ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫ অাপডেট : ৪৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৪:০৭

প্রিন্ট

ব্যর্থতার জন্য কে দায়ী, আমরা নাকি সময়?

ব্যর্থতার জন্য কে দায়ী, আমরা নাকি সময়?
নৌশিন আহম্মেদ মনিরা

আমাদের মধ্যে খুব কম মানুষেই আছে যারা তাদের সময় সর্ম্পকে সচেতন। আর বাকি মানুষগুলো কোন না কোনভাবে সময় অপচয় করতেছে। যা তারা প্রতিদিন এবং বার বার করতেছে। কিন্তু আমাদের হুশ তখনি ফেরে যখন সময়টা পার হয়ে যায়। যার ফলে অনেক শোচনীয় অবস্থা আমাদের সহ্য করে নিতে হয় নিরবে। জীবনে নেমে আসে ব্যর্থতার গ্লানি, ডুবতে শুরু করি হতাশায়, জীবন সর্ম্পকে তৈরি হয় চরম অনিহা।

কিন্তু এসব কেন হয় জানেন কি? এগুলো হলো সময় অপচয়ের ফল। আসলে আমরা খুব ব্যস্ত মানুষ। কিছু করার মত সময় আমাদের থাকে না। প্রতিটি মানুষ ছোট থেকে কত স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়, এই করবে, সেই করবে কিন্তু এক পর্যায় এসে দেখা যায় কিছুই করা হলো না।

তবে এতো বছর কি করলাম আমি? নিজেকে প্রশ্ন করুন, উত্তর পেয়ে যাবেন। সেটা হলো সময়কে অবহেলা। তবে এই দোষটি কার, আমাদের নাকি সময়ের? এই সমস্যা কি আমরা সৃষ্টি করেছি নাকি সময়?

চলুন ছোট একটি প্রমাণ দেখে নেই----

ধরুন আপনাকে আপনার বাবা বললেন আপনি যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পান তবে আপনাকে একটি স্মার্ট ফোন কিনে দেবে। এখন আপনি কি করবেন? বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেবেন নাকি পড়াশুনা শুরু করবেন? অবশ্যই আপনি পড়ালেখায় মনোযোগ দিবেন। তখন আপনার কাছে চান্স পাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাবে কেননা তার জন্য আপনি পাচ্ছেন একটি স্মার্ট ফোন। আচ্ছা তখন আপনি পড়ার জন্য সময় কোথায় পাবেন যা আপনি এখন পাচ্ছেন না? এর দুটি কারণ হতে পারে,

১. আপনি সময়কে সঠিক ব্যবহার করতে না পারা।

২. আপনি আপনার লক্ষ্যকে হেয় করে দেখতেন।

আসলে আমরা সেটাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়, যেটায় আমাদের মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, আর সেটাকেই লক্ষ্য মনে করি। আসুন প্রমাণস্বরুপ একটি উদাহরণ দেখে নেই।

ধরুন, কলেজে যওয়ার সময় রাস্তা দিয়ে হাটতে গিয়ে আপনার পায়ে ব্যথা পেয়েছেন, কিন্তু ওদিকে আজ আপনার একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস ছিল, আপনি ব্যথা পেয়ে যেভাবে হাটছেন তাতে ক্লাসে যেতে ১০ মিনিট সময় লাগবে কিন্তু ক্লাস শুরু হতে ৫ মিনিট বাকি একটু জোরে হাটলে হয়তো ক্লাসটা পেতেন কিন্তু আপনি মিস করলেন।

অপরদিকে, আপনার কলেজে দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে সেখানে যে প্রথম হবে তাকে দশ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে, এখন আপনি নিশ্চয়ই প্রথম হতে চাইবেন আর তার জন্য শরীরের সব শক্তি দিয়ে দৌড়াতে চেষ্টা করবেন। বিচারকদের দেয়া সীমানা ভেদ করাই এখন আপনার একমাত্র লক্ষ্য। দৌড় দিলেন আপনি বিজয়ীও হলেন আর পেলেন দশ হাজার টাকা। এখানে পায়ের ব্যথা কিন্তু আপনাকে বাধা প্রদান করতে পারেনি।

জীবনে কিছু করতে গেলে আগে আমি কি চাই, আমার মন কোন কাজটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে? সেটা আগে ঠিক করতে হবে তবেই সময়কে কাজে লাগাতে পারবেন। আপনার কাজটি শেষ না হওয়া অবদি শান্তি পাবেন না। আর তখন আপনার সময়ের অভাব হবে না।

সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে সময় আপনাকে ব্যর্থতা বা হতাশা নয় সফলতা উপহার দেবে। নিজের লক্ষ্য ঠিক করে, আপনার কাজ অনুসারে সময়কে ভাগ করে নিন নিশ্চয়ই সময় আপনার অনুকূলে আসবে।

মনে রাখবেন, জীবনের প্রতিটি কাজ-ই খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু বড় কাজ নয়, ছোট ছোট কাজকেও মূল্যায়ন করুন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close