ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

জাপানের লোকজ ঐতিহ্য ধান কাটা উৎসব

  ফিচার ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ১৫:৫৯  
আপডেট :
 ১৭ নভেম্বর ২০২০, ১৭:৪০

জাপানের লোকজ ঐতিহ্য ধান কাটা উৎসব

ফিচার ডেস্ক

দেশের আদিমতম উৎসবগুলোর একটি ‘নবান্ন উৎসব’। বাংলার মাস কার্তিক পেরিয়ে অগ্রহায়ণ। নীরবে আবির্ভাব ঘটে এই অগ্রহায়ণের। এ মাসেই ফসলের খেতে সোনালি হাসি ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাতাসে উড়ে বেড়ায় নবান্নের ঘ্রাণ আর ফুলের সৌরভ। এর সঙ্গে প্রকৃতিতে পাওয়া যায় হিমেলের ছোঁয়া। সকাল-সন্ধ্যায় দেখা মেলে হেমন্তের মৃদু কুয়াশার। অগ্রহায়ণের এই সময়ে আমাদের দেশে গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান হলো নবান্নের উৎসব। আর এই ধান কাটা বা নবান্ন উৎসব প্রসঙ্গে জাপানের একটি অনিন্দ্যসুন্দর ধান কাটার উৎসবের কথা লিখেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ, গবেষক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবুল বাশার। বাংলাদেশ জার্নালের পাঠকদের কাছে তা তুলে ধরা হলো-

জাপানের কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডক্টরেট পর্যায়ের গবেষণাকালে আমি একটি ধানকাটা উৎসবে যোগ দিয়েছিলাম। অসম্ভব জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানে গিয়ে আমি মুগ্ধ হয়েছি আর ভেবেছি আমাদের সরকার যদি এমন ধানকাটা উৎসবের আয়োজন করত তাহলে কৃষকের কত উপকার হতো। পাঠক চলুন জেনে নেই কী সেই জাপানিজ ধান কাটার উৎসব।

জাপানের কিছু কিছু অঞ্চলে একটি লোকজ ঐতিহ্য রয়েছে, সেটি হলো ধান কাটা উৎসব। এই ধান কাটা উৎসবে জাপানি ছেলে মেয়েদের বিয়ের অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। জাপানের নগর সরকার (বাংলাদেশে আমরা জেলা বোঝাতে পারি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করে স্থানীয় নগর সরকার। স্থানীয় নগর সরকার প্রতিবছর সেপ্টেম্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আগে থেকেই তাদের ওয়েবসাইটে অনুষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন দেয়া থাকে এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এই অনুষ্ঠানের প্রচার-প্রচারণা চলে। কারা কারা এই অনুষ্ঠানে যোগদান করবে, তাদের আগে থেকেই রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। কাদের বিয়ে অনুষ্ঠানে সম্পন্ন হবে, তাদেরও আগে থেকেই ঠিক করা হয়ে থাকে। ধান কাটার ক্ষেত এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। অনুষ্ঠান আয়োজনস্থলে সিমসাম বিয়ের প্যান্ডেল তৈরি করা হয় এবং বিয়ের সমস্ত আয়োজন সেখানে থাকে। গ্রামীণ গানবাজনা, হালকা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও থাকে।

আমরা যখন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলাম, তখন সঙ্গে সঙ্গে আমাদের হাতে ধান কাটার কাঁচি, গামবুট এবং হ্যান্ড গ্লাভস দিয়ে দেয়া হলো। ধানক্ষেতের পাশে গিয়ে আমাদের জিজ্ঞেস করা হলো, কে কতটুকু ধান কাটতে চান। একেকটি গ্রুপকে একেকটি ছোট্ট প্লট বরাদ্দ দেয়া হলো। ওই জায়গাটুকু ধান কেটে আমাদের আঁটি বেঁধে রেখে আসতে হলো। ধান কাটা শেষে ফেরার পথে নতুন বউ ও বর নতুন ধান হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে অভিনন্দন জানায় কিষাণিদের।

এখানে একটি মজার রেওয়াজ আছে। ধান কাটা শেষ করে যারা ফিরবেন, তাদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি কারো কারো হাতে নতুন বউ ধান তুলে দেবেন। কিন্তু বউ সবাইকে ধান দেবেন না। যে ব্যক্তি নতুন বউয়ের হাত থেকে ধান পাবেন, তাকে জাপানের লোকজ সংস্কৃতি অনুযায়ী ভাগ্যবান হিসেবে ধরে নেয়া হয়। ধান কাটা ও বিয়ের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য সামান্য খাবারের আয়োজন থাকে, তবে সেটি খুব বেশি নয়। অনাড়ম্বর এই অনুষ্ঠানে বিয়ে হয় গ্রামীণ যুবক-যুবতীদের আর ধান কাটা হয়ে যায় কৃষকের। সঙ্গে বিকশিত হয় দেশের পর্যটন খাত।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে ধান কাটাকে আমরা এমনই উৎসবে রূপান্তর করতে পারি না? এই উৎসবের মাধ্যমে গ্রামের অনেক ছেলেমেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন হয়ে যাবে, ঘরে উঠে যাবে কৃষকের ধান। স্মরণীয় হয়ে থাকবে ধান কাটা ও বিয়ের অনুষ্ঠান। বিকশিত হবে দেশের পর্যটন খাত। বাংলাদেশের জেলা প্রশাসকগণ সম্মানিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত