ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০৮:৫৬

প্রিন্ট

ডেলিভারির ৩০ মিনিট পর পরীক্ষা দিলেন মা

ডেলিভারির ৩০ মিনিট পর পরীক্ষা দিলেন মা
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক

বিবাহিত নারীদের জন্য পড়াশোনা আসলেই কষ্টের। তিনি যদি সন্তান সম্ভাবা হন কিংবা পরীক্ষার মাত্র অল্প কিছুদিন আগে পরীক্ষার তারিখ পরে তাহলে তো কষ্টের আর শেষ থাকে না। বাস্তবে অনেক নারীকে আমি সন্তান জন্ম দেয়ার দিন কয়েক পরে পরীক্ষা বসতে দেখেছি। কিন্তু তাই বলে ডেলিভারি হওয়ার মাত্র আধ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে হাসপাতালের বিছানায় বসেই কোনো মায়ের পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা শোনা যায়নি। সম্প্রতি এমনই এক কাণ্ড ঘটিয়ে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন আলমাজ ডেরেস।

আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার ২১ বছর বয়সী ওই মা হাসপাতলে সদ্যোজাত শিশুর পাশে বসেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

পশ্চিম ইথিওপিয়ার মেতু অঞ্চলের বাসিন্দা আলমাজ ডেরেস আশা করেছিলেন সন্তান প্রসবের আগেই তিনি হয়তো পরীক্ষা শেষ করে ফেলতে পারবেন। কিন্তু রমজান মাসের কারণে মাধ্যমিক স্কুলের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই প্রসবের ব্যথা উঠলে সোমবার তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। আশ্চর্যের বিষয় হলো সেদিন থেকেই তার পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

এ অবস্থায় তিনি সন্তান প্রসব করেন। এর আধ ঘণ্টার মধ্যেই পরীক্ষা শুরু হলে তিনি হাসপাতালের বেডে বসেই পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখতে শুরু করে দেন।

এ প্রসঙ্গে আলমাজ বলেন, গর্ভকালীন অবস্থায় পড়ালেখা করতে তার তেমন অসুবিধা হয়নি। তবে তার জীবনের এরকম একটি ঘটনার কারণে এবারের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া থেকেও তিনি বিরত থাকতে চাননি। কারণ, তাহলে তাকে পরীক্ষার জন্য আরো একটা বছর অপেক্ষা করতে হতো।

গত সোমবার তিনি তিনটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন- ইংরেজি, আমহেরিক এবং গণিত। বাকি পরীক্ষাগুলো তিনি আগামী দুদিনে পরীক্ষার হলে গিয়েই দেবেন বলে জানিয়েছেন। আলমাজ ডেরেস বলেন, ‘পরীক্ষায় বসার জন্যে আমি খুব উদগ্রীব ছিলাম। আর বাচ্চা জন্ম দেওয়াটা খুব একটা কঠিন ছিল না।’

তার স্বামী টেডেস টুলু বলেছেন, এরকম অবস্থায় স্ত্রীর স্কুল যাতে হাসপাতালেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করে সেজন্যে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়েছিলেন।

ইথিওপিয়াতে পড়ালেখা শেষ করার আগেই ছাত্রীদের স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া একটি সাধারণ ঘটনা। আলমাজ ডেরেসও এর ব্যতিক্রম নন। মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তিনি দুই বছরের একটি কোর্সে ভর্তি হবেন। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করতে চান।

আর সোমবারের পরীক্ষগুলো ভালো হওয়ায় আলমাজ ডেরেস খুব আনন্দিত। একই সাথে তার নবজাতক শিশুটিও ভাল আছে। সবমিলিয়ে এই মা এখন দারুণ মুডে আছেন।

বিয়ে বা মা হওয়া যে একজন নারীর জীবনের সব স্বপ্ন কেড়ে নিতে পারে না তার জলন্ত উদাহরণ হলেন ইথিওপিয়ার এই নারী। যে যাই বলুক, আসলে ইচ্ছাটাই সবচেয়ে বড় কথা।

হাসপাতালের বেডে পরীক্ষা দিচ্ছেন আলমাস ডেরেস

সূত্র: বিবিসি বাংলা

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত