ঢাকা, রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : ৯ মিনিট আগে

বাধা পেরিয়ে এগোচ্ছে নারী

  নিফাত সুলতানা মৃধা

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২১, ২৩:১৪  
আপডেট :
 ০৭ এপ্রিল ২০২১, ২৩:২৬

বাধা পেরিয়ে এগোচ্ছে নারী
বাধা পেরিয়ে এগোচ্ছে নারী। ছবি সংগৃহীত।
নিফাত সুলতানা মৃধা

শিকল ভাঙার অদম্য আকাঙ্ক্ষায় মরণজয়ী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালি জাতি। পঞ্জিকার হিসাবে স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পার করেছে বাংলাদেশ। সবুজের জমিনে রক্তিম সূর্যখচিত মানচিত্রের এদেশ সুবর্ণজয়ন্তী টপকিয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

পঞ্চাশ বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ। আর এই অগ্রযাত্রায় নারীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অধিকারও সুসংগঠিত হয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, স্পিকার, সংসদ সদস্য, শিক্ষামন্ত্রীসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদেই নারীরা আসীন।

সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নারীরা আজ শুধু রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নেই, নারীরা পৌঁছে গেছেন বিমানের ককপিট থেকে পর্বতশৃঙ্গে। দশভুজা নারী ঘরে-বাইরে নিজেকে আলোকিত করছেন নিজ প্রজ্ঞা আর মেধা দিয়ে।

নারী আগের মতো এখন ঘরকুনো নয়। তারা ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করছে। সফল হচ্ছে। সব বয়সী নারীরা কাজ করে নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলছে। নিজের দায়িত্ব,পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তোলার যোগ্যতা অর্জন করছে।

নারীর অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও বর্তমান-ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক।

তিনি বলেন, নারীর অগ্রসর হলেও সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমরা পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় বসবাস করি। এতোটা পথ পেরিয়েও এমনটা কাম্য না। সবকিছুর উন্নয়ন এবং অগ্রসর হওয়ার পরেও সেকেলে মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। এটার জন্য,শুধু রাষ্ট্র দায়ী নয়। এখানে পরিবার, সমাজ তথা প্রত্যেকটা মানুষই এটার সাথে সম্পৃক্ত। শিগগিরি এসবের খুব দ্রুত পরিবর্তন আশা করি বলেও জানান তিনি।

ক’দিন আগে ইতিহাস ভেঙে দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার নারী খবর পড়লো একটি প্রথম সারির টেলিভিশন চ্যানেলে। তাসনুভা আনান শিশিরের এ খবর পড়া নারীর অগ্রগতিকে প্রশংসা জানিয়ে তানিয়া হক বলেন, শিশির নিজ অবস্থান তৈরি করে সমাজের মানুষের কাছে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ নিয়ে একটি প্রশ্ন রেখে গেছেন। ট্রান্সজেন্ডার কারা এটা আমাদের সবার জন্য প্রশ্ন। আমরা নিজেরাই নিজেরদের প্রথম সারি, দ্বিতীয় সারি, তৃতীয় সারিতে স্থান দিচ্ছি।

এই যে সামাজিক চিন্তাবোধ এগুলো তো ঠিক না। এটা বৈষম্যের একটি অংশ। প্রতিটি মানুষের উচিত পিছিয়ে পড়া জাতির জন্য, সে জাতি নারী-পুরুষ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাই হোক না কেন! তাদেরকে সাথে নিয়ে হাঁটার মানসিকতা তৈরি করা। যারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী তাদের জন্য শুধু সহায়তার হাত, সহানুভূতির হাত না, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মানে হাত বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বিশাল গর্বের জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের কোন আনন্দের খবর, উন্নয়নের খবর আমার সর্বোচ্চ পাওয়ার জায়গা। শুধু দেশের প্রতি প্রেম না নিজের প্রতি যদি নিজের মর্যাদাবোধ থাকে, যদি মূল্যবোধের জায়গাটা তৈরি করতে পারি তাহলেই দেশ আরও এগিয়ে যাবে।

করোনায় নারীর গতিপথ বাধা হয়েছে জানিয়ে ঢাবির এই শিক্ষিকা বলেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এমন একটি জায়গা তৈরি করেছে যে বাঁচা-মরার মধ্যেই দাঁড়িয়ে আমরা। যতটা অগ্রগতির কথা সেখান থেকে পিছিয়ে পড়েছে নারীরা। স্বপ্ন দেখতে ভুলে যাচ্ছে।

এছাড়া করোনায় শিক্ষাখাতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা থমকে গেছে। এছাড়া করোনাকালে গ্রামে বাল্যবিবাহ, মেয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া, ধর্ষণের মতো ঘটনা অনেক বেশি ঘটেছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন, গঠনমূলক জায়গাটা আরও মজবুত হওয়া দরকার।

এগুলো মোকাবেলা করতে সরকার যথেষ্ট কঠিন কঠিন পদক্ষেপ নিচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য, শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রচুর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানিয়ে অধ্যাপক ড. তানিয়া হক বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে আমরা যত বেশি বিনিয়োগ করতে পারবো দেশের ভবিষ্যৎ তত। বেশি উজ্জ্বল হবে, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত