ঢাকা, সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬ অাপডেট : ৩৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:১৩

প্রিন্ট

কুমিরের শোকে কাঁদলো গোটা গ্রাম

কুমিরের শোকে কাঁদলো গোটা গ্রাম
চলছে কুমিরের শেষকৃত্যের আয়োজন
অনলাইন ডেস্ক

‘কুমিরের কান্না’ বাগধারা তো অনেকেই শুনেছেন বা পড়েছেন। কিন্তু কুমিরের মৃত্যু শোকে কাউকে কাঁদতে দেখার ঘটনা নিশ্চয়ই শোনেননি। শোনেন আর নাই শোনেন, কুমিরের মৃত্যুতে চোখের জল ঝরিয়েছেন গোটা গ্রামের বাসিন্দারা। আর ১৩০ বছরের নিকটাত্মীয় চলে গেলে এমর কষ্ট হওয়াই তো স্বাভাবিক।

এই কুমিরের নাম গঙ্গারাম। তার আবাস ছিলো ভারতের ছত্তীশগড় রাজ্যের বাওয়ামোহাত্রা গ্রামে। প্রাপ্ত বয়স্ক এই কুমিরটি থাকত গ্রামের এক ঝিলের জলে।

সম্প্রতি বয়সজনিত কারণে মারা যায় গঙ্গারাম। এরপর বন বিভাগের কর্মীরা এসে ময়নাতদন্ত শেষে তার মৃত্যুদেহ তুলে দেয় গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দেয়। এরপর চলে গঙ্গারামকে সমাহিত করার বিশাল আয়োজন। তার মরদেহ রাখা হয় একটি বড় ট্রাক্টরে। গোটা ট্রাক্টরটি ফুল দিয়ে সাজিয়ে গোটা গ্রামে ঘোরানো হয়। শেষে তাকে কবর দেয়া হয় সেই ঝিলের পাশেই, সারা জীবন যেখানে কাটিয়েছে কুমিরটি।

এখন ওই কুমিরের সমাধিকে ঘিরে একটি স্মৃতি ফলকও বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে গ্রামবাসীরা।

গ্রামের বাসিন্দা বীর দাস বলেন, এই ঝিলে শিশুরাও নিরাপদে সাঁতার কাটত। কোনো দিন সে তাদের গায়ে একটা আঁচড় পর্যন্ত কাটেনি। এতটাই নিরীহ ছিল সে। গঙ্গারাম গ্রামের লোকজনের সঙ্গে খুব মিলেমিশে থাকত। ও কুমির ছিল না, আমাদের বন্ধু ছিল। গ্রামের অনেকে ওর পুজো করতেন। বাচ্চা এবং মহিলাদের হাত থেকে ডাল-ভাত ও আনন্দের সঙ্গে খেতো। যদি কাউকে ধারেকাছে সাঁতার কাটতে দেখত, তখন ঝিলের অপর প্রান্তে চলে যেত ও। আমাদের সঙ্গে ওর আত্মিক যোগ ছিল।

আর গঙ্গারামের জন্যই এ গ্রামটি বাইরে বেশ পরিচিতি পেয়েছিল। অনেকে এই গ্রামকে ‘মগরমাছ ওয়ালা গাঁও’ বলে ডাকত।

বন বিভাগের সাব-ডিভিশনাল অফিসার আর কে সিনহা বলেন, গ্রামের মানুষ কুমিরটির সঙ্গে খুব একাত্ম ছিল। তাই ময়নাতদন্তের পর দেহ গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দিয়েছি।

সূত্র: ইন্টারনেট

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
    Error!: SQLSTATE[HY000]: General error: 2006 MySQL server has gone away
close
close