জোটের সঙ্গে ইতি টানলেন নীতীশ, বিজেপির মন্তব্য বিশ্বাসঘাতক

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২২, ২০:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে জোটের ইতি টানলেন বিহারের জনতা দল-ইউনাইটেডের (জেডিইউ) নেতা নিতীশ কুমার। মঙ্গলবার বিজেপির সঙ্গত্যাগের ঘোষণা দিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এবং এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে। 

এদিকে নিতীশের পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি সঞ্জয় জয়সওয়াল বলেন, জেডিইউ কম আসন পেলেও নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। তার পর আজ যা হল,তা বিহারের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

তিনি বলেন, আমরা দু’দল ২০২০-এর নির্বাচনে এনডিএর অংশ হিসেবে এক সঙ্গে ভোটে লড়েছিলাম। মানুষ এই জোটে ভরসা রেখে ঢেলে ভোট দিয়েছিলেন। জেডিইউ আমাদের চেয়ে কম আসন পাওয়া সত্ত্বেও নীতীশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করেছিলাম। তার পর আজ যা হল, তাকে বিহারের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কী বলা যায়!

নীতীশ কুমার মঙ্গলবার সকালে জেডিইউয়ের বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে একটি দীর্ঘ বৈঠক করেন। তার পর রাজ্যপাল ফাগু চৌহানের কাছে বিকেলে দেখা করার সময় চান। সেই আবেদন মঞ্জুর হয়। বিকেল ৪ টায় জেডিইউ এবং আরজেডি সমর্থকদের জয়ধ্বনির মধ্যে দিয়ে লালুপুত্রদের সঙ্গে নিয়ে তিনি রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জানান, মুখ্যমন্ত্রী পদ তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন। বিজেপি আর তার জোটসঙ্গী নয়। রাজভবন থেকে বেরিয়ে সে কথা জানিয়ে তিনি দাবি করেন, জেডিইউয়ের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে এনডিএ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

 বিকেলে রাজভবন থেকে বেরিয়ে নীতীশ বিভিন্ন অভিযোগ করেন। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছেন, নীতীশের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ভোটের সময় রামবিলাস পুত্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে। যা নিয়ে এত দিনেও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার সময় হয়নি বিজেপির। 

উল্লেখ্য, ২০২০-এর ভোটে জেডিইউ যে আসনগুলোতে লড়াই করেছিল সেই আসনগুলোয় চিরাগ বিদ্রোহী বিজেপি প্রার্থীদের নিজের দলের প্রতীকে দাঁড় করিয়েছিলেন। যা সেই সময় জেডিইউয়ের বাড়া ভাতে ছাই হয়েছিল বলে দাবি নীতীশের দলের অনেকেরই। সময়মতো বিজেপিকে বিহারের সরকার থেকে সরিয়ে সেই প্রতিশোধই কি নীতীশ তুললেন, জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএম