ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৪৮

প্রিন্ট

বর্তমানে শিক্ষকরাই সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

বর্তমানে শিক্ষকরাই সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
মো. কামরুল খান

কথায় আছে শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড কিন্তু, বর্তমান সময়ে শিক্ষকরাই সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান সময় শিক্ষার মান উন্নয়ন ও দেশকে আরো উন্নত ও শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও শিক্ষকদের সম্মান আরো বৃদ্ধি করতে হবে।

কিন্তু দিন দিন শিক্ষার মান নিম্নমানের ও শিক্ষকদের সম্মানটুকু ধুলোর সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে শিক্ষায় নতুন প্রজন্মের যুবক সমাজ শিক্ষায় আসতে চাচ্ছে না। এর একটাই মাত্র কারণ, শিক্ষা পেশায় এসে বর্তমানের মেধাবী যুবকরা সমাজেরা লাঞ্চিত হতে চায় না।

এই সোনার বাংলাদেশে শিক্ষকরা লাঞ্ছিত অপমানিত হচ্ছে তাই বর্তমান মেধাবী যুবক শিক্ষক পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এর একটি মাত্রই কারণ শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ অবহেলার কারণেই।

মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ও আমাদের প্রাণ প্রিয় মমতাময়ী মা জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনি বলেছেন, শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, এই স্লোগানটি আজ মাঠে ঘাটে হাট বাজারে গ্রাম গঞ্জে শহরে বেজে উঠতে হলে একটাই মাত্র সমাধান সকল শিক্ষাব্যবস্থা একযোগে জাতীয়করণ করতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষার মান ও শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষকদের সম্মানটুকু আজ বিচলিত হতে চলেছে, আপনি পারেন শিক্ষার মান ও শিক্ষকদের সম্মানটুকু ফিরিয়ে দিতে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এই সোনার বাংলাদেশ আপনার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্দিষ্ট সময় তাদের বেতন ভাতাদি পায় কিন্তু আমার শিক্ষক-কর্মচারীরা তারা কোন নির্দিষ্ট টাইম বা নির্দিষ্ট সময় তাদের বেতন ভাতাদি পায় না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনি কখনো কি ভেবে দেখেছেন একজন শিক্ষক সামান্য বেতনে চাকরি করে মাসে সে তারা দুটো টাকা হাতে নিয়ে পরিবারের কাছে যায় কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী হাসিনা এই সকল শিক্ষকরা নির্দিষ্ট টাইম বা নির্দিষ্ট সময় বেতন ভাতা না পেয়ে হাহাকার করে তাদের সংসার পরিবার নিয়ে চলতে অনেক কষ্ট হয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, আমার শিক্ষক সমাজের যে সামান্য একটি বাড়ি ভাড়া চিকিৎসা ভাতা দেন যে বাড়িভাড়া দেন তাতে করে একটা গ্রাম গঞ্জের একটা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায় না তারপরও যেটুকু সেটুকু নিয়ে তারা খুব আনন্দিত উল্লাসিত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময় বেতন- ভাতা না পেয়ে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে খুব কষ্ট হয়।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা যে সামান্য বেতন টুকু পায় নির্দিষ্ট তারিখে বেতন ভাতা না পাওয়ার জন্য তাদের পরিবার তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খুব কষ্ট হয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন শিক্ষক বেতন পান একজন সিনিয়র শিক্ষক ২২০০০ টাকা স্কেলে বেতন পান, সেই সকল সিনিয়র শিক্ষক ২২০০০ টাকা স্কেলে বেতন পেয়ে তাদের পরিবার-পরিজন ও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্ব গতির কারণে চলাচল খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আর একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ৮২৫০ টাকা স্কেলে বেতন পান, একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ৮২৫০ টাকা স্কেলে বেতন পেয়ে তার পরিবারের মা বাবা ভাই বোন ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্ব গতির কারণে খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

তার পরো যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই সকল শিক্ষক সেই সকল চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা নির্দিষ্ট সময় তাদের বেতন-ভাতা না পায় তাহলে তারা তাদের পরিবার পরিজন ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার সংসার কিভাবে চলবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনি কি কখনো এই সকল শিক্ষক এই সকল কর্মচারীদের দুর্দশার কথা ভেবে দেখেছেন?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তারা তো নির্দিষ্ট সময়ে বেতন-ভাতাদি উত্তোলন করে বিলাসবহুল বাড়িতে সরকারি গাড়ি বাড়ি এসি গাড়িতে ঘুরপাক খাচ্ছে আর আমার এই সকল শিক্ষক কর্মচারী নির্দিষ্ট তারিখ বা নির্দিষ্ট সময় বেতন-ভাতাদি না পেয়ে পরিবার নিয়ে কত বড় সমস্যায় তাদের জীবন যাপন চলছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী মা জননেত্রী শেখ হাসিনা- বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা যে ডিজি থেকে ব্যাংকে পাঠাতে যে বড় কাল বিলম্ব করে ছাড় করা হয়। তারপরও সেই সকল বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ব্যাংকে পৌঁছাতে আরও কালবিলম্বনা করে।

ব্যাংকে আসলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সঠিক সময় দেয়না অনেক সময় দেখা গেছে আমার বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা অভাব অনটনের মধ্যে মধ্য দিয়েও ব্যাংকে বেতন-ভাতাদি উত্তোলনের জন্য হাজির হয় হাসিমুখে।

কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রা তাদের গাফিলতির কারণে আমার বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ফিরিয়ে দেয় ব্যাংকে থেকে বেতন-ভাতাদি না পেয়ে আমার বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা দের কে ফিরিয়ে দিলে তারা মুখ থুবরে পড়ে তাদের খালি হাতে ফিরে আসতে হয় তাদের পরিবার তাদের ছেলেমেয়েদের দুচোখ ভরে অশ্রু ঝরে তাদের কান্না দেখার মতন কেউ নেই।

আমার সেই সকল শিক্ষকরা কি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি করে এ সকল শিক্ষকরা মনের গ্লানি মনের ব্যথা নিয়ে ভালোভাবে শিক্ষা পাঠদান করাবেন।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কথায় আছে পেটে থাকলে পিঠে সয়, তাই যদি আমার শিক্ষক সমাজকে সুনির্দিষ্ট তারিখের ভিতরে তাদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করেন ও সকল শিক্ষা ব্যবস্থার একযোগে জাতীয়করণ ঘোষণা করেন এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নেয়ায় আমাদের শিক্ষক সমাজের একটি নির্দিষ্ট টাইমে বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাসের প্রথম সপ্তাহে বেতন-ভাতাদি উত্তোলন করতে পারে কিন্তু আমার এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী কোন নির্দিষ্ট টাইম বা নির্দিষ্ট সময় নেই তারা বেতন-ভাতাদির উত্তোলন করতে পারেন। অনেক সময় দেখা গিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এক মাস পর বা দুই মাস পর তাদের বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনার কাছে আমার একটাই প্রশ্ন তাহলে কিভাবে সেই সকল শিক্ষক কর্মচারীরা পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে বেচে থাকবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সামান্য বেতন-ভাতা সম্মান টুকু নিয়েই আজ এই সোনার বাংলাদেশে শিক্ষকেরা আজও শিক্ষাগুরু হিসেবে শিক্ষাপাঠ দান করে যাচ্ছেন।

কিন্তু শিক্ষক সমাজের এই সকল শিক্ষকের কোন উন্নতি বা সম্মানটুকু তারা পাচ্ছে না তাই আপনি অতি তাড়াতাড়ি সুনির্দিষ্ট তারিখে মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নেই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করা বিষয়টি দেখবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সুনির্দিষ্ট তারিখে শিক্ষকরা বেতন-ভাতাদি না পাওয়ার কারণে আমাদের গ্রাম গঞ্জে শহরে অধিকাংশ শিক্ষকদের ছেলেমেয়েরা আজ শিক্ষিত হচ্ছে না।

এর একটাই কারণ সেই সকল শিক্ষকরা সুনির্দিষ্ট সময় তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলের বেতন ভাতাদি ও খাতা কলম বিভিন্ন সময় মতন দিতে পারছে না সেই সকল শিক্ষকদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এই প্রথম বৈশাখী ভাতা আপনি তাদেরকে দিলেন কিন্তু সেই সকল বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈশাখী আগেই বৈশাখীভাতা উত্তোলন করতে পারলেন না।

এটা লজ্জাজনক বিষয় এটা আপনাকে অতি হাই পূর্ণ করেছেন আপনি এটা সুনির্দিষ্ট সময় বেতন-ভাতাদি না পৌঁছানোর জন্য আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আপনি এর সুব্যবস্থা নিবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।

অনেক সময় দেখা গেছে ২ অথবা ৩ মাস পরো আমার শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের হাতে বেতন পায় তাহলে একজন শিক্ষক কর্মচারী কিভাবে তাদের পরিবারের বাবা মা ভাই বোন ছেলে মেয়েদের নিয়ে চলবে আর সেইসঙ্গে রোগব্যাধি বা ডাক্তার চিকিৎসা খরচ আছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী আমার শিক্ষকরা যা একটু টিউশনি করে তাদের জীবন যাপন ছিল সেটাও বন্ধ করে দিল তাহলে কি অবলম্বন নিয়ে আমার শিক্ষক সমাজ শিক্ষক সমাজে বেঁচে আছে আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রামের একজন শিক্ষক তার ছেলে মেয়েদেরকে একটা ভালো স্কুলে পড়াতে পারে না শুধুমাত্র অর্থের অভাবে কারণ সেই শিক্ষক যেটুকু বেতন পায় তার পরিবার নিয়ে চলতে হয় তাই সে কখনো ভালো স্কুলে পড়াতে বা কলেজে পারে না, তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমি আবারও বলছি আপনি সকল শিক্ষা ব্যবস্থায় একযোগে জাতীয়করণ ঘোষণা করে সকল ভেদাভেদ ভুলে গরিব রিকশাচালক, কামার-কুমার ,দিনমজুরি, সকল ছেলে মেয়ে এক কাতারে একই প্রতিষ্ঠানে আপনার সরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ে শেষ সুযোগটুকু আপনি করে দিবেন।

এই সোনার বাংলাদেশের ইতিহাস গড়ে তুলুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনার কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি আপনার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এই সোনার বাংলাদেশের নির্দিষ্ট টাইমে তাদের বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে পারে তাহলে কেন আমার বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা সুনির্দিষ্ট টাইমে নির্দিষ্ট সময়ে তাদের বেতন ভাতাদি উত্তোলন করতে পারবে না, তাই আপনি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসের প্রথম সপ্তাহে বেতন ভাতাদি প্রদান করার সুব্যবস্থা করুন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যাতে করে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরাদের সামান্য সম্মানের বেতন-ভাতা টুকু যাতে করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা মাসের প্রথম ১ অথবা ২ তারিখের নির্দৃষ্ট সময় এর ভিতরে তাদের বেতন-ভাতাদি উত্তোলন করতে পারে সেজন্য আপনার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় শেখ হাসিনা।

মো. কামরুল খান

কেন্দ্র কমিটি

অতিরিক্ত মহাসচিব

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close