ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৫৮

প্রিন্ট

কাশ্মীরে ‘ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা’ চলছে?

কাশ্মীরে ‘ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা’ চলছে?
অনলাইন ডেস্ক

এখনো পর্যন্ত কাশ্মীরে বড় কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। তবে, এ থমথমে পরিবেশ নিয়ে অনেকে নানান ধরণের মন্তব্য করছেন। কারো কারো মতে, কাশ্মীরের এ পরিবেশ ‘ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা’।

এদিকে কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরসহ নানা জায়গা ঘুরে বিবিসি এক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। যেখানে বলা হয়েছে ভারতশাসিত কাশ্মীরে এখন যে দম-আটকে-আসা অবরুদ্ধ অবস্থা চলছে, তার মধ্যে মনটাকে একটু হালকা করার নানা উপায় বের করে নিয়েছেন সেখানকার লোকেরা।

প্রধান শহর শ্রীনগরের পার্কগুলোতে দেখা যাচ্ছে - লোকের ভিড় বেড়ে গেছে। ছবির মতো সুন্দর ডাল লেকের পার ধরে অনেকে বসে গেছে মাছ ধরতে। অন্য অনেকে গাড়ি চালিয়ে শহরের নানা প্রান্তে যাচ্ছে, বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা করতে। অনেককে দেখা যায় রাস্তায় জটলা করতেও।

শ্রীনগর শহরে এখন অনেক জায়গা থেকেই নিরাপত্তা ব্যারিকেড আর কাঁটাতারের বেষ্টনি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ব্ল্যাকআউট বা রেশনে খাবার বিক্রিও আর নেই। দিনে কয়েক ঘন্টার জন্য খুলছে ছোট বাজারগুলোও।

মনে হতে পারে যে - প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতাসীন বিজেপি ভারতশাসিত কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন কেড়ে নেবার মাসখানেক পর মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যটি যেন ধীরে ধীরে এক ধরণের ‘স্বাভাবিক অবস্থায়’ ফিরে আসছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ওই পদক্ষেপে কাশ্মীর ও জম্মুকে দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে জারি করা হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সরকারি চাকুরে আসমা কুরেইশি, তার পরিবারকে নিয়ে এসেছেন পার্কে বেড়াতে।

তবে বিবিসির সংবাদদাতা কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে বলে তিনি মনে করেন না।

একজন স্কুল শিক্ষক বললেন, আমাদের জীবনের পরিসর ছোট হয়ে গেছে, আমাদের মনটাই যেন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। রাস্তায় বেরুলে দেখা যায়, ওষুধের দোকান ছাড়া অন্য দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। কড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে স্থানীয় পত্রিকাগুলোকে এখন যেন চেনাই যায় না।

পুরো রাজ্যই কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া, এবং তাতে এটা নিশ্চিত হয়েছে যে বড় আকারের কোনো সহিংস ঘটনা ঘটে নি। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী খবর পাওয়া যাচ্ছে, 'স্বাভাবিক অবস্থার' আবরণের নিচে টগবগ করে ফুটছে হতাশা আর ক্ষোভ।

আগামীতে কাশ্মীরে কি ঘটবে তা বলা কঠিন। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনেকে মনে করেন, কাশ্মীরীরা সহিংসতায় ক্লান্ত হয়ে গেছে, এবং একসময় তারা মি. মোদীর কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের অঙ্গীকারকেই স্বাগত জানাবে। কিন্তু কাশ্মীরে খুব কম লোকই এ কথা সমর্থন করেন।

কাশ্মীরে ১৯৯০ সালের পর থেকে বিদ্রোহে নিহত হয়েছে ৪০ হাজার লোক। এই বিদ্রোহের কি এখন সমাপ্তির দিন শুরু হলো? নাকি এখন আবার নতুন করে আরেক দফা রক্তাক্ত বিদ্রোহ শুরু হতে যাচ্ছে?

অতীতে দেখা গেছে, কাশ্মীরে কোন একটা ঘটনা ঘটার বেশ কয়েক বছর বড় মাত্রার অভ্যুত্থান ঘটে থাকে। যেমন ১৯৬৩ সালের বিদ্রোহ ঘটেছিল ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা শেখ আবদুল্লাহর বরখাস্ত এবং গ্রেফতারের ১০ বছর পরে। তেমনি, ১৯৮৯ সালের জঙ্গী তৎপরতা শুরু হয়েছিল বিতর্কিত স্থানীয় নির্বাচনের দু বছর পরে।

লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্সে আন্তর্জাতিক ও তুলনামূলক রাজনীতির অধ্যাপক সুমন্ত বোস বলছিলেন, কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির বিস্ফোরক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আগেকার ঘটনাগুলোর চাইতে বেশি। সত্যি তাই হয় কিনা তা শুধু সময়ই বলতে পারবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত