ঢাকা, রোববার, ১৬ মে ২০২১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ০২ মে ২০২১, ১০:৫৪

প্রিন্ট

কেঁচো সারে তানিয়ার মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকা

কেঁচো সারে তানিয়ার মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকা
কেঁচো সার উৎপাদনে স্বাবলম্বী তানিয়া। সংগৃহীত ছবি

নারী ডেস্ক

ফরিদপুরে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই। ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন করে অন্যদের মতো তানিয়া পারভীনও হয়েছেন স্বাবলম্বী। জৈব এই সার মাটিকে তাজা করে, নেই কোনো ক্ষতিকর দিক, দামেও সস্তা। তাই কৃষকেরও পছন্দ এই সার। ফলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই সারের চাহিদা।

ফরিদপুর পৌর এলাকার শোভাররামপুর মহল্লার বাসিন্দা তানিয়া পারভীন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ২০১৭ সালে তিনি ৩টি রিং স্লাব দিয়ে শুরু করেন এ সারের উৎপাদন। ধীরে ধীরে সার উৎপাদনের পরিধি বাড়িয়েছেন। এখন রিং স্লাবে সীমাবদ্ধ নেই তানিয়া। বাড়ির উঠোনে বিশাল টিনের সেড ও আরেক পাশে ছাপড়ার নিচে তৈরি করেছেন ২৪টি হাউজ বা চৌবাচ্চা। প্রতিটি হাউজ ৪ ফুট বাই ১০ ফুট আকারের।

প্রতিটি হাউজে ৪০ মণ গোবর, শাকসবজির উচ্ছিষ্টাংশ ও কলাগাছের টুকরো মিশ্রণ করে প্রতিটি হাউজে ১০ কেজি কেঁচো ছেড়ে দেয়া হয়। তারপর চটের বস্তা দিয়ে হাউজ ঢেকে রাখা হয়। এভাবে এক মাস ঢেকে রাখার পর তৈরি হয় ভার্মি কম্পোস্ট সার। প্রতি মাসে তানিয়ার ২৪টি হাউজ থেকে এক থেকে দেড় টন সার উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতি কেজি সার খুচরা ১৫ টাকা ও পাইকারি ১২টা করে বিক্রি করা হয়। এতে খরচ বাদে প্রতি মাসে আয় হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

এদিকে তানিয়ার উৎপাদিত কেঁচো সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাষিরা এসে তানিয়া পারভীনের বাড়ি থেকে সার কিনে নিয়ে চাষাবাদ করছেন।

ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহারকারী চাষি জুয়েল মল্লিক বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট সার জমির উর্বরতা বাড়ায়, ফলনও বেশি হয়। এছাড়া দামও কম। আর রাসায়নিক সারের দাম ও ক্ষতিকারক বেশি। এজন্য আমরা এখন জৈব সার ভার্মি কম্পোস্ট সার তানিয়া পারভীনের থেকে কিনে জমিতে ব্যবহার করছি। ফলে অল্প খরচে অধিক লাভবান হচ্ছি।

উদ্যোক্তা তানিয়া পারভীন বলেন, এই সার বিক্রি করে আমার প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। সারের চাহিদা থাকায় দিন দিন উৎপাদন বাড়িয়েছি। এখন এলাকার অনেকেই আমার কাছ থেকে সার উৎপাদনের কৌশল রপ্ত করছেন। তারাও আগামীতে ভার্মি কম্পোস্ট সারা উৎপাদন করবেন। তবে এজন্য সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আবুল বাসার মিয়া বলেন, কেঁচো দিয়ে সার উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জেলার প্রায় ৩শ’ কৃষক এই সার উৎপাদন করছেন। বর্তমানে রাসায়নিক সারের অতি ব্যবহারে জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব এই সার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমেছে। মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত