সাজেক ভ্যালি: মেঘ-পাহাড়ের মিতালী যেখানে

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  জার্নাল ডেস্ক

ফাইল ছবি

সাজেক ভ্যালিকে বাংলাদেশের দার্জিলিং বলা হয়। মেঘে মেঘে আচ্ছাদন এর পুরো এলাকা জুড়ে। পুরো ২৪ ঘণ্টায় দেখা মেলে তিনটি আবহের। কখনো প্রচণ্ড গরম, কিছুক্ষণ বাদে বৃষ্টি। বৃষ্টির পরে মেঘের খেলা। অপরূপ রূপে রূপবতী এই সাজেক ভ্যালি।

সারাদিন মেঘের সাথে পাহাড় এখানে খেলা করে। প্রকৃতি রাজ্যে পাহাড়-মেঘের মিতালীর এই অপরুপ তুলনাহীন। সকালে কটেজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখা যায় নিচে দূরের পাহাড়গুলো সাদা মেঘের ভীড়ে হারিয়ে গেছে। সকালে সূর্য ওঠার দৃশ্যটাও এখানে অসাধারণ লাগে। বিষন্ন নিরবতার মাঝে পাহাড়ের বুক চিড়ে ওঠে আসে সূর্য।

সাজেক ভ্যালি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭০০ ফিট উপরে। রুইলুই এবং কংলাক এ দুই পাড়া নিয়েই মূলত সাজেক। ১৭০০ ফিট উপরে পাহাড়র ঘেঁষেই কটেজগুলা দাঁড়িয়ে। এখান থেকেই গোধূলি, মিষ্টি ভোর কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত আকাশ আর মেঘ উপভোগ করা যায়। সাজেকের পাশের ভারতের মিজোরাম। কংলাক পাড়া এই প্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু পাড়া। এটি প্রায় ১৮০০ ফিট উপরে। রুইলুই পাড়া থেকে কংলাক পাড়ায় যাওয়ার জন্য ৩০-৩৫ মিনিট ট্র্যাকিং করতে হয়। তাই পায়ে হেটেই যতে হয়। সবচেয়ে জাদুকরী দৃশ্য হচ্ছে কংলাক পাড়ার উপরে দৃশ্য। একদিকে মেঘের সাড়াশি দৃশ্য অপর পাশে ভারতের মিজোরামের অসম্ভব সুন্দর পাহাড়। সত্যিই অসাধারণ।

সাজেক ভ্যালিতে থাকার জায়গাগুলো যেমন বৈচিত্র্যময় তেমনি বৈচিত্র্যময় পাহাড়ি খাবারও। খাবারগুলো পর্যটকদের অভিভূত না করে পারে না। বিশেষ করে বেম্বো চিকেন এবং বেম্বো টি এখানে বাড়তি আকর্ষণ। বেম্বো চিকেন পাহাড়ি বাঁশের মধ্যে মশলা-চিকেন একসাথে মাখিয়ে দিয়ে আগুনে বাঁশ পুড়িয়ে বিশেষভাবে রান্না করা হয়। বেম্বো চিকেনের স্বাদ একটু ভিন্ন। স্বাদে-গন্ধে অবশ্যই বৈচিত্র্যময়। একইভাবে বেম্বো টি পান না করলে সাজেক ভ্রমণ অপূর্ণ থেকে যায়। 

সাজেকে যা দেখবেন

সাজেকের আসল সৌন্দর্য সন্ধ্যার পর। তখন মেঘমুক্ত নীলাকাশ একটু একটু করে অন্ধকারে আচ্ছন্ন যায়। আর মিটিমিটি করে জ্বলে উঠে একটি দুটি তারা। কিছুক্ষণের মধ্যে একটি দুটি থেকে সহস্র তারা চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে উঠবে। এরকম তারা ভরা আকাশ জীবনে কখনও দেখেননি হয়তো।

সেটাই হতে পারে আপনার সাজেক ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আনন্দ। এমনকি যারা এখনও মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ দেখেননি তারাও সাজেক ভ্যালিত এসে জীবনে প্রথমবারের মতো দেখা পেতে পারেন মহাবিশ্বে আমাদের আশ্রয়স্থল আকাশগঙ্গার।

ভোরে সূর্যোদয় দেখতে চাইলে হ্যালি প্যাডে চলে যাবেন অবশ্যই। সেজন্য উঠতে হবে খুব ভোরে। আর চলে যেতে হবে এক বা দুই নম্বর হ্যালি প্যাডে। সাজেকে সূর্যোদয়ের সময় সোনালি আভা সাদা মেঘের ওপর যখন ঠিকরে পড়ে তখন অসাধারণ এক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

যেভাবে যাবেন সাজেক

ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি রুটে শ্যামলী, হানিফ, এস আলম, সৌদিয়া ও শান্তি পরিবহনের বাস চলাচল করে। গাবতলি, কলাবাগানসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে পরিবহনগুলোর কাউন্টার। ঢাকা থেকে বাস ছেড়ে চট্টগ্রাম রোড হয়ে কুমিল্লা, ফেনী হয়ে চট্টগ্রামের মিরসরাই দিয়ে খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছায়। এতে সময় লাগে ৮ ঘণ্টার মতো।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকে যেতে হবে খোলা জিপে করে। স্থানীয়দের কাছে এটি চান্দের গাড়ি নামেই পরিচিত। দুই দিনের জন্য ভাড়া করলে আপনাকে গুনতে হবে ৬৫০০-১০,০০০ টাকা। চান্দের গাড়িতে আসন সংখ্যা ১২টি। সাজেক যেতে প্রথমে যেতে হবে দীঘিনালায়। দীঘিনালা নেমে আধা ঘণ্টার জন্য ঘুরে আসতে পারেন হাজাছড়া ঝর্ণা থেকে। সঙ্গে সেরে নিতে পারেন গোসলটাও। কারণ সাজেকে পানির বড্ড অভাব।

দীঘিনালা থেকে সেনাবাহিনীর এসকর্ট শুরু হয় সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে। তাই ঐ সময়ের আগেই আপনাকে পৌঁছে যেতে হবে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালায়। মনে রাখবেন, একবার সকালের এসকর্ট মিস করলে আবার এসকোর্টে পেতে অপেক্ষা করতে হবে বিকেল অবধি।

দীঘিনালা থেকে প্রথমে যেতে হবে বাগাইহাট। সেখান থেকে মাচালং হাট হয়ে সরাসরি পৌঁছে যাবেন সাজেকে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেক যেতে মোট সময় লাগবে প্রায় আড়াই ঘণ্টার মতো। 

সতর্ক থাকবেন যেসব বিষয়

১। সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের ছবি তোলা যাবে না।

২। স্থানীয় লোকজনের ছবি তোলার আগে অবশ্যই অনুমতি নেবেন।

৩। সঙ্গে করে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যান।

৪। সাজেকে যাবার রাস্তা অনেকটা আঁকাবাঁকা এবং উঁচু নিচু। তাই জীপের ছাদে বা মোটরসাইকেলে সতর্ক থাকুন।

৫। দুই থেকে তিন দিনের জন্য সাজেক গেলে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ নেয়ার দরকার নেই। সেক্ষেত্রে শুধু যাওয়ার জন্যই গাড়ি নিন। আসার সময় অন্য গাড়িতে আসুন। অথবা দীঘিনালা থেকে ফোন করেও গাড়ি নেয়া যাবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস