ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English
ব্রেকিং নিউজ
  •   ৬৯টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করোনা রোগীসহ সব ধরনের সেবা দিতে ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২০, ২২:৫৬

প্রিন্ট

বঙ্গবন্ধু একটি ইতিহাস

বঙ্গবন্ধু একটি ইতিহাস

Evaly

অধ্যাপক ডা. এম. আলমগীর চৌধুরী

বঙ্গবন্ধু, কেবল একটি নাম নয়, একটি ইতিহাস, একটি আদর্শ, একটি সত্য, এবং একটি নীতি। সেই নীতি যা আমাদেরকে মানুষ এবং মানুষের কল্যাণের নিমিত্তে জীবন বিলিয়ে দেবার প্রেরণা দেয় বলছি স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা।

পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে আজ অবধি যুগে যুগে এমন সব মানুষের আগমন ঘটেছে যাদের হাত ধরে মানবতার মুক্তির সনদ রচিত হয়েছে। ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি মি এর এই ছোট্ট ভূখণ্ডটির জন্মের সাথে যার নাম অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত তিনি আর কেউ নন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তাঁর কথা বলতে শুরু করলে কোত্থেকে শুরু করব আর কোথায় শেষ করব ভেবে বলা মুশকিল। যদি ছোটবেলা থেকেই শুরু করি তবে ভাষাতেই বলি। বঙ্গবন্ধু বলেন, “ছোট সময়ে আমি খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম। খেলাধুলা করতাম, গান গাইতাম এবং খুব ভাল ব্রতচারী করতে পারতাম।” – (অসমাপ্ত আত্মজীবনী)

১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জের এক নিভৃত গ্রাম টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা এই মানুষটিই যে পরে গোটা একটি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের মহানায়ক হবেন সে কথা কে জানত! তবে একটি প্রবাদ আছে, Morning shows the day। এজন্যই বোধহয় জ্ঞান হবার পর থেকেই শেখ মুজিব ছিলেন অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবিচল। এ প্রসঙ্গে তাঁরই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর 'শেখ মুজিব, আমার পিতা' গ্রন্থে বলেছেন,

‘কৈশরেই আমার আব্বা খুব অধিকার সচেতন ছিলেন। একবার যুক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা গোপালগঞ্জে সফরে যান এবং স্কুল পরিদর্শন করেন। সেই সময় সাহসী কিশোর শেখ মুজিব তাঁর কাছে স্কুলঘরে বর্ষার পানি পড়ার অভিযোগ তুলে ধরেন এবং মেরামত করার অঙ্গীকার আদায় করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।’

বঙ্গবন্ধু সারাজীবনে মোট ৪৬৮২ দিন কারাভোগ করেছেন। এর মধ্যে ব্রিটিশ আমলে ৭ দিন এবং পাকিস্তান আমলে ৪৬৭৫ দিন। ছাত্রাবস্থায় তিনি ১৯৩৮ সালে প্রথম কারাগারে যান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দাবি দাওয়া পূরণের জন্য পাকিস্তান প্রতিষ্ঠালগ্নে। এরপর ছাত্রলীগ গঠন, আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন, ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ, যুক্তফ্রন্ট, ঐতিহাসিক ছয়দফা, ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন, অসহযোগ আন্দোলন, ৭ই মার্চ এর রক্ত উত্তাল করা আহবান, স্বাধীনতা ঘোষণা, মুজিবনগর সরকার গঠন, মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদান- এ সকল ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি।

এরপর আসে ১৫ আগস্ট বাংলাদেশ, বাঙালি এবং বিশ্ববাসীর কাছে শোকাবহ একটি দিন। ওই দিনের কষ্ট, যন্ত্রণাকে ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সীমানায় আনতে চাই না। যে-দুঃখ, হারানোর ক্ষত তৈরি করা হয়েছে, তা সব সময় মনে রাখতে হয়। যে বা যারা হারিয়েছে তারাই বোঝে এর বেদনার ভার কতটুকু। বঙ্গবন্ধু নির্মিত এ-দেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকেই সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। প্রচলিত হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ পৃথিবীতে অনেক রয়েছে। সেক্ষেত্রে , আমরা লক্ষ্য করেছি, শুধুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা নেতাকে হত্যা করা হয়েছে । কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনা ব্যতিক্রম। এদিন তাঁর ৯ বছরের শিশুপুত্র রাসেলকেও রেহাই দেয়নি ঘাতকেরা। যেকোনো হত্যার ঘটনাকে বিশেষণে বিশেষায়িত করা না গেলেও বলা হয়ে থাকে ১৫ আগস্ট ঘটে ইতিহাসের জঘন্যতম, নির্মম এ-হত্যাকাণ্ড। অন্যদিকে কেউ কেউ বলে থাকেন যে, কিছু বিপথগামী সৈনিক এ-হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- বিপথগামী শব্দের ব্যবহার প্রোপাগান্ডা মাত্র। চিন্তা-ভাবনার ক্ষেত্রে যারা অনগ্রসর, আবার প্রকাশ্যে এ হত্যাকে সমর্থন করতে পারে না, তারা ইনিয়েবিনিয়ে, পরোক্ষে অনেক কথা বলতে চেষ্টা করে। অপরাধ চেপে দেওয়া এবং আদর্শিক সংঘাতের বিষয় সরিয়ে দিতে নতুন গল্পের অবতারণা প্রায়ই লক্ষণীয়। কিন্তু বিবেচনা ও সময় নিয়ে যদি এ হত্যাকাণ্ড কে দেখি, খুঁজে দেখি সমকালীন রাজনীতি ও পরিবেশ, তাহলে প্রচারণামূলক এ-কথাটির সত্যতা থাকে না। এটি নিছক বিপথগামী সৈনিকদের স্খলন নয়। ভাবতে হবে আরও গভীরে, অতলে। তরল আড্ডা ও রাজনীতির বিতর্কে, জ্ঞানচর্চাহীন রাজনীতির মাঠে নানাকথা বলা যায়। মুখরোচক প্রচার ও বিজ্ঞাপন মানুষকে আপাত আকৃষ্ট করে। তবে এর মধ্যে অনেক ক্ষতি হয়ে যায়,যা পূরণ করা হয়ে ওঠে দুঃসাধ্য। যা আমাদের হয়েছে। আর আমাদের ব্যর্থতার এই দায়ভার আমাদেরই বহন করতে হবে।

তবে অপশক্তির শতচেষ্টা, শত বাধা, ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে তাঁর অস্তিত্ব সগৌরবে জানান দিচ্ছে, যে বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি মুছে ফেলতে চেয়েছিল, যে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করতে চেয়েছিল, সেই বাংলাদেশই আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে দুর্বার এগিয়ে চলেছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ, তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দিনরাত নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণ ঘটেছে। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় আজ ১৬১০ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ সূচকে বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯ ভাগ । অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক ২৪ দশমিক ৮ ভাগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব, দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, কৃষি, দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানীমূখী শিল্পায়ন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, পোশাক শিল্প, ঔষধ শিল্প, রপ্তানি আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক সূচক আজ ঊর্ধ্বমুখী। পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, কর্ণফুলী নদীতে বঙ্গবন্ধু টানেল ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি আজ দৃশ্যমান । বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ

লেখক: আহবায়ক, মুজিববর্ষ উদযাপন কমিটি, আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা, বাংলাদেশ।

এনএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত