ঢাকা, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০১৯, ১০:১৪

প্রিন্ট

ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্তের পক্ষে প্রস্তাব পাস

ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্তের পক্ষে প্রস্তাব পাস
অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ)। ফলে অভিশংসন তদন্তের বিষয়ে আর কোনো বাধা থাকল না। বৃহস্পতিবার এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয় বলে ব্র্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে।

অভিশংসন প্রক্রিয়ায় ডেমোক্রেটিক নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিনিধি পরিষদে এটা ছিল প্রতিনিধিদের জন্য প্রথম পরীক্ষা। কারণ অভিশংসন তদন্ত নিয়ে এটা ছিলই প্রথম ভোট। আর এর বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকানদের সম্মতি না থাকলেও ডেমোক্রেটদের চাপের মুখে তা বাতিল হয়ে গেছে।

প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্যরা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও এর পক্ষে ভোট পড়েছে ২৩২টি। আর বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১৯৬টি। রিপাবলিকান দলের সবাই এবং দুইজন ডেমোক্রেট সদস্য এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

অভিশংসন তদন্ত পরবর্তীতে প্রতিনিধি পরিষদে কিভাবে এগিয়ে যাবে সে বিষয়েই এই প্রস্তাবনা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসন করা হবে কিনা বিষয়টি তা নয়।

ভোট গ্রহণের পর পরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘উইচ হান্ট’ (ছিদ্রান্বেষণ) বলে নিন্দা করেন। হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব স্টিফ্যানি গ্রিশাম দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট কোনো অন্যায় করেননি। তিনি আরো বলেন, এই অভিশংসন প্রক্রিয়া ‘অন্যায্য, অসাংবিধানিক এবং মূলত অ-আমেরিকান’।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি গত আগস্ট থেকে এ বিষয়ে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেন। তখন ভোটাভুটি ছাড়াই এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সে কারণে এই তদন্তকে অবৈধ বলে দাবি করছিলেন রিপাবলিকানরা। কিন্তু সম্প্রতি আদালত সেই দাবি খারিজ করে দেয়।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়ায় কোনো রকম সহযোগিতা করবে না বলে প্রতিনিধি পরিষদকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। একই কথা জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন। তিনি দেশটিকে মার্কিন সামারিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যাপারে মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে বাইডেন সবার আগে রয়েছেন এবং তিনিই হতে পারেন ট্রাম্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ডেমোক্রেটদের অভিযোগ, এ কারণেই তাকে কোণঠাসা করার অনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন ট্রাম্প।

সিআইএ’র একজন কর্মকর্তা ‘হুইসেলব্লোয়ার’হিসেবে এই তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার পর আগস্টে ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিশংসন করার উদ্যোগ নেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলসি।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের জন্য নির্বাচনে জালিয়াতি কোনো নতুন ঘটনা নয়। এর আগে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে হারাতে রাশিয়ার সাহায্য নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিলো। নির্বাচনের সময় ব্যক্তিগত কাজে সরকারি ইমেইল ব্যবহারের অভিযোগ উঠার পর কোণঠাসা হয়ে পড়েন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি। আর নির্বাচনে জিতে যান ট্রাম্প। এ ঘটনায় আগেও একবার অভিশংসনের মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু তখন তিনি ইমপিচমেন্ট থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত