ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৯, ১৯:১৯

প্রিন্ট

হাসপাতাল থেকে নবজাতক পাচারে দুজনের যাবজ্জীবন

হাসপাতাল থেকে নবজাতক পাচারে দুজনের যাবজ্জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক যুগ আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি করে পাচারের দায়ে দুজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। এই অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে তাদের। মঙ্গলবার ঢাকার তৃতীয় মানব পাচার দমন ট্রাইবুনালের বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার এই রায় দেন।

দণ্ডিতরা হলেন- গাজীপুরের বোর্ডবাজার কুনিয়াপাচু এলাকার ঝর্না বেগম এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চাঁনমারা বস্তির মানিক।

রায় শুনে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো দণ্ডিত মানিক কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঝর্না রয়েছেন পলাতক।

রায়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দারোয়ান আব্দুল মতিন এবং বিশেষ আয়া শিলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। শিলাও পলাতক।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ৬ জানুয়ারি খিলগাঁও এলাকায় ঝর্ণা বেগম ৮ থেকে ১০ দিন বয়সী ছেলে নবজাতকসহ আটক হন। ঝর্ণা বেগম তখন জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বীকার করেন, ওই বাচ্চা তার নয়। এ ছাড়া তার হেফাজতে আরও একটি কন্যা নবজাতক আছে রামপুরায়। তখন পুলিশ রামপুরা থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করে।

ঝর্ণা জানান, ছেলেশিশুটি তিনি নিয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মানিক মিয়ার কাছ থেকে। পরে মানিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর কন্যাশিশুটি তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দারোয়ান আবদুল মতিনের কাছ থেকে নিয়ে আসেন বলে পুলিশকে জানান।

তদন্ত শেষে খিলগাঁও থানার এসআই আবুল খায়ের ঝর্ণা বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের ২৬ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, নবজাতক দুটির প্রকৃত অভিভাবক পাওয়া যায়নি। মামলায় ১৫ জনের মধ্যে ৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

আসামি মানিক ও ঝর্ণা বেগম বাচ্চা দুটি চুরি করার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। ঝর্ণাকে গ্রেপ্তার করার পর আদালতকে পুলিশ এক প্রতিবেদন দিয়ে জানিয়েছিল, ঝর্ণা বেগম শিশু বাচ্চা সংগ্রহ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার করেন। দীর্ঘদিন তিনি দুবাইতে ছিলেন।

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
close
close