাল কম্পাউন্ডে শিরিন আল আকলার কফিন ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ আর ফিলিস্তিনিরা। এরপর পুলিশের লোকজন ভিড়ের মানুষজনকে হটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের সদস্যরা তাদের লাঠিপেটা করে এবং লাথি মারতে দেখা যায়।

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদদাতা টম বেটম্যান বলেন, সেই সময় তিনি সেন্ট জোসেফ হাসপাতালে কার পার্কে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শত শত ফিলিস্তিনি আবু আকলার কফিন ঘিরে মাতন করছিলেন।

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনি ক্রিশ্চিয়ান শিরিন আবু আকলার কফিনে শোকবার্তা ঝুলছিল, ফুলে সাজানো ছিল। অনেকই কাঁদছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে কম্পাউন্টের গেট আটকে দেয়া হয়। অন্য দিক থেকে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ইসরায়েলি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী আসে। তাদের কেউ কেউ ঘোড়ায় বসা ছিল।’

টম বেটম্যান বলেন, ‘হঠাৎ করে ইসরায়েলি পুলিশ শোকার্ত লোকজনকে ধাক্কা দিতে শুরু করে। কফিন যারা বহন করছিলেন, তাদেরও ধাক্কা দেয়া হয়। তারা শোকার্ত মানুষজন এবং সাংবাদিকদের ওপর শব্দ গ্রেনেড ছুড়ে মারে। পুরো ঘটনাটি প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলে।’

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যেভাবে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, তাদের তিনি খুবই অস্বস্তি বোধ করছেন। সেই সঙ্গে কিছু পুলিশের আচরণেও তিনি বিরক্ত।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকিও বলেছেন, শবযাত্রায় অংশ নেয়া মানুষের ওপর যেভাবে পুলিশ আঘাত করেছে, তা খুবই অস্বস্তিকর। তিনি বলেন, ‘যা একটি শান্তিপূর্ণ শবযাত্রা হওয়া উচিত ছিল, সেখানে এভাবে হস্তক্ষেপ করার আমরা নিন্দা জানাচ্ছি।’

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আর আল জাজিরা দাবি করেছে, আবু আকলা ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি করেছে, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তারা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে তিনি হয়তো ফিলিস্তিনিদের গুলিতে নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

একান্ন বছর বয়সী ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সাংবাদিক শিরিন আবু আকলা আল জাজিরা নিউজের জন্য একজন যুদ্ধ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করছিলেন। গত দুই দশক ধরে তিনি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন লড়াই নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের বাড়ির উঠোনে বৃহস্পতিবার তার শেষকৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে তার কফিন ফিলিস্তিনি পতাকায় মুড়িয়ে আনা হয়।

মাহমুদ আব্বাস তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, তার হত্যার জন্য ইসরায়েল পুরোপুরি দায়ী। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে তুলবেন। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত বলেছেন, কোন রকম ভিত্তি ছাড়াই ইসরায়েলকে দোষারোপ করছেন আব্বাস।

বুধবার জেনিন শরণার্থী শিবিরে কাজ করছিলেন শিরিন আবু আকলা। সে সময় সেখানে অভিযান চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, ‘সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের’ ধরতে তারা অভিযান চালিয়েছিল।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযানের সময় ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীরা সেনাদের দিকে গুলি চালায় এবং বোমা নিক্ষেপ করে। সেনারা তখন বন্দুকধারীদের দিকে গুলি চালায় এবং হামলার কিছু লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হয়।

কাতারভিত্তিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আল জাজিরা জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী ‘ঠাণ্ডা মাথায়’ এবং ‘ইচ্ছেকৃতভাবে’ ৫১ বছর বয়সী শিরিন আবু আকলাকে গুলি করেছে। একই ঘটনায় তার প্রযোজকও গুলিবিদ্ধ হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সাংবাদিকদের টার্গেট করে গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করেছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, গোলাগুলি চলার সময় ‘সম্ভবত’ ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের গুলি লেগেছিল এদের গায়ে।

এ ঘটনা এমন সময় ঘটলো যখন প্রায় দুই মাস ধরে চলা সহিংসতার পর ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে। ছুরিকাঘাত, গুলি, গাড়ি চাপা বা কুঠার হামলায় ১৭ জন ইসরায়েলি এবং দুইজন ইউক্রেনিয়ান নিহত হয়েছেন। একই সময় হামলার সময় গুলিতে অথবা ইসরায়েলি অভিযানে অনেক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/টিটি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত