ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ২০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২০, ২০:০২

প্রিন্ট

এক বিকেলে রসুলপুর

এক বিকেলে রসুলপুর
নিলুফা খানম

সারাদিনের ক্লান্তিশেষে পড়ন্ত বিকেলে সবারই ইচ্ছে করে মনটাকে ফুরফুরে করে তুলতে। মনকে প্রাণবন্ত ও চাঙ্গা করে তুলতে ঘুরে বেড়ানোর বিকল্প হতে পারে না। শত ব্যস্ততার মাঝেও কার না ভালো লাগে একটু ঘুরে বেড়াতে? মনের প্রফুল্লতা অর্জনের জন্য দেখে আসতে পারেন নীলসাদা আকাশ আর তিতাসের জলরাশি। জায়গাটা তিতাস বিধৌত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রসুলপুর।

এক বিকেলে আমিও গিয়েছিলাম ঘুরে বেড়াতে রসুলপুর। তিতাসপারের মনোমুগ্ধকর খোলা হাওয়ায় জলরাশির স্রোতে নিজেকে ভাসাতে। সঙ্গে ছিলো আমার ভাই, ভাগ্নি ও স্বামী। সবাইকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা।

আমরা পড়ন্ত বিকালে তিতাসের বুকে নৌকায় করে ঘুরে বেড়িয়েছি। আকাশের ডুবন্ত সূর্যের লাল আভাকে মনে হয়েছে নদীর বুকে রক্তের স্রোত। সে কী যে মনোমুগ্ধকর অপরূপ দৃশ্য আমার মনকে আন্দোলিত করেছে। নৌকায় বসে রসুলপুরের প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে মনে হয়েছে, আমি নীলসাদা আকাশ আর তিতাসের জলরাশি নদীর বুকে ডুবন্ত সূর্যের লাল আভায় ভেসে বেড়াচ্ছি। মনে হয়েছে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।

আরেকটা মজার কথা না বললেই নয়! সেটা হলো, আমার স্বামী সাঁতার জানে না। অথচ সে এই রসুলপুরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আমাদের সাথে নৌকা ভ্রমণে অংশ নেয়। নৌকায় বসে সে রীতিমতো মনের আনন্দে গান গায়। অবশেষে আমার ছোট ভাইকে ধন্যবাদ জানায় এত সুন্দর একটা ভ্রমণ আর সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে নিয়ে আসার জন্য।

নৌকায় উঠানামার অভিজ্ঞতা অর্জন, নদীর ঢেউয়ের সাথে তাল মিলিয়ে স্রোতের ধারায় গা ভাসানোর যে আনন্দ তা রসুলপুর না গেলে হয়তো জানা হতো না।

আপনারাও মনের প্রশান্তির জন্য এই বর্ষার মৌসুমে একবার হলেও ঘুরে আসতে পারেন রসুলপুরে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার অন্তর্ভুক্ত বিজেশ্বরে রসুলপুর ও তিতাস নদী অবস্থিত।

এ ক্ষণস্থায়ী জীবনকে উপভোগ করতে হলে প্রকৃতির কাছে যেতে হবে। প্রকৃতি যত দ্রুত আমাদের মনে প্রশান্তি এনে দেয় তা আর কিছুতেই সম্ভব নয়। তাই জীবনের কিছুটা অংশ থাক না রাখা ভ্রমণের জন্য।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত