ঢাকা, রোববার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫:৩৭

প্রিন্ট

ভেনিসে সোনার পাত তৈরির ঐতিহ্য

ভেনিসে সোনার পাত তৈরির ঐতিহ্য
প্রতীকী ছবি

ইতিহাস-ঐতিহ্য ডেস্ক

হাজার বছর আগে ভেনিসের স্বর্ণকাররা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে সোনার পাত তৈরি করতেন। এখন মেশিনের যুগ চলে আসায় সেই ঐতিহ্য প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে অল্প কয়েকটি পরিবার ঐতিহ্যটা ধরে রেখেছে।

ভেনিসে যা চকচক করে তার অনেকখানিই সোনা। গত কয়েক শতকে মূল্যবান এই ধাতু দিয়ে সম্পদ গড়েছে ভেনিস। তবে এখন সেখানে খালি হাতে কাজ করা স্বর্ণকারের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

‘মারিও ব্যার্তা বাত্তিলোরো’ নামে মেনেগাস্সো পরিবার এখনো সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। মারিনো মেনেগাস্সো বলেন, ‘এই কাজের জন্য আপনার অনেক শক্তির প্রয়োজন নেই। একটু কৌশল করতে হয়। কৌশল ভালো হলে পরিশ্রম কম হয়। এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সোনার পাত কতখানি পাতলা করতে হবে তার উপর নির্ভর করে ৫০ মিনিট থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত আপনাকে হাতুড়িপেটার কাজটি করতে হয়।’

২৪ ক্যারেটের খাঁটি সোনা এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় গলিয়ে একটি ছোট্ট সোনার বার তৈরি করা হয়, যার দাম প্রায় ছয় হাজার ইউরো হতে পারে।

মারিনো মেনেগাস্সো জানান, ১২০ গ্রাম ওজনের একটা ছোট্ট সোনার বার থেকে পুরুত্বভেদে এক থেকে ছয় হাজার সোনার পাত তৈরি করা যায়।

প্রথমে সোনার বারকে এমন রোলারের মধ্যে কয়েকবার ঢুকিয়ে পাতলা করা হয়। এভাবে বেল্টের মতো একটি জিনিস পাওয়া যায়। সোনার পাতগুলোকে হাতুড়িপেটা করার আগে পার্চমেন্ট কাগজের মধ্যে আলাদা করে রাখছেন সারা মেনেগাস্সো।

সারা মেনেগাস্সো বলেন, ‘একেকটা প্যাকেটে ৩৩০টি পাত থাকে। প্রথমে মেশিনের নীচে এগুলো ফেলা হয়, তারপর চার ভাগ করা হয়। এবং তারপর হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়।’

এক হাজার বছর আগে ভেনিসে এভাবে সোনার পাত বানানো হতো। সেই সময় মেশিন ছিল না, ছিল শুধু বিভিন্ন ধরনের হাতুড়ি।

হাতুড়িপেটা করে এমন হাজার হাজার সোনার পাত তৈরি করা হয়। একেকটি পাতের ওজন একটি চুলের মতো। এলেনোরা মেনেগাস্সোর আশা, এমন কাজের ঐতিহ্য পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্তও টিকে থাকবে।

এলেনোরা মেনেগাস্সো বলেন, ‘এভাবে কাজ করার ঐতিহ্যটা প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে, যা কষ্টকর। এই ভালো জিনিসটা যে হারিয়ে যাচ্ছে, সেটা ঠিক হচ্ছে না।’

সোনার পাত দিয়ে গিলটি করেন এলিজাবেত্তা মাসন। এজন্য তিনি মেনেগাস্সো পরিবারের তৈরি সোনার পাত ব্যবহার করেন। এমন পাত দিয়ে কাজ করতে অনেক ধৈর্য্য লাগে। সামান্য হাওয়ায়ও কাজটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এলিজাবেত্তা মাসন বলেন, ‘কারখানায় তৈরি সোনার পাত আর হাতে তৈরি পাতের মধ্যে অনেক পার্থক্য। কারখানায় তৈরি পাত অনেক বেশি পাতলা হয়। ফলে সহজে ভেঙে যায়। সেগুলো দিয়ে কাজ করা কঠিন। কারখানায় তৈরি পাত দিয়ে করা কাজ, হাতে তৈরি পাত দিয়ে করা কাজের মতো দেখতে সুন্দর হয় না।’

ভেনিসের সেন্ট মার্কস কাম্পানিলের শীর্ষে থাকা অ্যাঞ্জেল সংস্কারে মেনেগাস্সো পরিবারের হাতে তৈরি সোনার পাত ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে এখনো ঐতিহ্যবাহী কাজ ভেনিসের ঔজ্জ্বল্য বাড়াচ্ছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত