ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩৭

প্রিন্ট

এনআরসি থেকে ১২ লাখ হিন্দু বাদ, বিপাকে মোদি

এনআরসি থেকে ১২ লাখ হিন্দু বাদ, বিপাকে মোদি
এনআরসিতে নাম না থাকায় উদ্বেগে হিন্দুরা
অনলাইন ডেস্ক

আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লাখের বেশি মানুষ। অসম বাঙালি যুব ছাত্র ফেডারেশনের দাবি, এদের মধ্যে বাঙালি হিন্দুর সংখ্যা ১০ থেকে ১২ লাখ। আর বাঙালি মুসলিম বাদ পড়েছেন দেড় থেকে দু’লক্ষ। এত ব্যাপক সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাদ পড়ায় বিপাকে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপি।

কারণ বিজেপি নেতারা আশা করেছিলেন, আসামে এনআরসি বাস্তবায়িত হলে সংখ্যালঘু মুসলিমরাই মূলত বাদ পড়বেন। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা থেকে যারা বাদ পড়েছেন তাদের অর্ধেকের বেশি হিন্দু, গোর্খা এবং স্থানীয় আদিবাসী সমাজের লোক। এত বিপুল পরিমাণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নাম এনআরসি থেকে বাদ পড়ায় আগামী নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিজেপি। কেননা হিন্দুরাই তো তাদের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার মূলমন্ত্র, নিরাপদ ভোট-ব্যাঙ্ক। এই হিন্দু জাগরণের ধুঁয়া তুলেই তো দ্বিতীয় দফা ক্ষমতায় এসেছেন মোদি। নইলে তার সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্য তো খুবই মলিন।

তো এইসব কারণে আসামের নাগরিক তালিকা প্রকাশের পর মাথায় হাত বিজেপির। ইতিমধ্যে দলের অনেক নেতাই এনআরসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যদিও পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, সরকার নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিয়ে দেবে।

কিন্তু তার এই প্রতিশ্রুতিকে উড়িয়ে দিয়েছেন আসামের কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা দেব। তার অভিযোগ, এনআরসি নিয়ে এবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বিজেপি। কারণ, ১৯৭১ সালের আগে যারা আসামে এসেছেন, তারা কোনও ভাবেই নাগরিকত্ব আইনের সুবিধে পাবেন না। কেননা নাগরিকত্ব বিলে ১৯৭১ সালের পরে যারা ভারতে এসেছে কেবল তাদেরই নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে, দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করে এমন ত্রুটিপূর্ণ একটি তালিকা তৈরির পিছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বার করার জন্য সিবিআই তদন্ত দাবি করেছে অসম বাঙালি যুব ছাত্র ফেডারেশন। মঙ্গলবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সংগঠনের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ফের পরিকল্পিত ভাবে বাঙালিদের আসাম ছাড়া করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সংগঠনের সভাপতি উৎপল সরকারের দাবি, অতীতে অস্ত্র দেখিয়ে আসাম থেকে বাঙালিদের তাড়ানো হয়েছিল। এ বার এনআরসিতে নাম না তুলে ফের বাঙালিদের ঘরবাড়ি থেকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ আগস্ট আসামের বহুল আলোচিত এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়। নতুন এই তালিকায় ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছেন। আর বাদ পড়েছেন ১৯ লাখের বেশি মানুষ। এ নিয়ে আতঙ্কিত তালিকার বাইরে থাকা মানুষেরা।

তালিকাটি প্রকাশের পর এই সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। তিনি তালিকায় বাদ পড়াদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, দরকার হলে আইন সংশোধন করে পুনরায় প্রকৃত নাগরিকরা যাতে বাদ না পড়েন সেটা নিশ্চিত করা হবে।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত