ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৫৯

প্রিন্ট

যে কারণে দ্রুত দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

যে কারণে দ্রুত দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি
জুয়েল খান

সাবকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ১৯৭২ সালে বলেছিলেন, বাংলাদেশ একটি তলাবিহীন ঝুড়ি হতে যাচ্ছে। তখন ১৯৭২-৭৩ সালের জাতীয় বাজেট ছিলো মাত্রা ৭৮৬ কোটি টাকা। এখন বাংলাদেশ সবজি, ধান ও আলু উৎপাদনে বিশ্বে যথাক্রমে ৩য়, ৪র্থ ও ৭ম। এছাড়াও মাছে ৪র্থ, আমে ৭ম, পেয়ারায় ৮ম এবং খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে ১০ম। সুতরাং বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশ।

বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। ২০২৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঘোষণা করবে। ২০২০-২১ সালে বাংলাদেশের বাজেটের আকার ৫,৬৮,০০০ কোটি টাকা। এ থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন কোথায় গিয়ে দাাঁড়িয়েছে।

কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত তৈরি পোশাক এবং বৈদেশিক রেমিটেন্সের ওপরে নির্ভর। এছাড়া কৃষি, মৎস্য, পশু পালন, ওষুধ শিল্প, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প, তথ্য প্রযুক্তি, চামড়া, স্টিল, আলোক শিল্পসহ বিভিন্ন খাত রয়েছে। কিন্তু করোনায় পোশাক শিল্পসহ সব ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুড়ে দাঁড়াবে। এজন্য সরকারের ধারাবাহিকতা, শক্ত নেতৃত্ব, সময় উপযোগী সিদ্ধান্তের ভূমিকা রয়েছে।

পাশাপাশি সবখাতেই কমবেশি প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু সরকারের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রণোদনার যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটানো।সেই জায়গাতে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে প্রি শিপমেন্ট ক্রেডিটের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার মাত্র এক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। তবে বাণিজ্য এবং সেবা খাতে ৩৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ২৪ হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যে বিতরণ হয়েছে।

অন্যদিকে ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং কৃষি খাতের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২০ হাজার কেটি টাকা; কিন্তু সেখানে মাত্র ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। এছাড়া কৃষি সেচ প্রকল্পে ৫ হাজার কোটি টাকা দেয়ার কথা থাকলেও বিতরণ হয়েছে মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা। সুতরাং বড় শিল্প ছাড়া অন্য খাতগুলোতে সরকারি প্রণোদনার অর্থ যথাযথভাবে ছাড় হচ্ছে না। সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবয়নের জায়গায় কিছুটা অসংগতি দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি আশেপাশের দেশগুলোর তুলনায় দ্রুত এগোচ্ছে। বিশেষ করে ১. বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ফরেন রেমিটেন্স। ২. বাংলাদেশর গ্রামীণ অর্থনীতি। এছাড়া অর্থনৈতিক কৌশল ও শেখ হাসিনার শক্ত নেতৃত্ব।

করোনার শুরুতেই সরকার অর্থনৈতিক প্যাকেজগুলো ঘোষণা করেছিলো তার একটা বড় প্রভাই ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত টিকিয়ে রাখা, শ্রমিকদের বেতনের ব্যবস্থা খুবই দ্রুততার সঙ্গে করতে পারা। একদিকে করোনা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রেখেছে অন্যদিকে শিল্প কারখানা পর্যায়ক্রমে খুলে অর্থনীতির চাকাকে সচল করেছে।

এছাড়া পোশাক খাতে সরকার যে সহয়তা দিয়েছে, সেগুলো গার্মেন্টেসের সহযোগী খাতগুলোকেও দিতে হবে। যেমন ওয়াশিং, ডায়িং, প্রিন্টিং, প্যাকেজিং খাতগুলো এখনো তেমন কোনো সরকারি প্রণোদনা পায়নি। এজন্য সমতা আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড করতে হবে। যাতে, কোনো ব্যাংক কোনদিন কোথায় কত টাকা ঋণ দিলো তার হালনাগাদ তথ্য ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জানতে পারবে।

অন্যদিকে যারা ব্যাংকে যাচ্ছে, অথচ ব্যাংক তাদেরকে ঋণ দিচ্ছে না, এব অভিযোগের জন্য হটলাইনের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে কেউ অভিযোগ করলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে। যদিও একটা হটলাইন আছে সেটাকে আরো বেশি অ্যাকটিভ করতে হবে। আমাদেরকে করোনা থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতেই হবে। এতে অল্প দিনেই বাংলাদেশ শক্তিশালী অর্খনৈতিক বলয় তৈরি করতে সক্ষম হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন এবং উন্নত করতে হবে। কেননা স্বাস্থ্যের ওপরে অর্থনীতির প্রভাব আছে। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি ব্যাংকারদের নানা রকম অনিহার কারণে প্রণোদনা বাস্তাবায়নে ধীরগতি। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রণোদনা বাস্তবায়নে চাপ দেয়া হলেও তা যথেষ্ট নয়।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পকে দ্রুত অর্থায়ন না হলে কর্মসংস্থানের ওপরে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে রেমিটেন্সের ওপরে। বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার সঙ্গে সরকারের ঋণ সহায়তা যুক্ত করে ছোট ছোট শিল্প গড়ে তোলার দিকে নজর দিতে হবে। এছাড়া যরা বিদেশ ফেরত তাদেরকে অধিকতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে পুনরায় বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আর যারা বিদেশ যেতে পারবে না তাদের দেশেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

এই মুহূর্তে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো উজ্জিবিত করতে হবে। কৃষি খাতকে আরো বেশি উৎপাদনমুখী করতে হবে। এছাড়া মৎস্য, পশুপালন, পোল্ট্রিসহ এসব খাতকে আরো বেশি সহায়তা দিলে শহর থেকে গ্রামে আসা লোকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এতে বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলা করে দ্রুতই আগের জায়গায় ফিরবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত