ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:০৬

প্রিন্ট

ইরানকে পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার দাবি ইইউ’র

ইরানকে পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার দাবি ইইউ’র
মারিয়া কুসিয়ানচিচ
অনলাইন ডেস্ক

ইরানকে পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি জোরদার করার ঘোষণা দেয়ার পর এই আহ্বান জানালো ইইউ।

ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তার মুখপাত্র মারিয়া কুসিয়ানচিচ শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান এ সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চললেই কেবল ইইউ এতে দেয়া নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি লিখে পরমাণু সমঝোতার আরো কিছু ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার কথা জানান। এটি ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের তৃতীয় পদক্ষেপ।

জারিফ তার চিঠিতে বলেন, ইরান ঠিক কোন কোন ধারা স্থগিত রাখবে এবং নিজের পরমাণু কর্মসূচির ক্ষেত্রে কি কি তৎপরতা আবার শুরু করবে তা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’কে জানানো হবে।

২০১৮ সালের ৮ মে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে গিয়ে তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ওই সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী তিন ইউরোপীয় দেশ ও ইইউ ইরানকে পরমাণু সমঝোতায় অটল থাকার আহ্বান জানিয়েছিলো। এসময় তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই এ সমঝোতায় ইরানকে যেসব আর্থিক সুবিধা দেয়ার কথা ছিল তা বাস্তবায়ন করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো।

কিন্তু এক বছরেও ইইউ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। যার প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৮ মে পরমাণু সমঝোতার কিছু ধারার বাস্তবায়ন স্থগিত রাখে ইরান। একইসঙ্গে ইইউকে ৬০ দিনের সময় বেধে দেয় তেহরান।

তখন ইরান সরকার আরো ঘোষনা দিয়েছিলো যে, ইইউ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতা বাস্তবায়নে অপারগ হলে তারা দ্বিতীয় দফায় আরো কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসবে। গত ৬ জুলাই ইরান সে হুমকি বাস্তবায়ন করে এবং তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফা পদক্ষেপ নিল ইরান।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে ইরান বিশ্বের ছয়টি পরাশক্তির সাথে তার পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আসতে সম্মত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন এবং রাশিয়া, অর্থাৎ পি ফাইভ প্লাস ওয়ান নামে পরিচিত পরাশক্তিগুলি ছিল এই চুক্তির অংশীদার। চুক্তির পর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে ইরান। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান সংবেদনশীল পরমাণু কর্মকাণ্ড সীমিত করতে রাজি হয় এবং দেশটির বিরুদ্ধে আনা অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেবার শর্তে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পরমাণু কর্মকাণ্ড পরিদর্শনে অনুমতি দেয়। এরই প্রেক্ষিতে তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্য দেশগুলো । কিন্তু গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দেশকে এই সমঝোতা থেকে বের করে নিয়ে তেহরানের ওপর একতরফা কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেন। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এরই প্রেক্ষিতে পরমাণু কর্মসূচি জোরদার করার হুমকি দিলো ইরান।

সূত্র: পার্স টুডে

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত