ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৫ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:০৯

প্রিন্ট

প্রসঙ্গ: খোজা ধর্ষক ‘চতুর্থ লিঙ্গ’ এবং...

প্রসঙ্গ: খোজা ধর্ষক ‘চতুর্থ লিঙ্গ’ এবং...
রাজীব কুমার দাস

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘মানু্ষ’ সাম্যবাদ কবিতার মতো এ পর্যন্ত অন্য কোনো কবিতার পঙক্তি মনোময়, প্রাণময় হয়ে আমাকে কাছে টানতে পারেনি। আমার মতে, আমাদের জাতীয় দুর্ভাগ্য সাম্যবাদী কবির অমর সৃষ্টি কবিতাগুলো জাতীয় চেতনায় ছড়িয়ে দিতে পারিনি। জাতীয় কবির চেতনার প্রশ্নে ও প্রতিমুহূর্ত আমি তুমি সে লুকোচুরি, স্ববিরোধী আচরণ করছি।

মানুষ কবিতায় কবি ধর্মগ্রন্থ নিয়ে লিখেছেন, ‘পূজিছে গ্রন্থ ভণ্ডের দল, মূর্খরা সব শোনো, মানুষ এনেছে গ্রন্থ; গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো।’ মানব কল্যাণ, সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে কবি আমৃত্যু লড়াই করেছেন।

লিখিত অলিখিত মানবকল্যাণই সাম্য প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের পূর্বশর্ত। আমাদের কবি তাঁর কাব্য, সাহিত্যে যারপরনাই গেয়েছেন, মানবাধিকার সাম্যের গান। ধর্ষণ, মাদক এখন আমাদের জাতীয় চেতনা শত্রু। প্রতিদিন এ শত্রুর কাছে হেরে যাচ্ছে; স্ত্রী, সন্তান, পিতা, মাতা, ভাই, বোন। ধর্ষিতাকে আমৃত্যু ইচ্ছার বিরুদ্ধে মানসিকী ধর্ষিত হতে হয়।

পুলিশ, সাংবাদিক, ডাক্তার, উকিল, বিজ্ঞ আদালত, শোনা ব্যক্তি, আপনজন, এমন কী পেটে ধরা সন্তানের মুখেও চরম স্বার্থে এ ভয়ানক বিষাক্ত শব্দটি শুনতে হয়। ধর্ষিতাকে বার বার প্রমাণ করতে হয়; ঠিক কখন,কোথায়, কীভাবে -কোন সময়/পরিস্থিতিতে তাঁকে ধর্ষণ/নির্যাতন করা হয়েছে? এমনকি অপরাধস্থলের ন্যাচার-ফিচার, ওয়ান ফিঙ্গার, টু ফিঙ্গার, থ্রি ফিঙ্গার, অভ্যাসগত যৌনকর্ম করেন না; বলে বর্ণনা করতে হয়। ডিফেন্স বিজ্ঞের অভিজ্ঞ কৌশল, আইনি ব্যবসা সফল প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে যখন কান্না করেন; উপস্থিত সবাই আমোদিত বদনে মুচকি হাসেন, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ‘ধর্ষক’ নিজেকে বাংলা সিনেমার খলনায়ক ডিপজল ভেবে বাঁকা চোখে এদিক সেদিক তাকান। বিজ্ঞ আদালতের রায় ধর্ষকের বিরুদ্ধে গেলে ডিফেন্স আইনজীবী বলেন, ‘আমরা কোনো সুবিচার পাইনি, উচ্চ আদালতে যাবো।’

শত শত কবি সাহিত্যিক এবং রাষ্ট্র, সমাজ, মানবাধিকার গুণী, জ্ঞানী ধর্ষণের বিরুদ্ধে মসীতে লিখেছেন; বলেছেন বুঝিয়েছেন। কিন্তু কোনো ধর্ষক নিবৃত্ত হয়ে ধর্ষণ করা ছেড়েছে? বরং উৎসাহ নিয়ে ধর্ষণ পিকনিকে সরব-নীরবে ভিকটিম কে আহত নিহত করে আনন্দ করে চলেছে। জানামতে ধর্ষক এ পর্যন্ত অনুতাপতো দূরে থাক; বিপুল উৎসাহ নিয়ে পুংস্ত্ব বিনোদিত হয়েছেন।

কারণ ধর্ষক হোমো স্যাপিয়েন্স প্রজাতি ভালো করেই জানে- ‘যৌন রোগ, কম বয়স, পুরুষ হরমোনের স্বল্পতা, চারিত্রিক সনদ, আপিল, মানবাধিকার, কাল্পনিক ঘষা ছেঁড়া মলাট বোম্বে হাইকোর্ট রাষ্ট্র বনাম মহাত্মা গান্ধি, জিন্নাহ সাহেবের রেফারেন্স,পাগল, সিজোফ্রেনিয়া রোগী, সুখ-দুঃখের আপেক্ষিক ঘরনার চক্রান্ত বুঝতে না পারা, ফরিয়াদির লিখা বলার ভুল। তদন্তকারী অফিসারের দায়সারা তদন্ত ভুলে ভরা প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের ম্যাপ, গ্যাপ, এমনকি পাগল সেজে বেরিয়ে যেতে পারবে।’

জামিনে এসে ভিকটিমের বাড়ির পাশে রসু খাঁর চা দোকান, ডলির পান দোকানে চরম সাহস নিয়ে জানান দেন ‘জেলে তার মতো অনেক রসু খাঁর সাথে ভালো বন্ধুত্ব হয়েছে; এখন সে একা নন, পুলিশ অ্যারেস্ট দূরে থাক; ‘ল’ পর্যন্ত ছিঁড়তে পারবে না।’

বাদী, সাক্ষী, আপনজন সময়ের ঘূর্ণি বাঁকে এসে ভিকটিমকে তর্জন গর্জন করেন; ভুল বোঝেন, গালমন্দ করেন। সময়ের চোরাবালিতে এক সময়ে ভিকটিম হারিয়ে যান, কখনো জীবন থেকে পালিয়ে বাঁচেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের লক্ষ মা বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় রাষ্ট্র এ হতভাগ্য নারীদের সম্মান করেছেন; তা সবাই দেখেছি। সম্ভ্রম হারিয়ে নারীরা পুনরায় পরিবার সমাজ দেশের কাছে অপমানিত হতে চাননি। নীরবে-নিভৃতে বোবাকান্না খেকো কষ্টে হারিয়ে গেছেন। মুষ্টিমেয় নারীকে ‘বীরাঙ্গনা’ খেতাব দিয়ে রাষ্ট্র দায়িত্ব শেষ করেছেন।

ধর্ষণ রুখতে পশ্চিম আফ্রিকা দেশগুলোর নাইজেরিয়ার কাদুনা অঙ্গরাজ্যে ধর্ষককে খোজা করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আইন পাশ হয়েছে। ধর্ষণের অপরাধে অবশ্যই ধর্ষককে লিঙ্গ হারিয়ে খোজা (নপুংসক) হতে হবে। কাদুনার গভর্নর গত বুধবার নতুন এই আইনে স্বাক্ষর করেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, ধর্ষণ রুখতে খোজা করার পক্ষে যথেষ্ট সরব হতে দেখা যাচ্ছে। পুরুষ বেশ্যা গিরি রুখতে, পরিবার নিরাপদে রাখতে আগের দিনে রাজা বাদশা অন্দরমহলের পাহারায় খোজা (নপুংসক) পুরুষ রাখতেন।

তৃতীয় লিঙ্গ পরিচিতি বৃহল্লনা (হিজারা) গর্ভজাত হলে ও খোজা নপুংসক পুরুষ সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট। লিঙ্গ বিচারে বলতে হবে চতুর্থ লিঙ্গ বা খোজা লিঙ্গ। ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে চেক প্রজাতন্ত্র, ইন্দোনেশিয়া, আমেরিকার অনেক অঙ্গরাজ্যে ওষুধের মাধ্যমে খোজা (নপুংসক) করে থাকেন।

মানুষের সুরক্ষা, নিরাপদ জীবনের জন্যেই নতুন নতুন আইনের তাগিদ। সময় সাইরেন বাজিয়ে বলে দেন; ‘দেশ, সমাজ, ব্যক্তির অনুভব ও তাগিদ। আজ সারাবিশ্বে মানবাধিকার ‘এলিয়েন প্রজাতি’ হয়ে বজ্রনিনাদ অক্ষম আক্রোশ নিয়ে গর্জন করে চলেছেন। ন্যায্য অধিকার পেতে সারাবিশ্বের কোটি কোটি গোষ্ঠী, সম্প্রদায় বুকে তপ্ত সাহারা মরুভূমির বারি কামনায় বসে আছেন। কবে, কখন, কোথায় সে বারিতে সিক্ত হয়ে প্রাণময় হবেন; তা ধোঁয়াশা ও দুরাশা মাত্র। বুকে মরুভূমির ধর্ষণ, মাদক ক্যাকটাস প্রজাতি কাঁটাতে প্রতিদিনই দগ্ধ হচ্ছে পরিবার, সমাজ ও দেশ। জানি না শেষ কোথায়? সত্যিই একদিন মানবাধিকার চতুর্থ লিঙ্গ সমতার মানুষরূপী অক্ষম খোজা (নপুংসক) নেকড়েগুলো যখন সবার সামনে মাথা নিচু করে হেঁটে যাবেন; অক্ষম মানবাধিকার, ধর্মের ভণ্ড ধ্বজাধারী, প্রতিমুহূর্তে আইনের শবচ্ছেদ-ব্যবচ্ছেদ ঘটানো পটানো পটুয়া সমস্বরে সারি গান গাইবেন, ‘হেঁইয়ো রে হেঁইয়ো, কইও রে কইও, যাইও রে যাইও’।

সবার কপাল, বুকে সাঁটানো নেলসন ম্যান্ডেলা, চে গুয়েভারার ছবি। হাতে ‘we want justice’ লেখা প্ল্যাকার্ড। খোজা ধর্ষকের বড় ভাই ট্রাকের উপর দাঁড়িয়ে শুরু করলেন দীর্ঘ জ্বালাময়ী বক্তৃতা। ভাইসব আজ দেশের যে অবস্থা! খোজা আইনে পাঁঠার মতো আমার সহজ সরল রাতজেগে আপনাদের পাহারা দেয়া ভাইটি তার দুইটি বীচি হারিয়েছে। তার জোয়ান বউ তারে ছেড়ে গেছে। মানবাধিকার, ধর্ম, দেশতো নাই। ছেমরিরা রাইত বিরাইত বাজারের যায়; খোজা আইনের ভয়ত পুরুষ জাতি আজ দিশেহারা। ভাইয়ের বন্ধু কেউ দেশে নাই। সব বার্মা পাহাড়ে বীচি হারানোর ভয়ে পালিয়েছে। সবার শেষে মানবাধিকার ধ্বংসকারীরা বক্তৃতা শুরু করেছে।

ভাইসব আমি পৃথিবীর ৭০টি দেশ ঘুরেছি। কফি আনান আমার বন্ধু। বারাক ওবামার অনেক পার্টি করেছি। মন, টাকা, ক্ষমতা, যৌনতা, ওয়াইন দিয়েছি নিয়েছি। জাত কুমিরের প্রজেক্ট ডাইরেক্টর হিশেবে যখন যে দেশে গিয়েছি; সে দেশের নারী তলপেটে আমার বাবু নিয়ে লালন পালন করেছে। কেউ আপত্তি করেনি। এ দেশের এমন কী হলো; সামান্য জোরাজুরি কান্নাকাটি, হাত পা ছোড়াছুড়ি, কেনো বীচি হারাতে হবে? আমি সে প্রশ্ন রেখে গেলাম। আমি বিবিসি, সিএনএন, আল জাজিরায় লাইভ করবো। পাকিস্তানের মালালার মতো এ বীচিহারা খোজা জাম্বুর হাতে একদিন ‘রতি হারা পতি’ নোবেল উঠিয়ে দেবো। ওর আত্মত্যাগে ভর করে পুরুষ জাতি এগিয়ে যাবে। সবার সম্মানে শ্লোগান- ‘জাম্বুর অবদান, বৃথা যেতে দেবো না, এক জাম্বুর বীচি নাই, লক্ষ জাম্বুর ঘুম নাই’।

নেতার হাত ইশারায় স্লোগান থেমে যায়। মানবাধিকার বিশারদ আবার শুরু করলেন, ‘আজ জাম্বুর বেদনার দিন, আমাদের শোকের দিন। আমি জাতিসংঘে শোক প্রস্তাব পাঠাবো। বিখ্যাত শৈল্য চিকিৎসক মি. টম এন্ডারসন আমার বন্ধু। তুমি চিন্তা করোনা জাম্বু; আমি একটা ব্যবস্থা করবো।

এদিকে খোজা (নপুংসক) জাম্বু চতুর্থ লিঙ্গে থাকতে চান না। তৃতীয় লিঙ্গের কাছেও ঠাঁই নেই। পরিবারের কেউ অপারেশন করাতে চান না। প্রায় দিন দেশি বিদেশি চ্যানেল সাক্ষাতে ঘুম ভাঙে। কাঙ্গালিনী স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষিকা সিনথিয়া দোভাষীর দায়িত্বে আছেন। খোজা নপুংসক নিরাপদ জেনেই প্রতিদিন আসেন। জাতিসংঘের চতুর্থ লিঙ্গ স্বীকৃতির উদ্বোধন অনুষ্ঠান সামনে। জাম্বুর সাথে যেতে পারলেই কপাল খুলে যাবে। চতুর্থ লিঙ্গ ফান্ড নিয়ে জাতিসংঘ বেশ আমোদিত। সারা বিশ্বের সরব নীরব যৌনদস্যু জাম্বুকে সমবেদনা জানাতে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালছে। মধ্যপ্রাচ্যের সব যুবরাজ বিমানের সব সিডিশন কিনে রেখেছে; কেউ কেউ ভাড়া করে রেখেছে। গলফ এয়ারের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। ভারতের কেরালা মুম্বাইয়ের সব আইটেম যৌনদস্যু এমন কী কোলকাতার মিমি, রাজশ্রী, শুভশ্রী নারী হয়ে ও জাম্বুর প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। ফেসবুক, ইউটিউব জ্যাম হয়ে আছে। জাম্বুর লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার। জাম্বুর বড় ভাই ট্রাক না চালিয়ে জাম্বুর ফরমায়েশ করেন। রাতারাতি পরিবারের সবার চেহারা পাল্টে যায়। এদিকে জাম্বুর চোখে ঘুম নেই। কিচ্ছু ভালো লাগে না। সুস্বাদু খাবার খেয়ে টেস্টোস্টেরন হরমোন বেশ বেড়ে তলপেট ব্যথা শুরু হয়েছে। কিছুই করার নেই। দু’চোখ বেয়ে অঝোর কান্না বইছে।

এক সময়ে জাম্বু ঘুমিয়ে পড়ে। চার্টার্ড বিমানে করে জাতিসংঘ যাচ্ছে। প্লেনের জানালা দিয়ে মেঘডুম্বুর শাড়ি, রংধনুর সাত রং দেখে ভাবছে; আহা মানুষের জীবন কতো সুন্দর! জীবনটা এ আকাশের মতো সাজাতে পারতাম। বডিগার্ড, দোভাষী, সাংবাদিক,শেখ, বেদুঈন, নিগ্রো,বলিউডের খান,হলিউডের টম ক্রুজ,আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার,জোলি,মালালা ইউসুফজাই,সবাই বসে আছেন। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা। ফুলের গন্ধ, রংচটা মনে জাম্বুর কিছু ভালো লাগে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের ফাঁকে হালকা, ভারি খাবারের মৌ মৌ ঘ্রাণ জাম্বুকে টানতে পারেনি। বিবিসি, সিএনএন, আল জাজিরা অনুষ্ঠান লাইভ করছে। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, জ্যাম হয়ে আছে। একবিংশ শতাব্দীর সেরা উপহার-নপুংসক খোজা ‘চতুর্থ লিঙ্গের’ প্রথম স্বীকৃতি উদ্বোধন অনুষ্ঠান। এর ফাঁকে জাম্বুকে নিয়ে সিনেমা বানাতে বলিউডের মহেশ ভাট, শাহরুখ, সালমান, রজনীকান্ত, রেখা, অমিতাভ, হলিউডের বক্স অফিস কাঁপানো দ্য ডার্ক নাইট পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান, স্টিভেন স্পিলবার্গ, পিটার জ্যাকসন, কোয়েন্টিন, লাইন ধরে আছেন। জাম্বু দোভাষী নিয়ে অত্যাধুনিক সেন্সর স্পীকারের সামনে দুরু দুরু বুকে বাংলায় শুরু করলেন। সিরিয়াল ধর্ষণে বেড়ে ওঠা; বীচি হারিয়ে নপুংসক খোজা নির্বাক, নির্জীব পৌরুষত্ব হারানোর কান্নাড়ি গল্প।

ভার্চুয়াল জগতে রীতিমতো ভূমিকম্প চলছে। কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা চলছে। অগণিত মিডিয়া অগ্রিম ডলার পরিশোধ করে মিনিট সেকেন্ড সাক্ষাতকার নিতে লাইন ধরে বসে আছে। জাম্বুকে ঘিরে চতুর্থ লিঙ্গ স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের করোনা অতিমারীর শূন্য ফান্ড কানায় কানায় ভরে গেছে। চতুর্থ লিঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে জাম্বু আজীবন জাতিসংঘ শুভেচ্ছা দূতের স্বীকৃতি পেয়েছে। ভাষণ শেষে জাম্বুর একটাই চাওয়া; আগের মতো সুস্থ জীবন। যতদিন বেঁচে থাকবেন,বোধের প্রায়শ্চিত্ত করবেন। এ কী হলো! পিনপতন নিস্তব্ধতা। কোনো তালি নেই, সবার এদিক, ওদিক চাহনি। ট্রাক বক্তৃতার মানবাধিকার সুশীল ড.হিরু চৌধুরী কানে কানে বলেন, ‘আরে বলদ সর্বনাশ করেছ; আমাদের বাড়া ভাতে ছাই ঢেলে দিচ্ছ কেনো? তাড়াতাড়ি বলো, তুমি খোজা হয়ে থাকতে চাও, চিকিৎসার দরকার নেই।’ জাম্বু চিৎকার দিয়ে ওঠেন, গায়ে চিমটি কাটেন। ঘামে সারা শরীর ভিজে গেছে। আক্ষেপ অনুশোচনার গ্লানিতে পুড়ে চতুর্থ লিঙ্গ পরিচয়, স্বীকৃতি পেয়ে থাকা জাম্বু সেরা শৈল্য চিকিৎসা নিয়ে আগের পুং লৈঙ্গিক অবস্থানে ফিরতে চান; জাম্বু কী ফিরে আসতে পারবেন?

লেখক: প্রাবন্ধিক ও কবি পুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত