ঢাকা, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৬ অাপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৩৫

প্রিন্ট

এনটিআরসিএ’র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে দুটি কথা

এনটিআরসিএ’র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে দুটি কথা
মণিময় রায়

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর এনটিআরসিএ গত বুধবার গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষক হতে আগ্রহী নিবন্ধনধারীদের নিকট থেকে আবেদন গ্রহণ করছে। প্রধান তিনটি কারণে এনটিআরসিএ কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

প্রথমত: একটি দূর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া (এস এম সি’র নিয়োগে দুর্নীতির কারণেই এ গুরুদায়িত্ব এনটিআরসিএ কে দেওয়া হয়) যেটি বিভিন্ন জটিলতায় প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল, সেটির চাকা আবার সচল হল। এতে অবশ্যই আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে।

দ্বিতীয়ত: বেসরকারি স্কুল ও কলেজগুলো জনবল সঙ্কটে মারত্মক সমস্যার মধ্যে ছিল। প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ (যারা প্রধানত শূন্য পদের শিক্ষকদের প্রক্সি ক্লাশ নিতে নিতে ক্লান্ত,বিরক্ত ও পেশার প্রতি হতাশ হয়ে পড়েছিল), শিক্ষার্থী (যারা উপযুক্ত শিক্ষকের অভাবে সঠিক পাঠ প্রাপ্তির অধিকার বঞ্চিত ছিল) এবং সার্বিকভাবে যে মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থাটা কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। সেই শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন প্রাণ সঞ্চার হবে, এটিই সবচে বড় আশার কথা।

তৃতীয়ত: এর মাধ্যমে প্রায় চল্লিশ হাজার মেধাবি তরুণ, যারা মেধার স্বাক্ষর রেখে ইতোমধ্যে নিজেদের প্রমাণ করার পরও একটি অভিশপ্ত সময় পার করছিলেন, তাদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থান পাবে। এটির জন্য তারা কত দিন ধরে প্রতিক্ষায় ছিল তা বলে বোঝানো যাবে না। এ সময়টির জন্য একজন শিক্ষিত কিন্তু চাকুরি পাওয়ার উপযুক্ত মানুষকে যে কি অপমান ও যন্ত্রনা সহ্য করতে হয়েছে তা যে যন্ত্রনা ভোগ করেছে সে-ই জানে। এই নতুন শিক্ষক মাধ্যমিক শিক্ষায় যুক্ত হলে মাধ্যমিক শিক্ষা একঝাঁক তরুণ মেধাবি মানুষ পাবে যারা শিক্ষায় নতুন রক্তের সঞ্চার করবে। এনটিআরসিএ এর সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এস.এম.সি কর্তৃক নিয়োগকৃত শিক্ষকদের থেকে দক্ষতা ও যোগ্যতায় এগিয়ে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এনটিআরসিএ নিয়োগের সুপারিশ করার পর কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল। যেহেতু বেসরকাদ্ভ প্রতিষ্ঠানে বদলির নীতিমালা কার্যকর নয়, সেহেতু উপজেলা ভিত্তিক নিয়োগের সুপারিশ, সনদের মেয়াদ, মামলা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সামগ্রিকতার অভাব ইত্যাদি সমস্যার কারণে এনটিআরসিএ এখনো মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারে নি। এতে তরুণ নিবন্ধনধারীরা হতাশ হয়ে পড়েছিল।

উপজেলায় শূন্যপদ না থাকায় আগের সুপারিশে অনেকে বেশি নম্বর পেয়েও নিয়োগ পাননি। ফলে সুবিচারের আশায় কোর্টের দারস্থ হয়েছিলেন বঞ্চিতেরা। ফলে কোর্টের নির্দেশনায় একটি জাতীয় মেধা তালিকা ও একটি শূন্য পদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। একটি দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ ও প্রধান দুটি বিষয় ছাড়া সকল সর্তাবলী চাকুরিপ্রার্থীরা সাদরে গ্রহণ করেছে।

প্রথমত: যদি একজন প্রার্থীকে একাধিক আবেদন করতে হয় তাহলে কোর্টের নির্দেশে যে জাতীয় মেধা তালিকা তৈরি করা হল তার গুরুত্ব থাকল কোথায়? এনটিআরসিএ একটি আবেদন গ্রহণ করবে শুধু জানার জন্য যে কে কে চাকুরি করতে আগ্রহী। এরপর যে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে সে দেশের এক নম্বর এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকুরির জন্য এনটিআরসিএ থেকে সুপারিশ পাবে। তারপর এনটিআরসিএ মেধাক্রম অনুযায়ি ২,৩, .... প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধনধারীদের সুপারিশ করবে। এটাই তো স্বাভাবিকভাবে হওয়ার কথা। এটা না হলে শুধু আবেদন জটিলতায় কেউ হয়তো ৬০ পেয়ে চাকুরি পাবে আবার কেউ ৬৫/৭০ পেয়েও চাকুরি পাবেনা। জাতীয় মেধা তালিকা এখানে মার খাবে। এখানে ন্যয্যতা হারালে এনটিআরসিএ এর মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে। এজন্য একটি পরামর্শ হল অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের একটি ক্রম তৈরি করে সে অনুযায়ি মেধাক্রম অনুসারে সুপারিশ করা হোক। মানদণ্ড অনুযায়ি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের একটি ক্রম তৈরি করতে খুব বেশি সময় ক্ষেপণ হবে বলে মনে হয় না। এতে রাষ্ট্র কর্তৃক একটি বিশাল ন্যয্যতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে এবং এনটিআরসিএ এর মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। বেকার ও অসহায় তরুণরা অর্থদণ্ড ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে পারবে। এনটিআরসিএ জনস্বার্থে এ বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় আনার আবেদন রইল। ধারাবাহিকভাবে শূণ্যপদ পূরণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এনটিআরসিএ এটা সকলের ই প্রত্যাশা।

দ্বিতীয়ত: যাদের বয়স ৩০/০৬/২০১৮ তারিখে ৩৫ বছর পার হয়েছে এবং যাদের প্রাপ্ত নম্বর মোটামুটি চাকুরি পাওয়ার মত, তাদের সংখ্যা খুব বেশি নয় বলে আমার ধারনা। তারা এতদিনে কোনো না কোন কাজে নিজেদের যুক্ত করেছেন। ফলে ৩৫ উত্তীর্ণদের আর একবার অন্তত আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হলে তাতে আবেদনের সংখ্যাটি খুব হয়তো বাড়তো না। সেটা না হলে হয়তো আবার আইনি লড়াইয়ে যাবে বঞ্চিতরা। সেটা যে কেউ যেতেই পারে। যারা আইনি লড়াইয়ে যাবে তাদের প্রতি একটা অনুরোধ রাখতে চাই। দয়াকরে কোর্টে এমন আবেদন করবেন না যাতে এনটিআরসিএ এর নিয়োগের সকল কার্যক্রম আবার বন্ধ বা স্থগিত হয়ে যায়। কারণ এই প্রতিষ্ঠানটিকে এবার ব্যর্থ প্রমাণ করতে পারলে, দূর্নীতিবাজ এসএমসি সভাপতিদের জিহবা আবার লকলক করে উঠবে। তাতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আবার আর একটি অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

লেখক: প্রধান শিক্ষক

৫ নং কেপি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close