ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ১৩:৩৭

প্রিন্ট

ডাক্তারের ওপর হামলায় ফুঁসে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া

ডাক্তারের ওপর হামলায় ফুঁসে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া
জার্নাল ডেস্ক

একজন জুনিয়র ডাক্তারের ওপর হামলার জেরে ফুঁসে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ , রাজনীতিক, লেখক, কবি, সংস্কৃতি কর্মী সবাই এখন ডাক্তারদের পাশে। নিন্দা করছেন সকলে।

ঘটনাটি কলকাতার একটি হাসপাতালে। এ ঘটনায় হামলাকারীদের কঠিন শাস্তির দাবিতে সোচ্চার কলকাতাবাসী। এ ব্যপারে কবি সমরজিৎ সিনহা বলেন, চিকিৎসক আমা র কাছে ইশ্বর। ইশ্বরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা করছি।

বিশিষ্ট রাজনীতিক শ্যামল চট্টোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত্যু এই অভিযোগে সোমবার রাতে এন আর এস হাসপাতালের জরুরী বিভাগে জুনিয়র ডাক্তারদের উপর হামলা। এরফলে একজন ডাক্তারের অবস্থা সঙ্কটজনক। আজ সকাল থেকে প্রথমে এন আর এস শুরু হয় কর্মবিরতি। তারপর রাজ্যের প্রতিটি সরকারি কলেজে কর্মবিরতি শুরু হয়। দাবী নিরাপত্তার গ্যারান্টি।

এতে কী সমস্যার সমাধান হবে? অবশ্যই হবে না। নিরাপত্তা রক্ষী বাড়িয়ে নিরাপত্তার গ্যারান্টি সম্ভব নয়। ব্যাপারটা একটু পর্যালোচনা করা যাক।

আমরা কেউই মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারি না। চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত্যু হয় না, একথা অস্বীকার করছি না। কিন্তু অভিযোগ করলেই হবে না। প্রমান চাই। শুধু সন্দেহের বশে ডাক্তারদের উপর হামলা চালিয়ে দিলাম এটা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। তাই, যাদের মনে হবে তার রোগীর চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত্যু হয়েছে, তারা ঐ চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তপক্ষর কাছে দাবী করুন মৃতের রোগনির্ণায়ক ময়নাতদন্ত করা হোক। এক্ষেত্রে সমানভাবে চিকিৎসকদেরও সচেষ্ট হতে হবে। অন্যথায় এই ঘটনা বারবার হবে।

দীপ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, জয়েন্টের রেজাল্ট বেরোবার পর কোন ছেলে-মেয়ে যখন দেখেন ডাক্তারিতে চান্স পেয়েছেন, তখন বাড়িতে আনন্দ আর ধরে না। যে দু'জন আজ কোমায় আছেন, যেদিন তাঁরা মেডিক্যালে চান্স পেয়েছিলেন, সেদিন তাঁদের বাড়িতেও নিশ্চয়ই একইরকম আনন্দ হয়েছিল। বাবা-মা সবাইকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, ছেলে মেডিক্যালে ভাল র‍্যাঙ্ক করেছেন। কিন্তু সেদিন কি এই বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনরা ভেবেছিলেন, সেই ডাক্তারি পড়া আর ডিউটি করার জন্যই একদিন ছেলেদের এই অবস্থা হবে?

সব মৃত্যু দুঃখজনক। কিন্তু মৃত্যু সত্যও বটে। একজন ৮৫ বছরের বৃদ্ধ মারা গেলেন বলে, রীতিমত হুমকি দিয়ে, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে, তাতে ৫০ জনকে ট্যাগ করে উস্কানি দিয়ে, দু’লরি ভর্তি দুষ্কৃতি এসে, একটা সরকারী হাসপাতালে তাণ্ডব চালালো, দু'জন জুনিয়র ডাক্তারকে মেরে খুলি ফাটিয়ে দিয়ে কোমায় পাঠাল, যারা এতকিছু করল, তাদের কারুর নামও মিডিয়ায় নেওয়া হল না, তাদের ক'জন, কে কে এখনো গ্রেপ্তার হয়েছে জানা নেই—এটা কী হচ্ছে?

একাংশের হয়ত এতে আনন্দও হচ্ছে। কারণ, তাঁদের মতে ‘ডাক্তাররা সবাই খুব খারাপ, ডাকাত, রুগী মারে, টাকা খায়, সব চোর, কিচ্ছু জানে না, মার শালা ডাক্তারদের’। কিন্তু তাঁরাই আবার গুগল করে বা ওষুধের দোকানে বলে ওষুধ খেয়ে যখন রোগ সারে না, উল্টে বাড়ে, তখন সেই জটিল হয়ে যাওয়া রোগ নিয়ে ডাক্তারদের কাছেই যান। তারপর বেরিয়ে এসে আবার ডাক্তারদের গালাগাল দেন। কিছু ডাক্তার ডাক্তারির নীতি থেকে বিচ্যুত হয়ত ঠিকই, কিন্তু তাই বলে সেটাকে তুলে ধরে জেনেরালাইজ করে পুরো প্রফেশনটাকে গালাগালি করা কতোটা যুক্তিযুক্ত?

অপরাধীর ধর্ম, ভোটব্যাঙ্ক, রাজনীতি এসব না দেখে, যারা ওই দু'জন জুনিয়র ডাক্তারকে ওইভাবে মেরেছে, যারা সেই কাজে উস্কানি দিয়েছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে হিসেবমতো খুনের চেষ্টার মামলা রুজু হওয়া উচিত। যে দু'লরি দুষ্কৃতি এসে এনআরএসে তাণ্ডব চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে হুলিগানিজম, ভ্যান্ডালিজম, সরকারী সম্পত্তি নষ্টের মামলা করে সবকটাকে হাজতে দেওয়া উচিত। কিন্তু আদৌ এসব হবে কি? আর নাম প্রকাশ্যে না এনে এনে এমন অবস্থা হয়ে গেছে, এখন মিডিয়াতে নাম না বললেই সবাই বুঝে যান, কারা এইসব কাজ করেছে। "হি হু মাস্ট নট বি নেমড" বললে লোকে এমনিতেই ভোল্ডেমর্ট‌ বুঝে যায়। আলাদা করে ভোল্ডেমর্ট‌ের নাম নিতে হয় না। এও সেইরকম হয়ে গেছে। তাই নাম গোপন করে আর খুব একটা লাভ হচ্ছে কি?

দু'জন জুনিয়র ডাক্তারদের দ্রুত আরোগ্য প্রার্থ‌না করি। অপরাধীরা কঠোর শাস্তি পাক। এই ঘটনার প্রতিবাদে ডাক্তারদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রইল।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close