ঢাকা, বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ৮ মিনিট আগে

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার পারমাণবিক যুদ্ধে বিশ্বের অর্ধেক মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২২, ১৮:৩৪  
আপডেট :
 ১৬ আগস্ট ২০২২, ১৮:৪৯

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার পারমাণবিক যুদ্ধে বিশ্বের অর্ধেক মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা
প্রতিকী ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ব জুড়ে মৃত্যু হবে কমপক্ষে ৫০০ কোটি মানুষের। এছাড়া আরও একাধিক ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে মানবসভ্যতাকে। যুক্তরাষ্ট্রের রুটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি রিপোর্টে এমনই দাবি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আনন্দবাজার।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান যুদ্ধ শুরু করে রাশিয়া এবং সেই যুদ্ধ চলছেই। ঘটনাচক্রে, তাতে পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রও। এই প্রেক্ষিতে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেছে নিউ জার্সির রুটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়।

‘নেচার ফুড’নামে একটি বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় বিজ্ঞানীদের গবেষণা। এতে বলা হয়েছে, পরমাণবিক যুদ্ধের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যত জন মারা যেতে পারে, ওই যুদ্ধের কারণে হওয়া বৈশ্বিক দুর্ভিক্ষে সম্ভবত তার চেয়ে অনেক বেশি লোক মারা যাবে।

রুটগারস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য ছয়টি পারমাণবিক সংঘাতের ক্ষেত্রে কী কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তার একটি অনুমান চিত্র তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে তা হল, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুরোদস্তুর পারমাণবিক যুদ্ধ, এতে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ মারা যেতে পারে। এছাড়াও পরমাণু অস্ত্র বিস্ফোরিত হওয়ার পর সৃষ্ট অগ্নিঝড় থেকে বায়ুমন্ডলে কার্বন আস্তরণ পড়বে। যাতে আটকে যাবে সূর্যের কিরণ। যারফলে ভয়ঙ্কর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষি। এমনকি পুরোপুরি বদলে যেতে পারে কৃষি ব্যবস্থাই।

গবেষকরা ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফিয়ারিক রিসার্চের সমর্থনপুষ্ট একটি জলবায়ু পূর্বাভাসমূলক টুলও ব্যবহার করেছেন, যা তাদেরকে দেশ ধরে ধরে প্রধান প্রধান খাদ্যপণ্যের উৎপাদন কেমন হতে পারে সে বিষয়ক একটি ধারণাও দিয়েছে।

গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ছাড়াও, তুলনামূলক ছোট আকারের পারমাণবিক সংঘাতও বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষকদের মতে ভারত-পাকিস্তানের স্থানীয় পর্যায়ের ছোট আকারের পারমাণবিক যুদ্ধের কারণেও ৫ বছরের মধ্যে বৈশ্বিক ফসল উৎপাদন আনুমানিক ৭ শতাংশের মতো কমে যেতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া যুদ্ধে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ফসল উৎপাদন কমতে পারে ৯০ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিলে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, যে কোনও সময় পরমাণু যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। কিন্তু তা শুরু হলে যে কী ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে মানবসভ্যতার জন্য, তা খানিকটা হলেও স্পষ্ট হল গবেষণা রিপোর্টে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমআর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত