ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ৪ মিনিট আগে

চেরি ফুলের দেশে

  -শাহজাহান সরদার

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:৩৫

চেরি ফুলের দেশে

-শাহজাহান সরদার

১১. এন এইচ কে

সিনঝুকি থেকে সাবওয়ে দিয়ে সিনজুয়া এসে দুপুরের খাবার সেরে নিই। সেখান থেকে পাঁচ মিনিটের পথ হেঁটে ঘঐক ভবনে পৌঁছি। আমাদের সাথে গাইড আছেন এফপিসির ইনুসান। এন এইচ কে জাপান ব্রডকাস্টিং অ্যাসোসিয়েশন বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ জাপান সম্প্রচার কর্তৃপক্ষ। রেডিও এবং টেলিভিশন কেন্দ্র। ঘঐক-এর জাপানি উচ্চারণ হচ্ছে নাইহন হোসো কিওকাই নাইহনকে নিপ্পনও বলা হয়। এনএইচকে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। ১২ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নর দ্বারা পরিচালিত। প্রধানমন্ত্রী জাপানি ডায়েটের অনুমোদন সাপেক্ষে বোর্ড অব গভর্নর সদস্যদের মনোনয়ন দিয়ে থাকেন। বাজেট ও অনুষ্ঠানসূচি তৈরিসহ ব্যবস্থাপনার সব দায়িত্ব বোর্ড পালন করে থাকে। বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং বাজেট অবশ্যই সংসদে উপস্থাপন এবং অনুমোদন করাতে হয়। এনএইচকের সাথে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বিশে^র ১৪০টি টেলিভিশন ও ২২টি রেডিওর সাথে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। টোকিও, লন্ডন, নিউইয়র্কে তিনটি জেনারেল ব্যুরো অফিস। ব্যাংকক, চীন, সিউল, সিডনি, প্যারিস, বার্লিন, মস্কো, ওয়াশিংটন ডিসিতে ব্যুরো অফিস রয়েছে। এ ছাড়া ১৫টি দেশে এনএইচকে-এর অফিস আছে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আছে নিজস্ব প্রতিনিধি।

১৯২৫ সালের ২২ মার্চ থেকে রেডিও অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে ঘঐক যাত্রা শুরু করে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রচারসহ সর্বশেষ ১৯৯১ সালের নভেম্বর থেকে দৈনিক আট ঘণ্টার হাই ভিশন অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হয়। প্রচারমাধ্যম ছাড়াও তাদের আরো ৩১টি ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। জাপান রেডিও তখন বিশে^র বিভিন্ন দেশের ২২টি ভাষায় দৈনিক ৫২ ঘণ্টার অনুষ্ঠান প্রচার করছিল। এর মধ্যে বাংলা ভাষায় বাংলাদেশের জন্য সকাল সাড়ে ৭টা এবং রাত সাড়ে ৮টায় আধা ঘন্টা করে এক ঘণ্টার অনুষ্ঠান।

বিশ্বের ব্যস্ততম টোকিও শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে এনএইচকে ভবন অবস্থিত। বিশাল ভবন। আমাদের স্বাগত জানালেন আন্তর্জাতিক বিভাগের উপ-পরিচালক প্রথম এনএইচকে’র গঠন প্রকৃতি এবং কার্যপ্রণালীর ওপর আধা ঘণ্টার ভিডিও প্রদর্শনের পরে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় সিনেমা হলের মতো একটি হলে। নব আবিষ্কার হাই ভিশন দেখানো হয় আধা ঘণ্টা। সেখান থেকে ঘুরিয়ে ভবন দেখানো। আমাদের কয়েকটি শুটিং রুমেও নিয়ে যাওয়া হয়। তখন শুটিং চলছিল। ছোটদের জন্য নির্মিতব্য একটি সিরিয়াল ছবির শুটিং বেশ কিছুক্ষণ আমরা দেখি। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে রঙিন ছবি তৈরি করা হয়। শিক্ষামূলক, বিজ্ঞান এবং ছোটদের ছবিই বেশি। শুটিংয়ে পরিচয় হলো বেশ কয়েকজন শিল্পীর সাথে। আমাদের চায়ে আপ্যায়িত করলেন একজন শিল্পী। শুটিং কক্ষগুলো ঘুরে আমরা রেডিওর বিভিন্ন বিভাগ ঘুরতে গেলাম। ভবনের ষষ্ঠ তলায় রেডিও জাপানের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষা-ভাষীদের অনুষ্ঠান প্রচার কেন্দ্র। একটি বড় হল রুমে বিভাগগুলোর আলাদা অফিস। প্রত্যেক বিভাগের দায়িত্বে একজন জাপানি। আর দুই তিনজন আছে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে আসা। বিদেশিরা দু-তিন বছরের জন্য চুক্তিতে কাজ করেন। খুঁজতে খুঁজতে আমি বাংলা বিভাগ পেয়ে গেলাম। এ বিভাগে একজন জাপানি, একজন বাঙালি ছেলে ও একজন মেয়েকে দেখতে পেয়ে আমি এগিয়ে যাই। কথা বলি বাঙালি ছেলেটির সঙ্গে। পরিচয় দিতেই ভীষণ আন্তরিকতা দেখালেন। বসতে বললেন। আমার সময় কম। সময় বেঁধে দেয়া আছে। একটু দেরি হলেই সমস্যা। তাড়াহুড়ো করে কথা বললাম। আমার একটা ভিজিটিং কার্ড এবং হোটেলের ঠিকানা চেয়ে রাখল বাঙালি ছেলেটি। অল্প সময়ে যা কথা হলো, তাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলাম। কেননা, এর আগে গত ১০ দিনেও একটা বাংলা শব্দ বলতে পরিনি। প্রথম একজন বাঙালির সাথে দেখা হলো।

রেডিও জাপানে তখন কর্মরত এ বাঙালি ছিলেন বদরুল আলম (রিয়াদ)। তাঁর পদটি হচ্ছে ভাষা বিশেষজ্ঞ। কিন্তু কাজ করেন বাংলা ঘোষক ও অনুষ্ঠান সংগঠক হিসেবে। তার সাথে পশ্চিম বাংলার এক বাঙালি মহিলাও আছেন। তিনিও কাজ করেন। বাংলা ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচারের দায়িত্বে আছেন জাপানি নাগরিক। তিনিই সব দেখাশুনা করেন। ভদ্রলোক খুবই মিশুক। সুন্দর বাংলা বরতে পারেন মি. ডধঃধহধনষব জানতে চাইলেন, আমি কতদিন আছি। তিনি বললেন, রেডিও জাপানের জন্য তিনি আমার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে চান। আমি জানালাম কালই আমি চলে যাচ্ছি টোকিওর বাইরে। ১০ দিন পর টোকিও ফিরে এলে তিনি যেন যোগাযোগ করেন। তিনি রাজি হলেন। ১০ দিন পর টোকিও ফিরে এলে তিনি এবং বদরুল ঠিকই যোগাযোগ করে আমার হোটেল কক্ষে জাপানের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। যেদিন ঘঐক-তে সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হয়, সেদিন আমি টোকিও থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। সে সময় আমি বিমানে ছিলাম। তাই শুনতে পারিনি। এনএইচকে সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য আমাকে একটি ক্যামেরা উপহার দেয়। বদরুল এর সাথে এরপরও কয়েক দিন কথা হয়েছে। জাপান থাকার সময় তাদের আন্তরিকতা ভোলার নয়। বদরুল কয়েক দিন বলেছে জাপানে অনেক বাঙালি এসে এমন সব কাজকর্ম করে যার জন্য লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়। চলবে...

আগের পর্ব পড়ুন

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত