ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:২৫

প্রিন্ট

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি ১০টা হতে ৩টা!

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি ১০টা হতে ৩টা!
প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্ক

শিক্ষার মূলভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। যদিও শিশুরা অ আ, ১ ২, ক খ পরিবারেই শিখে, সেটার মূল ভিত্তি মজবুত করা হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বারবার মানসম্মত শিক্ষার কথা বলছেন কিন্তু মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরীতে অপারগ। দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমাদের আমলারা শুধু পরিপত্র ধরিয়ে দেন অথচ সেই পরিপত্র বাস্তবায়ন করতে যা প্রয়োজন তা কখনো চিন্তা করেন না। প্রাথমিক শিক্ষা তখনই মানসম্মত হবে যখন শিশুরা শিক্ষার সঠিক সময় ও পরিবেশ পাবে।

অথচ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেটা পাচ্ছে না। যদি সঠিক সময় ও পরিবেশ পায়, তখনই মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০শতাংশ নারী শিক্ষক। একজন নারী একাধারে মা, অভিভাবক এবং স্ত্রী। সেই নারী সকালের গৃহস্থালির কাজ করে সকাল ৯ টার আগে বিদ্যালয়ে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টের। তাছাড়া কোমলমতি শিশুরা দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকায় খেলাধুলা ও অন্যান্য বিনোদনের সুযোগ পায় না। খেলাধুলা না করলে মন একঘেয়েমি হয়ে যায়। ফলে লেখাপড়ায় আগ্রহ আসে না।

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর ২০২০ সালের বাৎসরিক ছুটির তালিকা ও সময়সূচি প্রকাশ করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশাটি সম্মানের হলেও পাহাড় সমান বৈষম্য বিরাজমান। বেতন বৈষম্যের যাতাকলে শিক্ষকরা অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অথচ বেতন বৈষম্য দূর হয় না।

২০২০ সালের বাৎসরিক ছুটি আগের চেয়ে ১০দিন বাড়িয়ে ৮৫দিন করা হয়েছে। এজন্য প্রাথমিক শিক্ষক পরিবার অত্যন্ত খুশি। কিন্তু সময়সূচিতে বিমাতৃসুলভ আচরণ করা হয়েছে। এক শিফটের বিদ্যালয়ে সময়সূচি ৯টা হতে ৩ঃ১৫ অথচ দুই শিফটের বিদ্যালয়ে ৯টা হতে ৪টা পর্যন্ত করা হয়েছে; এ যেন সতীনের সংসার। পাশাপাশি দুটি বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র শিফট আলাদা থাকায় সময়সূচি ৪৫মিনিট কমবেশি হয়েছে যা কাম্য নয়। উভয় শিফটের বিদ্যালয়ে এক ও অভিন্ন সময়সূচি প্রকাশ করতে হবে।

আমাদের উচ্চমহল সজাগ দৃষ্টি না দিলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা মুখ থুবড়ে পড়বে। সময়সূচি ১০টা হতে ৩টা করলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের মঙ্গল হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

মুন্নাফ হোসেন

সহকারী শিক্ষক,

মমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত