ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ১৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৩৮

প্রিন্ট

এক ছাত্রলীগের দুই রূপ!

এক ছাত্রলীগের দুই রূপ!
ছবি: সংগৃহীত
হৃদয় আলম

দেশে বন্যা,করোনার মতো মহামারিতে সম্মুখযোদ্ধাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগ। কখনো ধান কেটে দিয়েও অভাগা কৃষকের দুঃখ লাঘবও করতে দেখা গিয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ এ ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের। কিন্তু এর পাশাপাশি রয়েছে ভিন্ন রূপও। কখনো চাঁদাবাজি আবার কখনো ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দেশের সবচেয়ে বেশি আলোচিত এমসি কলেজের ধর্ষণের ঘটনায় যাদের নাম এসেছে তারা ‘ছাত্রলীগের কর্মী’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ওই কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি নেই আজ ১২ বছর। বাংলাদেশ জার্নালকে জয় বলেন, ‘সিলেটের তারা তো ছাত্রলীগের কোনো পদধারী নেতাকর্মী না। ওই কলেজে কমিটি নেই ১২ বছর। আমরা ধর্ষকের বিচার চাই। যারা অভিযুক্ত তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া দরকার। আমরা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছেও তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি।’

কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমসি কলেজ ও সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের দু’জন সাবেক নেতা বলেন, ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগের যে ঘটনা ঘটেছিল, সেই ঘটনার পর থেকে ৭ নম্বর ব্লকের কক্ষটি ‘ছাত্রলীগের’ হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর ছাত্রাবাস খোলার পর থেকে ওই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রলীগের একাধিক পক্ষের সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই ছাত্রলীগের দুই পক্ষে আধিপত্য বিস্তারে ছাত্রাবাসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। তখন প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধ রাখার পর ওই বছরের ২৯ জুলাই ছাত্রাবাস খোলা হয়। গত বছরের ৬ আগস্ট রাতে ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের কয়েকটি কক্ষ ও নতুন ভবন দখল তৎপরতার মুখে সর্বশেষ ছাত্রাবাস বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

যে কক্ষের সামনে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি ছাত্রলীগের দখল করা কক্ষ কিনা—জানতে চাইলে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ আহমদ বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে ছাত্রাবাস বন্ধ। শুনেছি নেতারা (ছাত্রলীগ নেতা) সেখানে ছিল। এর বাইরে আর কিছু আমি জানি না। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে পুলিশ ও র‌্যাবকে বলেছি।’

এদিকে কিছুদিন আগে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাদের পরিবর্তে বর্তমানে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সংগঠনের সে সময়কার কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আগের কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

সে সময় চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে শোভন-রাব্বানী। তাদের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামের কাছে গিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। এছাড়া বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেওয়া ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেন, সম্মেলনের পরও একাধিক শাখায় কমিটি না দেওয়া, বিলাসী জীবন, দুপুরের আগে ঘুম থেকে না ওঠা, গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে চলা কিংবা ফোন না ধরা, সংগঠনের একাধিক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েও নির্ধারিত সময়ের অনেক পর উপস্থিত হওয়া অথবা অনুপস্থিত থাকাসহ নানান অভিযোগ ছিলো সে সময়।

ভিন্ন দৃশ্যে করোনার সময় পাবনা, যশোর, দিনাজপুর, পিরোজপুর, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যখন কৃষকরা ধান কাটার মতো লোক পাচ্ছিলেন না তখন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছে। বিনা পারিশ্রমিকে তারা ধান তুলে দিয়েছিলেন কৃষকের ঘরে। যা দেশের সব শ্রেণির মানুষের কাছে প্রসংশিত হয়েছিল।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

আরো পড়ুন:

> ছাত্রলীগের পদ পেতে বিতর্কিতদের দৌড়ঝাঁপ

> সাফাই গেয়ে স্ট্যাটাস দিলো গণধর্ষণে জড়িত দুই ছাত্রলীগ কর্মী

> এমসি কলেজে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচার চায় ছাত্রলীগ

> আওয়ামী লীগ নেতার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত