ঢাকা, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ২১:৫৩

প্রিন্ট

সানোয়ার রাসেলের একগুচ্ছ কবিতা

সানোয়ার রাসেলের একগুচ্ছ কবিতা
শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক

(অতীতা)

বৃক্ষের গায়ে কোকিলের অভিযোগ জমা হচ্ছে

বিকেলের নৈঃশব্দে ডুবে যাচ্ছে আলোর আওয়াজ

এমনকি বটগাছের পাতাগুলো পর্যন্ত আশ্চর্য স্থির

পাহাড়ের পিছনে একপাল সাদা মেঘ নীরবে ডুবে যাচ্ছে

শষ্যের শীষগুলো নুইয়ে দিয়ে হামাগুড়ি মেরে উঠে আসছে অন্ধকার

বিস্তীর্ণ মাঠে পুরাতন ঝিঁঝিঁগুলো আঁচড় কাটছে নীরবতার ক্যানভাসে

তোমার লাল ওড়না তপ্ত বাতাসের সিঁড়ি বেয়ে ক্রমশ উঠে যাচ্ছে

গ্রীষ্মের উত্তপ্ত শ্বাস আমার সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে

নিকুঞ্জ কুটিরে জ্বলছিলো যে অনুজ্জ্বল আলোকশিখা

কোনও এক কালোজাদুকর নিভিয়ে দিচ্ছে হাতের ইশারায়

অন্ধকার ঘরে ফুঁসে উঠছে সাপ ফোঁস ফোঁস

একটা ক্লেদ বুকের বাতাস হয়ে চলে যাচ্ছে দূর ভবিষ্যতে

এখন আর নেই কোন হাওয়া এখন রাত্রি শুধু নক্ষত্রবিহীন

(হু হু)

কে যেন ঢুকিয়ে দেয় অসীম এক হু হু

বুকের ভেতরে

আর বলে

লিখে ফেলো সমস্ত যন্ত্রণা

অক্ষরে অক্ষরে যাবতীয় না-বলার সাক্ষ্য হোক জমা

চলে যাওয়া লিউদের কদমরেখার ধুলোগুলি

হাতড়ে হাতড়ে দেখি খুঁজে

পাই যদি এমন অক্ষর

যা দিয়ে গড়তে পারি সাধের অমৃতসর কবিতানগর

মানুষের অতিরেক বিবিধ মানুষ

হা হা করে হেসে ওঠে প্রেতের মতন

হাড়ের চাদর গায়ে বিবর্ণ চাঁদ এক ফালি

এঁকে দেয় আকাশের শূন্যতা

নক্ষত্রের কাছে যাই

দু'হাত বাড়িয়ে

হায়! কবে মরে ভূত হয়ে গেছে সব

মিছে মরীচিকা

ফিরে এসে দেখি ফের বুকের ভেতরে

শব্দ নেই, নেই অক্ষর

অক্ষম চিৎকার এক

বিরাজিত মস্ত এক হু হু

সমস্ত বুকজুড়ে একা একা একা বাস করে

(এই গোধূলি মন খারাপের আলোয়)

আজকে না হয় না-ই বা গেলে ফিরে

এই গোধূলি―

মন খারাপের আলোয়

তার-চে চলো এই গোপাটের ধারে

বসে দু'জন দেখি একই সাথে

ঘরের দিকে ফেরা হাঁসের সারি

আজকে না হয় না-ই বা গেলে বাড়ি

দেখবে চলো কেমন মাঠের থেকে

রাখাল ছেলে ফিরছে পাজন হাতে

দূরের ছায়া সারা গায়ে মেখে

উড়িয়ে ধুলো ফিরছে গরুর পালে

আজ যেও না দোহাই তোমার লাগে

মনে আমার ভীষণ শঙ্কা জাগে

ফেরার পথে মস্ত ফ্যাসিবাদী

কিংবা শ্বাপদ ওৎ পেতে রয় যদি

কিংবা ধরো ভয়াল কোন আইন

ফাঁদ পেতে রয় তোমায় তুলে নিতে

আজকে না হয় না-ই বা গেলে ফিরে

এই গোধূলি ফুরিয়ে গেলে পরে

লেবুর ফুলে জ্বলবে জোনাক যখন

তোমায় আমি গান শোনাবো না হয়

আকাশ ধোয়া জোছনা চাঁদের মতন

কসম খোদার আজ যেও না ফিরে

তাকিয়ে থাকা লুটেরাদের ভিড়ে

যে ভিড় খেয়ে শেষ করেছে সব

ভোটের মানুষ― মানুষের উৎসব

শেষ করেছে উচ্চকিত গলা―

শেষ করেছে সাহস― কথা বলা―

শেষ করেছে তোমার মতো নারী―

শেষ করেছে গুম আর খুনের মাতম- আহাজারি

সে ভিড় ঠেলে কেমন করে আমি

ফিরতে তোমায় দেই বলো নিশ্চিতে

কত মানুষ হারিয়ে গেলো জানো

মতপ্রকাশের রঙিন জামা নিতে

আজকে না হয় না-ই বা গেলে ফিরে

এই গোধূলি―

মন খারাপের আলোয়

আমার সাথেই বাঁচো ভালোয় ভালোয়

(লাশ ও শেয়াল)

কবরের তুষ সরিয়ে মাটি খুঁড়ছে একটি শেয়াল

নয়াকাফনের প্রান্ত টেনে বের করবে লাশ

রাত তার অন্ধকার চাদর গায়ে এইসব দেখবে বলে

গোরস্থানের খাদেমের দমছাড়া ধোঁয়ার সংলগ্ন হয়ে বসে আছে

বাতাস বইছে

মৃত কদম খসে পড়ছে হিফজখানার চালের উপর

সেই শব্দে

জ্বিনের ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে বাচ্চা একটি তালেবুল এলেম

এখানে আম্মা নেই

নেই তার আঁচলের আশ্রয়

মাঝে মাঝে ছোট হুজুরকে শেয়াল মনে হয়

নয়াকাফনের প্রান্ত ধরে টানাটানি করা শেয়াল

লাশেদের মনে কোন উল্লাস থাকে না

বাচ্চা তালেবুল এলেমটির খুব কাঁদতে ইচ্ছে করে

এখানে চিৎকার করে কান্না করা গুনাহ!

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত