ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৫৩

প্রিন্ট

সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি স্ত্রীর

সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি স্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবাদ প্রকাশের জেরে নারায়ণগঞ্জে বন্দর উপজেলার জিওধরা গ্রামে স্থানীয় সাংবাদিক ইলিয়াসকে হত্যার পর মামলাকে ভিন্ন খাতে নিতে চেষ্টা করছে স্থানীয় প্রভাশালী চক্র। এই অবস্থায় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যার ন্যায় বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্ত্রী জুলেখা বেগম।

রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে জুলেখা বেগম তার দাবি নিয়ে হাজির হন।

লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার স্বামী ইলিয়াস হোসেন দৈনিক স্বদেশ আমার পত্রিকার বন্দর প্রতিনিধি ছিলেন। এর আগে তিনি স্থানীয় বিজয় পত্রিকাতে বন্দর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একসময় সৌদিপ্রবাসী ও পরে এলাকায় ফিরে মাদকের কারবারি ও চোরাই গ্যাস সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারী মাসুদ প্রধান ও তার ভাইয়ের মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ ছিল।

স্থানীয়দের অনুরোধে প্রায় ৩ মাস আগে মাসুদ প্রধান গংদের চোরাই গ্যাস সিন্ডিকেট ও মাদক কারবার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লেখেন। প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মাসুদ ও তার সহযোগীরা আমার স্বামীকে হুমকি ধামকি এবং টর্চার সেলে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে। বিষয়টি পত্রিকার সম্পাদক মো. সেন্টুকে জানালে তিনি মীমাংসার আশ্বাস দেন এবং থানায় জিডি বা মামলা করা থেকে বিরত রাখেন।

সেন্টু কৌশলে মাসুদের কাছ থেকে কিছু আর্থিক সুবিধা নিয়ে তার পক্ষ নিয়ে কাজ করে। গত ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইলিয়াস জিওধরা বাজার থেকে রুস্তপুরগামী রাস্তার প্রবেশমুখ দিয়ে বাসা ফেরার সময় মাসুদের লোকজন তার ওপর হামলা করে। তারা সাংবাদিক ইলিয়াসকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে লোকজন এগিয়ে এসে ইলিয়াসকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় আমি স্থানীয় মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী আদমদপুরের জামালের ছেলে তুষার (২৮) ও হাসনাত আহমেদ তুর্জয়, জিওধরার নূরুল মিয়ার ছেলে মাসুদ (৩৬), আবদুল বাতেনের ছেলে সাগর (২৬), ফালানের ছেলে পাভেল (২৫), হামিদ মিয়ার ছেলে হযরত আলী (৫০), মিছির আলী (৫৩) ও মিনা (৬০)-সহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করি।

মামলার পর স্থানীয় একটি চক্র মূল আসামিদের বাঁচাতে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছে। তারা পুলিশকেও বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে আমার আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলছে। মাদক কারবারিদের বাঁচাতে নানামুখী তৎপরতার কারণে হত্যা মামলাটির সঠিক তদন্ত নিয়ে আমাদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাদেরই আত্মীয়-স্বজনকে এই মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসএস/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত