ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪৩

প্রিন্ট

আইলার স্মৃতি উসকে ধেয়ে আসছে বুলবুল

আইলার স্মৃতি উসকে ধেয়ে আসছে বুলবুল
ফাইল ফটো
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলো লক্ষ্য করে এগিয়ে আসছে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। শনিবার মধ্যরাতে থেকে রোববার সকালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়ার স্থলভাগে ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়বে বলে জানা গেছে। এ রাজ্যে ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ থাকবে ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। এমনকি তা ১৩০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ৯ ও ১০ নম্বর বিপদ সঙ্কেত জারি করা হয়েছে।

১০ বছরের ব্যবধান আরও একটি ভয়ঙ্কর ঝড়ের মুখোমুখি হতে চলেছে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের লোকজন। ২০০৯-এর ২৫ মে সাগরদ্বীপ এবং সুন্দরবন এলাকায় আঘাত হেনেছিল অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় আয়লা। শনিবার মধ্য রাতে আবারও তেমনই একটি অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় সুন্দরবনের উপর দিয়ে বয়ে যাবে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের গতি থাকবে আইলার মতোই, ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বা তারও বেশি।

পশ্চিমবঙ্গোর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানাচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুল উত্তরমুখী হয়ে এগোচ্ছে। শনিবার অভিমুখ পরিবর্তন হয়ে উত্তর-পূর্বমুখী হবে। যে ভাবে ঘূর্ণিঝড় গতি নিয়ে এগোচ্ছে, তাতে সুন্দরবনে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। সে কারণে উপকূলবর্তী প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় নবান্ন থেকেও জেলা প্রশাসনকে তৎপর থাকতে বলা হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের ঘূর্ণিঝড় বিভাগের প্রধান বিজ্ঞানী মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় গতিবেগ থাকতে পারে ১২৩ কিলোমিটারের আশপাশে। কোথাও কোথাও তা ১৩০ কিলোমিটারের গতি ছাড়াতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যবর্তী স্থানে ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়তে পারে।

শুক্রবার সকাল থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর-সহ উপকূলবর্তী জেলাতে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এ দিন কলকাতাতেও বিক্ষোপ্ত ভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। শনি ও রোববার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। ভারী বৃষ্টি হবে দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হবে কলকাতা, হাওড়া, নদিয়া, হুগলি-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে।

একই সঙ্গে উত্তাল হয়ে উঠবে সমুদ্র। উত্তর উড়িশ্যা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস হবে। সে কারণে দিঘা, মন্দারমণি, শঙ্করপুর, তাজপুর, বকখালির সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হচ্ছে পর্যটকদের। ঝড়ের কারণে মাটির বাড়ি, কাঁচা রাস্তা, গাছপালা ভেঙে পড়তে পারে। তাই উপকূলের জেলার প্রশাসনকে আগেই সতর্ক করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, কলকাতা এবং আশপাশ এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে হাওয়া বইবে শনিবার। ওই দিন মধ্য রাতে ঝড়টি আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুন্দরবনের উপরও ঘড়ের প্রভাব পড়বে। ফলে শনি ও রোববার ভারী বৃষ্টি হবে।

কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘বুলবুল নিয়ে রাজ্য প্রশাসন এবং কলকাতা পুরসভা সতর্ক আছে। নবান্নে ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আমি নিজেও কন্ট্রোল রুমে থাকব।’

এর আগে ২০০৯-এর ২৫ মে ভারত ও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে একযোগে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় আইলা। এতে পশ্চিবঙ্গ রাজ্যের দুই চব্বিশ পরগনা, কলকাতা এবং বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিবেগের ঘূর্ণিঝড় এবং তার সঙ্গে বিশাল জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়ে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ফলে সুন্দরবনের প্রচুর গাছপালা ভেঙে পড়েছিল। ওই ঝড়ে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নিহত হয়েছিল প্রায় ১৫০ মানুষের। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে ৩৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছিল। প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিলেন। এছাড়া কয়েক লক্ষ বাড়িঘর চলে গিয়েছিল জলের তলায়। তবে এবার ঘূর্ণিঝড় বুলবুল অতটা ক্ষয়ক্ষতি করতে পারবে না। কেননা স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর মনে করছে, পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে আগে থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতি জানা যাচ্ছে। সে কারণে সবাই সতর্ক হয়েছেন। তাই সুন্দরবনের উপর দিয়ে অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় গেলেও ‘আয়লা’র মতো ক্ষয়ক্ষতি হবে না বলেই তাদের ধারণা।

সূত্র: আনন্দবাজার

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত