ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ৫ পৌষ ১৪২৫ অাপডেট : ৩ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৫১

প্রিন্ট

জেল থেকে ছাড়া পেলেন হাসনাত করিম

জেল থেকে ছাড়া পেলেন হাসনাত করিম
নিজস্ব প্রতিবেদক

অবশেষে জেল থেকে ছাড়া পেলেন গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় গ্রেপ্তার হওয়া হাসনাত রেজা করিম। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চারটার সময় গাজীপুরের কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি জেল থেকে মুক্তি পান ব্রিটেন ও বাংলাদেশের এই দ্বৈত নাগরিক। জেল থেকে বেরিয়ে আসার সময় সেখানে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিল।

হাসনাতের কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে হাই সিকিউরিটি জেলার বিকাশ রায়হান বলেন, হাসনাতকে অব্যাহতি দিয়ে আদালত থেকে যে নির্দেশনা এসেছে, তা যাচাই-বাছাই করার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

হাসনাত করিমের স্ত্রী শারমিনা করিম বলেন, আমরা খুশি। অবশেষে হাসনাত জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে। আমাদের বিশ্বাস ছিল সে যেহেতু নির্দোষ, সেহেতু আজ হোক কাল হোক মুক্তি সে পাবেই। কিন্তু এই দুটি বছর আমাদের দুঃসহ জীবন পার করতে হয়েছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই দেশ কাঁপানো এই হামলার সময় হাসনাত করিম এবং তার স্বজনরাও ছিলেন রেস্টুরেন্টটিতে। কিন্তু জঙ্গিরা তাদের কাউকেই কিছু বলেনি। আবার হামলার পরদিন ভোরে রেস্টুরেন্টের ছাদে হাসনাত করিমের সঙ্গে হামলাকারী একাধিক তরুণকে দেখা গেছে। পাশের ভবন থেকে একজন কোরিয়ান নাগরিকের ধারণ করা ভিডিওতে মনে হয়েছে তারা সেখানে আলোচনা করছেন।

এ কারণে হাসনাত করিম এই হামলায় জড়িত বলে সে সময় ধারণা করা হয়। আবার নর্থ সাউথে শিক্ষকতা করার সময় উগ্রপন্থী ও নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং এই সংগঠনকে পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগ আছে হাসনাতের বিরুদ্ধে।

জঙ্গি হামলার পর সেনা অভিযানে উদ্ধার জঙ্গিদের মধ্যে ‘রহস্যজনক’ আচরণের কারণে হাসনাত করিমকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার কয়েকদিন পর হাসনাতকে ছেড়ে দেওয়ার কথা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হলেও তাকে আর ছাড়া হয়নি।

অব্যাহতি পাওয়া হাসানাত করিমকে ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট রাজধানীর একটি বাড়ি থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৪ আগস্ট প্রথম দফায় হাসনাতের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ১৩ আগস্ট হলি আর্টিজান মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেদিনই আরও আট দিন রিমান্ডে নেয়া হয় হাসনাত করিমকে। দুই দফা ১৬ দিনের রিমান্ড শেষে ২৪ আগস্ট তাকে আদালতে নেয়া হলে তার জামিন আবেদন নাকচ করে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। হাসনাত করিম বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।

দুনিয়া কাঁপানো ওই জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্যও নিহত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করে পুলিশ।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আটজন আসামি হলেন, হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যা শ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবির নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম খালিদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। আসামিদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ পলাতক এবং অপর ৬ আসামি কারাগারে রয়েছেন।

কারাগারে থাকা আসামিদের মধ্যে মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ওরফে আবু জাররা ও রাকিবুল হাসান রিগ্যান হামলার দায় স্বীকার করে আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close