ঢাকা, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬ অাপডেট : ২৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৬

প্রিন্ট

শিক্ষার্থীর আত্মহত্যায় দুই শিক্ষিকার বিচার শুরু

অরিত্রীর আত্মহত্যা: দুই শিক্ষিকার বিচার শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যার প্ররোচনায় দেওয়ার অভিযোগের মামলায় দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগগঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক শুরু হলো বিচার কাজ। বুধবার দুপুরে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখাপ্রধান জিনাত আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে সাক্ষীর জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন ঠিক করেন।

এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে চার্জশিট দিয়েছেন আদালত তা গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে শ্রেণি-শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে অব্যাহতির আবেদনও আদালত মঞ্জুর করেন।

গত ২৮ মার্চ বিকেলে পল্টন থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক কাজী কামরুল ইসলাম চার্জশিট জমা দেন। একই সঙ্গে মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শ্রেণি-শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়।

বুধবার শুনানিতে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জানান। অন্যদিকে, বাদী পক্ষের আইনজীবী সবুজ বাড়ই এর বিরোধীতা করে চার্জগঠনের আবেদন জানান। আসামি পক্ষের আইনজীবী শুনানিতে বলেন, এ মামলায় প্রত্যক্ষ কোনো সাক্ষী নেই। এজাহারে বা চার্জশিটেও সেই বিষয়ে উল্লেখ নেই। তাই আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতির প্রার্থনা জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় শিক্ষার্থী অরিত্রী। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ভিকারুননিসার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।

ঘটনার পরদিন রাজধানীর পল্টন থানায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি-শিক্ষিকা হাসনা হেনার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী মামলা করেন।

মামলার এজাহারে অরিত্রীর আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে বলা হয়, অরিত্রীর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। ২ ডিসেম্বর (২০১৮) সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এ জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের (বাবা-মা) ডেকে পাঠায়। ৩ ডিসেম্বর স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, অরিত্রি মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের (টিসি) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ মেয়ের সামনে আমাকে (বাবা) অনেক অপমান করে। এই অপমান এবং পরীক্ষা দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে (অরিত্রী) আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়।

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close