ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৯, ১৫:১৬

প্রিন্ট

কারাগারে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন আইনজীবী পলাশ

কারাগারে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন আইনজীবী পলাশ
অনলাইন ডেস্ক

পঞ্চগড়ে কারাগারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে আইনজীবী পলাশ কুমার রায় আত্মহত্যা করেছিলেন। বিচার বিভাগীয় তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (২১ আগস্ট) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি জমা দেয়া হয়।

আদালতে এদিন প্রতিবেদনের অংশবিশেষ পড়ে শোনান রিট আবেদনকারী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। শুনানিতে আদালত বলেন, ‘অ্যাপারেন্টলি দিস ইজ দ্য কেস অব সুইসাইড’ (আপাতত এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে)।

সাংবাদিকদের সায়েদুল হক সুমন জানান, প্রতিবেদনে পলাশ কুমার রায় আত্মহত্যা করেছেন বলে তদন্ত কমিটি বলেছে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা লেগেছে তার ট্রিটমেন্ট করতে। তার ট্রিটমেন্ট শুরু করতে এই কারাগারে ওই কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। শুধু প্রক্রিয়া ও প্রসিডিউর মেন্টেইন করতে দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষ করতে ২৪ ঘণ্টা লেগেছে।

‘আদালত বলেছেন যে, যদি ২৪ ঘণ্টার কমে তার চিকিৎসা শুরু করা যেতো আমরা জানিনা সে বাঁচতো কিনা কিন্ত উচিত ছিলো আগুনে পোড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে জায়গায় চিকিৎসা করানোর দরকার ছিল। আগে চিকিৎসা পরে দাপ্তরিক কাজ।’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজি প্রিজন্সকে এ প্রতিবেদনের রিপ্লাই দিতে বলা হয়েছে। ওনাদের লিখিত জবাবের ওপর ১৫ অক্টোবর পরবর্তী আদেশের দিন ঠিক করেছেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো.বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

ব্যারিস্টার সুমনের এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৮ মে হাইকোর্ট আইনজীবী পলাশ কুমার রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে বিচারিক তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে রুল জারি করেন।

রুলে কারাগারে কারাবন্দিকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চান হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত, পঞ্চগড় জেলা কারাগারের টয়লেটে অগ্নিদগ্ধ পলাশ মারা যান গত ৩০ এপ্রিল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গত ২৫ মার্চ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ২৬ এপ্রিল কারাগারের অভ্যন্তরে পলাশ কুমার রায়কে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল এবং পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আইনজীবী পলাশ রায় মারা যাওয়ার ঘটনায় ব্যারিস্টার সুমন রিট আবেদন করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ৮ মে পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে বিচারিক তদন্ত করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সঙ্গে সঙ্গে রুলও জারি করেন আদালত।

জারি করা রুলে কারাগারে কারাবন্দিকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চান হাইকোর্ট। ওই আদেশ অনুযায়ী বিচারিক তদন্তের পর হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয় আজ।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবী পলাশ জেলার আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বড়সিংগিয়া গ্রামের প্রণব কুমার রায়ের ছেলে। তার বিরুদ্ধে একটি প্রতিষ্ঠানের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গত ২৫ মার্চ দুপুরে মানববন্ধন করার সময় প্রধানমন্ত্রীর নামে পলাশ কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। রাজীব রানা নামে এক তরুণ তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।

বিডি জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত