ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:২৮

প্রিন্ট

টেলিফোন-নেট ছাড়া ধুঁকছে কাশ্মীরের সাংবাদিকতা

টেলিফোন-নেট ছাড়া ধুঁকছে কাশ্মীরের সাংবাদিকতা
অনলাইন ডেস্ক

ভারত অধিকৃত কাশ্মীর রজ্যের একটি জাতীয় পত্রিকায় কাজ করেন ইশফাক তন্ত্রী। কিন্তু তার টেবিলে যে কম্পিউটারটি রয়েছে সেখানে কোনো ইন্টারনেট সংযোগ নাই। স্থবির হয়ে পড়ে আছে অফিসের টেলিফোন সেটটিও।

তাই কম্পিউটারে রিপোর্ট লেখার পর সেটি প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে ইশফাককে সরকার পরিচালিত একটি মিডিয়া সেন্টারে ছুটতে হয়। সেখানে শত শত স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের জন্য ইন্টারনেট সংযোগসহ রয়েছে মাত্র পাঁচটি কম্পিউটার। এর একটি ব্যবহার করেই প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্ট পাঠান ইশফাক।

এটা তো গেল রিপোর্ট পাঠানোর ক্ষেত্রে সমস্যার কথা। কিন্তু সাংবাদিকের মূল কাজ হচ্ছে রিপোর্ট সংগ্রহ করা। টেলিফোন আর ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া খবর সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব। এর ওপর রয়েছে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর অযাচিত খবরদারি। যে কারণে খবর সংগ্রহ করতে পারছেন না কাশ্মীরের সংবাদ মাধ্যমগুলো। যে কারণে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়র পরও বন্ধ রয়েছে বহু পত্রিকা।

এ সম্পর্কে ইশফাক জানান, সরকারি কর্মকর্তারা অনেক সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে তাদের পরিবেশিত খবরের সূত্র জানতে চান। তার ভাষায় ‘এটা এক ধরনের হুমকি ও বলপ্রয়োগ’।

এছাড়া রাস্তাঘাটে ছবি তোলার সময়ও ফটো সাংবাদিকদের বাধা দিচ্ছে টহলদার ভারতীয় সেনারা। সম্প্রতি জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়চে ভেলের সাংবাদিক নিমিশা জেসওয়ালকে ছবি তোলার সময় বাধা দিয়েছিলোএক পুলিশ। যদিও এর কোনো কারণ জানায়নি ওই পুলিশ।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় টিভি ও সংবাদপত্রের খবরের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে কাশ্মীরের লোকজন। এ অবস্থায় ভারতীয় শাসক ও সেনাদের মতো সাংবাদিকেদের ওপরও বিক্ষুব্ধ সেখানকার মানুষ।

সম্প্রতি শ্রীনগরের এক বাসিন্দা এক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের সংবাদকর্মীর কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমরা কোনো খবর পাইনা। ভারতীয় গণমাধ্যমে তো কাশ্মীর নিয়ে সব মিথ্যা খবর দিচ্ছে। তারা বলছে, এখানকার সব স্কুল খোলা, দোকানপাট খোলা, গাড়িও চলছে। কিন্তু আপনি তো এখন শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থলে আছেন। আপনার চারদিকে তাকিয়ে দেখুন তো এই খবর সত্যি কিনা! বাস্তবতা হচ্ছে দোকানপাট, স্কুল কলেজ, অফিস আদালতসহ কাশ্মীরের অথচ সব কিছুই আজ বন্ধ। আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে মোদি সরকার। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ আজ হতাশ আর বিক্ষুব্ধ।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট অকস্মাৎ কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দানকারী ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারাটি তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয় মোদি সরকার। এরপর থেকে সেখানে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। অনেক এলাকায় এখনও বলবৎ আছে কারফিউ। আটক করা হয়েছে হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতাদের। বিচ্ছিন্ন রয়েছে টেলিফোন ও ইন্টারনেট যোগাযোগ। বিদেশি তো দূরের কথা, ভারতের অন্য রাজ্য থেকেও কোনো সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী বা বিরোধী দলীয় নেতাদের সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। কেবল ক্ষতাসীন দল বিজেপির নেতা কর্মী আর সরকারের তাবেদার সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে, যারা কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করার কথা জানিয়ে সেখানে নানা পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করছেন।

এ অবস্থা নিয়ে সোমবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রধান মিশেল ব্যাচেলেট।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত