ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬ অাপডেট : ৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ৩১ মে ২০১৯, ১২:২৩

প্রিন্ট

এবার নুসরাতের ভাইকে হত্যার হুমকি

এবার নুসরাতের ভাইকে হত্যার হুমকি
জার্নাল ডেস্ক

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয় গতকাল। এ সময় আদালতে ব্যাপক হট্টগোল করে অভিযুক্তরা। তারা আদালতে দাঁড়িয়েই মামলার বাদী নুসরাতের ভাই নোমান ও আইনজীবীদের অশালীন ভাষায় গালমন্দ করেন। কয়েকজন আসামি তেড়ে এসে বাদী ও আইনজীবীদের হত্যার হুমকি দেন।

এ সময় বিচারক আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে পুলিশকে নির্দেশ দেন। পরে পিবিআই আদালতে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ব্যাপারে বাদী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আসামিরা আদালতে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

গতকাল দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিচারক মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আদেশ দেন। আদেশে আগামী ১০ই জুন মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। ওইদিন অভিযোগপত্রের উপর শুনানি হবে।

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. গোলাম জিলানি জানান, নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ধার্য তারিখ বৃহস্পতিবার সকালে ফেনী কারাগার থেকে ২১ জন আসামিকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। দুপুরে আসামিদের আদালত হাজতখানা থেকে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। এজলাসে কোর্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও বাদীর আইনজীবী মামলাটির অভিযোগপত্র জমা দেয়া সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন।

এসময় অভিযোগপত্রভুক্ত ১৬ জনসহ গ্রেপ্তার ২১ আসামির সবাই উপস্থিত ছিলেন। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ফেনীতে হস্তান্তরের আদেশ দেন।

কোর্ট পরিদর্শক মো. গোলাম জিলানী জানান, অভিযোগপত্রের আসামি সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক) মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আলম কাউন্সিলরের পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন করে আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু।

আদালতের বিচারক এ আদালতে এ ধরনের মামলায় জামিন দেয়ার এখতিয়ার নেই উল্লেখ করে মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ ১০ জুন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে জামিনের আবেদন করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১০ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে অভিযোগপত্রের ওপর শুনানি হবে। পরে সকল আসামিকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার শুরুতে একজন আইনজীবী মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার পক্ষে দাঁড়ানোয় আওয়ামী লীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এরপর ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো আইনজীবী যেন আসামির পক্ষে না দাঁড়ান, সে অনুরোধ জানায়। ফলে, গত দুই মাসে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবীকে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার প্রথম একজন আইনজীবী আদালতে একজন আসামির পক্ষে দাঁড়ান এবং জামিনের আবেদন জানান।

বাদী পক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খোকন জানান, আসামিদের আদালত হাজতখানা থেকে এজলাসে আনা হলে হট্টগোল করতে থাকে। একপর্যায়ে আসামিরা মামলার বাদী নুসরাতের ভাই ও আমাকে অশালীন ভাষায় গালমন্দ করে। এসময় কয়েকজন আসামি তেড়ে এসে মামলার বাদী ও আইনজীবীদের হত্যার হুমকি দেয়। বিষয়টি আদালতকে অবহিত করলে বিচারক আদালতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন।

মামলা বাদী আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, ‘পিবিআই আদালতে যে অভিযোগপত্রটি দিয়েছে তার বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। তবে আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ও স্থানীয় সাংবাদিক আবুল হোসেন রিপনকে এ মামলার অভিযোগপত্রে আসামি করা উচিত ছিল।’

ফেনীর পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘আদালতে আসামিরা হট্টগোল করেছে শুনেছি। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। নুসরাতের পরিবারকে ঘটনার দিন থেকে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেয়া হচ্ছে। নুসরাতের পরিবার ‘এখন পাবলিক প্রোপার্টি’। পুলিশের পাশাপাশি জনগণই তাদের নিরাপত্তা দেবে। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এটি তদারকি করছেন।’

মো. মনিরুজ্জামান আরও জানান, ‘আমি যতদিন ফেনীতে কর্মরত আছি কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা থাকবে না। নুসরাতের পরিবারকে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেয়া হবে।’

গত বুধবার এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার ২১ জন আসামির মধ্যে পাঁচজনকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ১৬ জনের মধ্যে মামলার এজাহারনামীয় আটজন এবং এজাহারবহির্ভূত আটজন আসামি রয়েছেন। আসামিদের মধ্যে ১২ জন দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া ১৬৪ ধারায় সাতজন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন এবং ১৬১ ধারায় ৬৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। অভিযোগপত্রে সর্বমোট ৯২ জনকে সাক্ষী করেছে পিবিআই।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close