ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:২৫

প্রিন্ট

‘পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবে, বাদ যাবে ২ কোটি’

‘পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবে, বাদ যাবে ২ কোটি’
অনলাইন ডেস্ক

আসামের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) করার পাঁয়তারা করছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। ওই রাজ্যের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ জোর দিয়ে বলেছেন আসাম স্টাইলে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবে। আরে এতে এখানে বাদ যাবে দুই কোটি মানুষ।

যদিও ইতিমধ্যে আসামের এনআরসি নিয়ে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওই নাগরিক তালিকা থেকে যারা বাদ পড়েছেন তাদের সিংভাগই বাঙালি হিন্দু, যা নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে মোদির দলটি। কিন্তু এরপরও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে বার বার পশ্চিমবঙ্গে নাগরিক তালিকা তৈরির কথা বলছেন বিজেপি নেতারা।

অন্যদিকে আসামে সম্প্রতি প্রকাশিত এনআরসির বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার কলকাতায় যে প্রতিবার মিছিলে হচ্ছে তাতে যোগ দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের আগে সেভ বেঙ্গল’ নামে একটি আলোচনাসভায় পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন রাজ্যের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ ।

সেখানে তিনি বলেন, ‘আসাম স্টাইলে পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি হবে। এতে প্রায় দু’কোটি মানুষ বাদ যাবে।’

তিনি পশ্চিবঙ্গে বিদেশি ধুয়া তুলে বলেন, বিদেশি নাগরিকেরা পশ্চিবঙ্গে দেশে রাজ্য ও দেশের সম্পদ নষ্ট করছে। এগুলো বন্ধ করার জন্যই এখানে এনআরসি প্রয়োজন।

এর মাত্র একদিন আগে কলকাতা সফরের সময় ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও ‘পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবেই’বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এদিকে আসামের নাগরিক পঞ্জির বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার যে মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে তৃণমূল, তাতে যোগ দিচ্ছেন মমতাও। ইতিমধ্যেই জাতীয় নাগরিক পঞ্জির প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে ব্লকে ব্লকে মিছিল এবং সভা করেছে তৃণমূল। বিধানসভাতেও নাগরিক পঞ্জির বিরুদ্ধে বিরোধী বাম ও কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল ঐক্যমত্য হয়ে প্রস্তাব পাশ করেছে।বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি রুখতে পথে নেমে প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই মিছিল নিয়ে মমতাকে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘কিছু হলেই রাস্তায় নেমে পড়াটা মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো অভ্যাস। তিনি তো বাড়ি থাকতে পারেন না। সেই অভ্যাস বজায় রাখতেই তিনি রাস্তায় নামছেন। ২০২১ সালের পরে তো রাস্তাতেই নামতে হবে। তবে যে-ই রাস্তায় নামুক, পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবেই।’

তৃণমূলকে হটিয়ে পশ্চিবঙ্গে সিংহাসন দখলের দিকে মনোযোগ বিজেপি সভাপতির। রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বুধবার তিনি পশ্চিমবঙ্গে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। গোষ্ঠিদ্বন্দ্ব ভুলে সকলকে এখন থেকেই ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেছেন তিনি।

পশ্চিবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্ব যখন এনআরসি বাস্তবায়নের জন্য আদাজল খেয়ে লেগেছেন তখন আসামে কিন্তু চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা নিয়ে লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কেননা এই রাজ্যে এনআরসি থেকে বাদ পড়া ১৯ লাখের মধ্যে বাঙালি হিন্দুর সংখ্যা ১০ থেকে ১২ লাখ। আর বাঙালি মুসলিম বাদ পড়েছেন দেড় থেকে দু’লক্ষ। এত ব্যাপক সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাদ পড়ায় বিপাকে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপি। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন কিছু কিছু নেতা।

কারণ বিজেপি নেতারা আশা করেছিলেন, আসামে এনআরসি বাস্তবায়িত হলে সংখ্যালঘু মুসলিমরাই মূলত বাদ পড়বেন। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা থেকে যারা বাদ পড়েছেন তাদের অর্ধেকের বেশি হিন্দু, গোর্খা এবং স্থানীয় আদিবাসী সমাজের লোক। এত বিপুল পরিমাণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নাম এনআরসি থেকে বাদ পড়ায় আগামী নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিজেপি। কেননা হিন্দুরাই তো তাদের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার মূলমন্ত্র, নিরাপদ ভোট-ব্যাঙ্ক। এই হিন্দু জাগরণের ধুঁয়া তুলেই তো দ্বিতীয় দফা ক্ষমতায় এসেছেন মোদি। নইলে তার সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্য তেমন উল্লেখযোগ্য নয়।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত