ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:৩১

প্রিন্ট

শিক্ষায় বৈষম্য আর কতকাল?

শিক্ষায় বৈষম্য আর কতকাল?
প্রতীকী ছবি
অনলাইন ডেস্ক

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। এমনকি বৈষম্যহীন শিক্ষা সংবিধানের অঙ্গীকার। অথচ আজ শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয় নিয়ে আমাদের দেশে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষণীয়। একই দেশে এমপিওভুক্ত, ননএমপিওভুক্ত এবং সরকারি শিক্ষাব্যবস্থ্যা পরিচালিত হচ্ছে। যা শিক্ষাক্ষেত্রে এটি কখনো কাম্য হতে পারে না।

দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চতুর্থ বিপ্লবের প্রয়োজন পূরণ ও ২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন সব চাইতে জরুরি। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো ও শিক্ষায় সকল প্রকার বৈষম্য দূর করতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই দিনে শিক্ষার্থীদের তৈরি করতে শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থ্যা করতে হবে।

একজন আদর্শ মানুষ গড়তে আদর্শ শিক্ষকের কোন বিকল্প নেই। আর শিক্ষকরাই মোমবাতির মতো নিজে পুড়ে অন্যকে শিক্ষার আলো দান করে। সেই শিক্ষা মানুষের দায়িত্ববোধকে জাগ্রত করে। তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ, সকর্ম করে তুলে মানুষের মধ্যে ঘুমন্ত মানবতাকে জাগ্রত করে। আর পেশাগত দায়িত্ববোধ, মেধা, প্রজ্ঞা, ও জ্ঞান দক্ষতায় পরিপূর্ণ শিক্ষক হচ্ছে দেশ ও জাতির অনন্য মানবসম্পদ। আর এই মানবসম্পদ দেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থ্যা একান্ত জরুরি।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মার্কেল শিক্ষকদের বেতন যখন সর্বোচ্চ করে দিলেন তখন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার সহ বিভিন্ন পেশাজীবী মহল এর কারণ জানতে চাইলো। তখন ভদ্রমহিলা হাসিমুখে বললেন, আমরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রাষ্ট্রনায়ক কিংবা সমাজের বৃহৎ পেশায় নিয়োজিত, কিন্তু যাদের হাতে আমাদের বিদ্যার্জনের হাতেখড়ি তাদের কিভাবে আমাদের থেকে কম পারিশ্রমিক দিতে পারি। অথচ আমাদের দেশের অব্যবস্থাপনা আর বৈষম্যই যেন শিক্ষার প্রবাহ!

হাওড়ে নেই হাওড় ভাতা, পাহাড়ে নেই পাহাড়ি ভাতা, নেই পদোন্নতি, নেই পেনশন সুবিধা, নেই সন্তানের শিক্ষা ভাতা; অথচ নিয়োগ প্রদানে মুখ্য ভূমিকায় সরকার।আবার বেতন থেকে অতিরিক্ত চার (০৪) % কর্তন যা শিক্ষক সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বদলির মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে, যা শিক্ষায় বিরাট অস্থিরতার ক্ষেত্র তৈরি করছে।

পরিশেষে, বলবো বঙ্গবন্ধুর মধ্যম আয়ের দেশে ৯৭% বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থ্যা জাতির জনকের জন্য অসম্মানজনক বলেই মনে করেন আপামর জনসাধারণ ও শিক্ষক সমাজ। তাই বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকারের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট বিনীত অনুরোধ, মুজিববর্ষের সম্মানে সকল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ঘোষণা করবেন বলে প্রত্যাশা করেন দেশের পাঁচ (৫) লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক।

লেখক ও শিক্ষক, মো. আজাদ (গণসংযোগ বিষয়ক সচিব), বাশিস (কেন্দ্রীয় কমিটি) নজরুল।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত