ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৩৮

প্রিন্ট

আদালতে যা বললেন নুসরাতের মা-ভাই

আদালতে যা বললেন নুসরাতের মা-ভাই
ফেনী প্রতিনিধি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন নুসরাতের মা ও ভাই। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেন। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আক্তার জবানবন্দিতে বলেন, গত ২৭ মার্চ আমার মেয়ে নুসরাতসহ সোনাগাজী থানায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাই। তখন ওসি মোয়াজ্জেম আমার মেয়ের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। ওসির রুমে আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। রুম থেকে বের হয়ে নুসরাত বলে, ‘আমার নেকাব খুলে ওসি জবানবন্দি ভিডিও করেছে।’

জবানবন্দিতে নুসরাতের ছোট ভাই রাসেদুল হাসান রায়হান বলেন, গত ২৭ মার্চ আমাদের বাইরে রেখে নুসরাতকে ওসির রুমে নিয়ে যায়। রুম থেকে বের হয়ে নুসরাত বলে, ওসি তাকে আপত্তিকর কথা বলেছে। পরবর্তীতে ১২ এপ্রিল ফেসবুকে এই ভিডিওটি দেখতে পাই। জবানবন্দি শেষে ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী ফারুক আহমেদ জেরা করেন।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর এ মামলায় যে দুইজন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তারা হলেন- অ্যাডভোকেট সবির নন্দী দাশ ও অ্যাডভোকেট সহকারী গোবিন্দ চন্দ দেব। গত ২০ আগস্ট একই আদালতে ব্যারিস্টার সুমনকে জেরা করেন সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবীরা।

মোয়াজ্জেম হোসেনের অব্যাহতির আবেদনে বলা হয়, বাদী ক্ষতিগ্রস্ত নন। এছাড়া মামলায় ঘটনার সময় এবং ভিডিও ধারণের সময় উল্লেখ নেই। আসামি মোয়াজ্জেম হোসেনের মোবাইল থেকে তা প্রচার করা হয়নি। তবে ভিডিও করা হয়েছে। পরে তা থানা থেকে চুরি হয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই মামলায় নুসরাতের বক্তব্য গ্রহণের সময় তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে।

৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতকে কৌশলে একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। এর ৫ দিন পর ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান।

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে ‘অসম্মানজনক’ কথা বলায় ও তার জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ১৫ এপ্রিল সাইবার ট্রাইব্যুনালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে তদন্ত করে ৩০ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ২৭ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানার পক্ষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। একইদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করেন আদালত। ওইদিনই তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বাদীসহ ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে সোনাগাজী থানার চার পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত