ঢাকা, সোমবার, ২৭ মার্চ ২০২৩, ১৩ চৈত্র ১৪২৯ আপডেট : ৩১ মিনিট আগে
শিরোনাম

করাচিতে পারভেজ মোশাররফের জানাজা সম্পন্ন

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৬:৫২  
আপডেট :
 ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৬:৫৬

করাচিতে পারভেজ মোশাররফের জানাজা সম্পন্ন
পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ। ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান ও সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফের জানাজার নামাজ মঙ্গলবার বিকেলে করাচির মালির সেনানিবাসের একটি মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাকে করাচির কালা পুলের কাছে একটি সেনা কবরস্থানে সমাহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন অল পাকিস্তান মুসলিম লীগের (এপিএমএল) মুখপাত্র তাহির হুসেন।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের আমেরিকান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পাকিস্তানের এই সাবেক প্রেসিডেন্ট। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। দীর্ঘদিন ধরে অ্যামাইলয়েডোসিসে ভুগছিলেন তিনি।

পারেভেজের পরিবারের বরাতে জিও নিউজ জানিয়েছে, ২০১৮ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকাকালীন মারাত্মক রোগ অ্যামাইলয়েডোসিস ধরা পড়েছিল তার।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, সাবেক সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া, আশফাক পারভেজ কায়ানি এবং আসলাম বেগ মোশাররফের জানাজায় অংশ নেন। এছাড়াও সিন্ধুর সাবেক গভর্নর ইমরান ইসমাইল, সাবেক ফেডারেল তথ্যমন্ত্রী জাভেদ জব্বার, সাবেক এফবিআর চেয়ারম্যান শাব্বির জাইদি এবং মোশাররফের ছেলে বিলসহ পাকিস্তানের বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতা ও রাজনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে সোমবার রাতে মোশাররফের মরদেহ নিয়ে দুবাই থেকে একটি বিশেষ বিমান করাচি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্লেন অবতরণের কয়েক ঘন্টা আগে, এমপি কর্মীরা, পাকিস্তান রেঞ্জার্সরা করাচি বিমানবন্দরের পুরানো টার্মিনাল ঘেরাও করে। সেনানিবাসের পথেও কড়া নিরাপত্তা দেখা গেছে।

মোশাররফ ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে ১১ আগস্ট, ১৯৪৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালের ১৯ এপ্রিল তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি কাকুল থেকে কমিশন পান। কমিশন পেয়ে সাবেক এই স্বৈরশাসক যোগ দেন স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপে। তিনি ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধেও অংশ নেন।

১৯৯৮ সালে জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এক বছর পর ১৯৯৯ সালে দেশটির একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন মোশাররফ। এরপর ২০০২ সালে একটি গণভোটের মাধ্যমে আবারও দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলেন। এরফলে পাকিস্তানের সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদী প্রেসিডেন্ট হন মোশাররফ।

রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে দেশজুড়ে আন্দোলনের পর ১৮ আগস্ট, ২০০৮ সালে মোশাররফ প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর চিকিৎসার জন্য ২০১৬ সালের মার্চ মাসে দুবাই চলে গিয়েছিলেন এবং তারপর থেকে আর ফিরে আসেননি।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলা এবং লাল মসজিদের ইমাম হত্যা মামলায় তাকে পলাতক ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে উচ্চ রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং সংবিধান স্থগিত করার জন্য ২০১৯ সালে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। যদিও পরে তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমআর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত