ঢাকা, সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ অাপডেট : ৩১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:০৬

প্রিন্ট

‘বাঙালি মেয়েরা শাড়ি কিনে, আমি টিকিট কিনি’

‘বাঙালি মেয়েরা শাড়ি কিনে, আমি টিকিট কিনি’
নিজস্ব প্রতিবেদক

কাজী আসমা আজমেরী, যিনি মাত্র নয় বছরে ১০০ দেশ ভ্রমণ করেছেন। আজমেরী সুইডেন প্রবাসী। সম্ভবত তিনিই বাংলাদেশের প্রথম কোনো নারী, যিনি বিশ্বের এত দেশ সফর করেছেন।

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের উন্নত গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বাঙালি মেয়েরা সবসময় শাড়ি বা অলঙ্কার কিনতে পছন্দ করে, কিন্তু আমি সবসময় টিকিট কিনতে পছন্দ করি।’

কাজী আসমা আজমেরী বলেন, ‘আমি আমার অলঙ্কার বিক্রি করে ভ্রমণের যাত্রা শুরু করি। কারণ অলঙ্কার পরায় আমার কোনো লাভ হবে না। আমি মনে করি ভ্রমণ একটি বিনিয়োগ এবং জ্ঞান লাভ হয়। যার মাধ্যমে আপনি সবকিছু শিখতে পারেন। যা আপনি পড়ার চেয়ে ভ্রমণ করে আরও বেশি শিখতে পারেন।

তিনি বলেন, আমি ভ্রমণ করছি। পৃথিবী দেখছি। তবে আমার দেশ আমার সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে এ পতাকার মাধ্যমে। এর মাধ্যমে পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি শান্তির বার্তা। আমরা একই পৃথিবীর মানুষ। ধর্ম, বর্ণ, জাতি যাই হোক না কেন, আমরা সবাই বসবাস করছি একই আকাশের নিচে।

শ্রোতাদের সাথে তার অভিজ্ঞতা ভাগ করে আজমেরী বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশি হওয়ার জন্য এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট বহন করার জন্য ভ্রমণের সময় বিভিন্ন জায়গায় অনেক কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল এবং অবহেলার মুখোমুখি হয়েছি। ইউরোপীয় বা অন্যান্য উন্নত দেশের মানুষ আমাদের চেয়ে অর্ধেক টাকা খরচ করে বিশ্বের সর্বত্র বেশি আতিথেয়তা পেয়ে থাকেন।

এরই মধ্যে আজমেরী জাতিসংঘের স্বীকৃত ১৯৩টি দেশের মধ্যে ১১০টি দেশ সফর করে ফেলেছেন। সফরকালে তিনি সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন বাংলাদেশের পতাকা। এখনও যেসব দেশ বাকি রয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব সেগুলোও দেখে ফেলতে চান। কাজী আসমা আজমেরী বলেন, ‘আমি সর্বদা বাংলাদেশি পাসপোর্ট বহন করি যাতে মানুষ আমাকে এবং আমার দেশ জানতে পারে এবং আমি এটা করতে পেরে গর্ব বোধ করি।’

আজমেরী বলেন, পৃথিবীতে অর্ধেক নারীর অবদান রয়েছে- এ কথাটি বাস্তবে রূপ দিতে পুরো পৃথিবী ভ্রমণের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। অনুষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থী পড়ালেখার পাশাপাশি কীভাবে স্বল্প খরচে দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করতে পারে সেসব বিষয়ে নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, শৈশবে বই পড়তে পড়তেই তার ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। ভ্রমণ কাহিনীসহ নানা বই পড়ার সময় তার মনে হতো, তিনি যেন সেখানে চলে গেছেন। ওই গল্পের ভেতরে হারিয়ে যেতেন তিনি নিজেও। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি দেশে প্রবেশের পরই আমি মিউজিয়াম দেখি। কারণ আমার বাবা বলেছেন, মিউজিয়াম দেখলে সে দেশের প্রাচীন ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা যাবে।

আজমেরী জানান, রোটারি ইন্টারন্যাশনালের একজন স্বেচ্ছাসেবক হয়ে তিনি বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করেন। বিশেষ করে শিশুদের অধিকার ও উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সোসাইটি (ডিউআরএস) সেমিনারের আয়োজন করে। ডিআরএসের সভাপতি সাইফুল্লাহ সাদেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে সামাজিক বিজ্ঞানে উন্নত গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র গবেষক কাজী সামিও সিস, বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জাকির হোসেন বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত