ঢাকা, বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ৩ মিনিট আগে

ইউক্রেন যুদ্ধ: জার্মানিতে রেশনিং চালুর সতর্কতা জারি

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২২, ২১:৩৪

ইউক্রেন যুদ্ধ: জার্মানিতে রেশনিং চালুর সতর্কতা জারি
ছবি: বিবিসি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়া থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাবার পর জার্মানি এখন গ্যাস রেশন করার পথে হাঁটছে। জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, ঘাটতি মোকাবেলার জন্য দেশটিতে যে জরুরিকালীন গ্যাস পরিকল্পনা রয়েছে তা সক্রিয় করতে "সতর্ক সঙ্কেত" জারি করেছে দেশটি।

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়ার মধ্যে যে অচলাবস্থা চলছে তার সবশেষ পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে সঙ্কট।

জার্মানির অর্থ মন্ত্রী রবার্ট হাবেক বলেছেন ইইউর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাব দিতে রাশিয়া গ্যাসকে "অস্ত্র" হিসাবে ব্যবহার করছে।

মন্ত্রী রবার্ট হাবেক বলেন, আমাদের চোখ বন্ধ করে থাকার মানে হয় না। গ্যাস সরবরাহ কেটে দেয়াটা পরিষ্কার আমাদের ওপর পুতিনের হামলা । তিনি আরও বলেন যে জার্মানিকে এখন গ্যাসের ব্যবহার কমাতে হবে।

তিনি বলেন, স্পষ্টতই পুতিনের কৌশল হল একটা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা, মূল্য বৃদ্ধির দিকে ঠেলে দেয়া এবং সমাজে একটা বিভক্তি সৃষ্টি করা। আর আমরা এর বিরুদ্ধেই লড়াই করছি।

জার্মান মন্ত্রী হাবেক বলেছেন, তিনি আশা করছেন কখনই জার্মানির শিল্পখাতে গ্যাস রেশন করার প্রয়োজন দেখা দেবে না, তবে তিনি বলেছেন অবশ্যই এই সম্ভাবনা নাকচ করা যাচ্ছে না।

জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বা গ্যাসের চাহিদা খুব বেড়ে গেলে তা মোকাবেলার জন্য দেশটিতে তিন স্তরের একটি আপদকালীন পরিকল্পনা রয়েছে। জার্মানি এখন সেই পরিকল্পনার দ্বিতীয় স্তর কার্যকর করেছে।

গ্যাস মজুদ করার কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস ভর্তি করার প্রচেষ্টার জন্য জার্মান সরকার এখন ১৫ বিলিয়ন ইউরো (১৩ বিলিয়ন পাউন্ড) ঋণ দেবে।

জার্মানি এখন শিল্প খাতগুলোর কাছে গ্যাস নিলামে বিক্রি শুরু করবে যাতে বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কম গ্যাস ব্যবহার করতে উদ্যোগী হয়।

দেশটিতে এই পরিকল্পনার দ্বিতীয় স্তর কার্যকর হওয়ার অর্থ হল সরবরাহকারী এবং গ্যাস নেটওয়ার্কের সাথে জড়িতেদের ওপর চাপ বৃদ্ধি করা। এর লক্ষ্য হল সরবরাহে বিঘ্ন এড়ানোর জন্য ভারসাম্য বজায় রাখতে গ্যাসের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া।

তবে, এরপরেও জার্মানি এখনও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির বোঝা ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেবার পদক্ষেপ নেয়নি। যদিও পরিকল্পনার দ্বিতীয় স্তরে সেটা করার একটা সম্ভাবনাও রয়েছে।

জরুরিকালীন পরিকল্পনার প্রথম স্তরে গ্যাস কোম্পানিগুলোকে সরবরাহ চালু রাখার নিশ্চয়তা দিতে হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রতিদিন অন্তত একবার অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত রাখতে হয়েছে এবং বিদ্যুতের গ্রিড যারা পরিচালনা করে তাদের গ্রিডে বিদ্যুত স্থিতিশীল রাখার নিশ্চয়তা দিতে হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত